Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

সব স্লোগানকে ফিকে করে দিচ্ছে “পরিবর্তনের পরিবর্তন চাই”স্লোগান !

1 min read

।। শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত ।।


পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন দরজায় করা নাড়ছে। আর যতই ভোট আগিয়ে আসছে ততই রাজ্যে রাজনৈতিক বিবাদ বাড়ছে। ভোট আসলে রাজনৈতিক বিবাদ বাড়বে তাতে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই।তার ওপর এবারের রাজ্য রাজনীতি একটা সন্ধিক্ষণে এসে পৌঁছেছে। পাড়ার মোর, চায়ের দোকানে, বাসে, ট্রেনে আলোচনা হচ্ছে বিজেপিই এবার আসছে। প্রচারের পারদ বিজেপি যে ভাবে বাড়াচ্ছে সেটা রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলও পারে নি। বাদবাকি দল তো দূরের কথা। রোজই রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ বাড়ছে। বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতারা আসছেন। রাজ্যের শাসক দলের ত্রুটি তুলে ধরে বক্তব্য রাখছেন। তৃণমূল আবার এদের বহিরাগত বলে অভিযোগ করছেন। এরই মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনা তৃণমূল দলে ভাঙ্গন।শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর সঙ্গে একদল তৃণমূল নেতা বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় তৃণমূলের অবস্থা এবার সঙ্গিন হয়েছে।শুভেন্দুর আক্রমণের মূল লক্ষ্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল প্রতি আক্রমণে সমান সক্রিয়।তবে যে দল ভাঙানোর কাজ রাজ্যে তৃণমূল শুরু করেছিল এবার সেই দল ভাঙানোর মুখে তৃণমূল নিজেই পড়েছে।ফলে বিজেপি-র শক্তি বৃদ্ধি হচ্ছে । কেননা তৃণমূল ছেড়ে সবাই বিজেপি মুখী হয়েছেন। আর এর ফলেই ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে যে পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি এবার বিজেপির শক্তি বৃদ্ধিতে রাজ্যের শাসক দলকে সেই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। বিজেপি ক্রমেই নানান ইস্যুতে তৃণমূলের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে। এর মধ্যে দুর্নীতির বিষয়টাই প্রধান। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বিভিন্ন সভায় বলছেন এটা একটা রাজনৈতিক দল নয় টিএমসি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। চাল চোর, কয়লা চোরের সরকার। এরা আম্ফান-এর ত্রাণের টাকা চুরি করে। এরা রেশনের চাল চুরি করে। এই সরকারকে সাবান, ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধুয়ে মুছে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে রাজ্যের মানুষ। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে, পুলিশ থাকবে বুথের থেকে অনেক দূরে। মানুষ ভোট দিতে পারবেন।

আরো পড়ুন : “কৃষক বন্ধু” !সব রাজনৈতিক দলই কৃষক বন্ধু, তবে তো কৃষকদের চিন্তার কারণ নেই!

পুলিশ বাড়াবাড়ি করলে তাদের দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার হুমকিও দিচ্ছেন দিলীপ ঘোষ। এদিকে দিলীপ ঘোষের এহেন মন্তব্যের উত্তরে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলছেন, দিলীপ ঘোষ এমন ভাবে কথা বলছেন মনে হচ্ছে নির্বাচনটা তিনিই পরিচালনা করবেন। ওনার জানা উচিত নির্বাচন কমিশন বলে একটা সংস্থা আছে। তারাই বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনা করবে। বিজেপি প্রতিটা বুথে এজেন্ট দিতে পারবে তো? ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের স্লোগানে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল তখন। এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের মূল শ্লোগান ছিল ‘পরিবর্তন’। এই পরিবর্তনের অর্থ ছিল রাজ্যের ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের পরিবর্তন। তা সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার পরবর্তী পাঁচ বছরের শাসনে প্রধানত রাজ্যের নগরাঞ্চলের অধিবাসীদের অনেকে সরকারের আনা পরিবর্তনগুলি নিয়ে বহুলাংশে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

তাছাড়া কেউ কেউ বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) শুধু সংখ্যালঘু মুসলমান জনগোষ্ঠীর ভোট একত্রিত করতে চাইছেন। তাই তাদের তোষণ করে চলেছেন। তার পর ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনেও ভালো ভাবেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল। তবে ২০১১ থেকে দল ভাঙানোর খেলা শুরু করেছিল তৃণমূল। কংগ্রেস এমন কী বাম দলও ভাঙিয়েছে তৃণমূল।এবার ২০২১ -এর রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে এই পরিবর্তনের পরিবর্তন-এর আওয়াজ উঠেছে। নতুন করে এই পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে বিজেপি। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন পাওয়ার পর এই আওয়াজ শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে আরও প্রবল ভাবে তুলেছে বিজেপি। তাই ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ রোজই একটু একটু করে বাড়ছে। ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার ২৯৪টি আসনে বিধানসভা নির্বাচন আয়োজিত হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস এই নির্বাচনে পুনঃনির্বাচিত হয়।

১৯৬২ সালের পর এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক দল জোট না করে একক শক্তিতে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনও ছয় দফায় আয়োজিত হয়েছিল। প্রথম দফাটি ৪ এপ্রিল ও ১১ এপ্রিল তারিখে রাজ্যের নকশালবাদী-মাওবাদী প্রভাবিত রেড করিডোর এলাকায় আয়োজিত হয়। পরবর্তী দফায় নির্বাচন হয় ১৭ এপ্রিল, ২১ এপ্রিল, ২৫ এপ্রিল, ৩০ এপ্রিল ও ৫ মে তারিখে। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিশোধিত ভোটার তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ ভোটার-জনসংখ্যা অনুপাতে সারা দেশকে পিছনে ফেলে দিয়েছিল। এই অনুপাত ছিল ০.৬৮। সর্বশেষ তালিকা অনুসারে রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৬.৫৫ কোটি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিলেন ৩.৩৯ কোটি ও মহিলা ভোটার ছিলেন ৩.১৬ কোটি।

ভোটার-জনসংখ্যার এই অনুপাত বৃদ্ধি পশ্চিমবঙ্গকে তামিলনাড়ু রাজ্যের ঠিক আগে প্রথম স্থানে রেখেছিল।সেবার বাম ও বিজেপি ভুতুড়ে ভোটারের অভিযোগ তুলেছিল। এবার একই ভাবে ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে ভুতুড়ে ভোটার তালিকায় আছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি, কংগ্রেস ও বামেরা। বিজেপি নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে। বিজেপি যদি এবার একক ক্ষমতায় রাজ্যে সরকার গড়তে পারে তা হলে ২০১৬-র পর বিজেপিই হবে সেই দল যারা আবারও রাজ্যে একক শক্তিতে সরকার গড়ল। তবে এর জন্য এখনও অপেক্ষা করতে হবে। এখন জানুয়ারী মাস। এপ্রিলে বিধানসভা নির্বাচন হলে এখনও আরও সাড়ে তিন থেকে চার মাস বাকি। ততদিনে রাজ্য রাজনীতিতে আরও অনেক পরিবর্তন আসবে বলে বিজেপি-র দাবি। আর তৃণমূলের বক্তব্য তারা ২১১- টির বেশি আসন নিয়ে রাজ্যের ক্ষমতায় আসছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবার হ্যাটট্রিক করবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে।