Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

নীতি নয়, যেভাবে হোক জিততে হবে, সেই কারণেই বিমলের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহার করার পথে রাজ্য সরকার ?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

২০১৭ সালে তখন চরম হিংসা ছড়িয়েছে পাহাড়ে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে জ্বলছে পাহাড়। দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পংসহ বিস্তীর্ণ পাহাড় জুড়ে শুধু হিংসার আগুন জ্বলছে। নেতৃত্বে ছিলেন বিমল গুরুং, এমনটাই অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে হিংসা থামাতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল রাজ্য পুলিশের কর্মী অমিতাভ মালিকের। তাঁর স্ত্রীর কান্নায় ভেঙে পড়ার দৃশ্য গোটা রাজ্যবাসী দেখেছে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে। সোচ্চার হয়ে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই পরিবারের পাশে দাঁড়ায় রাজ্য প্রশাসন। চাকরি পান নিহতের স্ত্রী। এরপর প্রায় সাড়ে তিন বছর অতিক্রান্ত। সেদিনের ঘটনা হঠাৎ করেই ভুলে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভুলে গিয়েছেন, নাকি ভুলতে বাধ্য হয়েছেন, এ প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।

কারণ শনিবার রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে খবর। বিমল গুরুং এর বিরুদ্ধে থাকা ৭০টি মামলা রাজ্য প্রশাসন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধুমাত্র ইউএপিএ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও খুনের মামলা বাদ দিয়ে যাবতীয় মামলা প্রত্যাহার করার পথে রাজ্য প্রশাসন। কারণ একটাই, নির্বাচনে জিততে হবে। তাই যাবতীয় রীতি-নীতি, মানবিকতাবোধ প্রভৃতিকে বিসর্জন দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করছেন বিরোধীরা। গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। সমতল থেকে পাহাড়, গেরুয়া ঝড়ে দাঁত ফোটাতে পারেনি তৃণমূল। উত্তরবঙ্গে মোট ৫৪ টি আসন রয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বলছে বিধানসভা নির্বাচনে এই বিপুল সংখ্যক আসনে তৃণমূল একেবারেই সুবিধা করতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রী ভাল‌ করেই জানেন, উত্তরবঙ্গ থেকে মোটের ওপর ভাল ফল না করলে তৃতীয়বার সরকার গড়তে পারবেন না তিনি।

তাই শুধুমাত্র ভোটের জন্য, একেবারেই তাই, কারণ ভোট বড় বালাই, শুধুমাত্র সেই লক্ষ্যেই রীতিনীতি,প্রতিশ্রুতি, নিয়মনীতি ইত্যাদি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বিমল গুরুংকে পুজোর পরেই তৃণমূলের পাশে থাকার জন্য বরণ করে নিয়েছেন দলনেত্রী। বিমল সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিধানসভা নির্বাচনে তিনি তৃণমূলের পক্ষেই থাকবেন। মাস দেড়েক আগে তিনি উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের সমর্থনে জনসভা পর্যন্ত করেছেন। আসলে পাহাড়ের পাশাপাশি সমতলের কয়েকটি জায়গায় বিমল গুরুংয়ের একটা “বেস” আছে সেটা সকলেই জানেন। শুধুমাত্র সেই কারণেই নির্লজ্জভাবে তৃণমূল বিমলকে পাশে নিয়ে নির্বাচনে নামছে। আর এটা পরিষ্কার, বিরোধীরা শনিবার যে অভিযোগ করেছে সেটাও অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে। বিমল তৃণমূলের পাশে থাকবেন, আর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অধিকাংশ মামলা প্রত্যাহার করে নেবে রাজ্য সরকার।

নিঃসন্দেহে এই “ডিল” তাঁদের মধ্যে হয়েছে বলে সরব বিরোধীরা। মজার কথা বিমলের বিরুদ্ধে এই মামলাগুলি করেছে তৃণমূল সরকার। তখন বিমল রাজনৈতিকভাবে বিজেপির পাশে ছিলেন। এখন তিনি তৃণমূলের পাশে। অর্থাৎ শিবির বদল করলেই রাতারাতি কালো ধুয়ে-মুছে সাদা হয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বিজেপিকে ওয়াশিং মেশিন বলে কটাক্ষ করেন। কিন্তু বিরোধীদের পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সবচাইতে বড় ওয়াশিং মেশিন। সেখানে গেলে সব পাপ ধুয়ে যায়। এমনটাই বলে থাকেন বিরোধীরা। অন্তত বিমল গুরুংয়ের বিষয়টি নিয়ে এই অভিযোগ অক্ষরে অক্ষরে মিলে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি তৃণমূলের কাছ থেকে। সাংবাদিক সম্মেলনে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি তৃণমূলের রোজকার চেনা মুখগুলির কাছ থেকে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে, শুধুমাত্র ভোটে জেতার জন্য এক নজিরবিহীন ও বিরোধীদের কথায় এক নির্লজ্জ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মমতা প্রশাসন।