চট্টগ্রামের রাস্তায় কোরবানির পশুর চামড়া

1 min read

।। চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ।।

চট্টগ্রামে এবারও নষ্ট হলো কোরবানির পশুর চামড়া। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় রাস্তায় শত শত চামড়া ফেলে গেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। নগরীর আতুড়ার ডিপো এলাকায় আড়তদারদের কাছে বার বার ধর্ণা দিয়েও সংগৃহীত চামড়া বিক্রি করতে পারেনি তারা। শনিবার রাত থেকে আড়তের সামনে চামড়া নিয়ে বসে থাকলেও কেনেন নি।

বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিটি চামড়া গড়ে দেড়শ টাকা করে কিনলেও আড়তদাররা এসব চামড়া এখন দশটাকা করেও কিনতে রাজি নয়। এ অবস্থায় নগরীর আতুরা ডিপো,দেওয়ান হাটসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কেই চামড়া ফেলে রেখে যাচ্ছে অনেকে। ধার-দেনা করে অল্প লাভের আশায় চামড়া সংগ্রহ করে পরিবহন ব্যয় ও শ্রমিকের মজুরীও তুলতে না পেরে এখন চোখে অন্ধকার দেখছে তারা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ হাজার চামড়া রাস্তায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পেয়েছেন তারা। এর মধ্যে কিছু চামড়া পরিচ্ছন্ন কর্মীরা তুলে আবর্জনাগারে ফেলেছেন।

এর বাইরে কিছু চামড়া একটি ট্যানারির কর্মকর্তারা এসে নিয়ে গেছেন। তবে দাম পাননি উপজেলা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে নিয়ে আসা সেই বিক্রেতারা।

আড়তদাররা বলেছেন,অনেকেই নিয়মমতো সংরক্ষণ করতে পারেনি। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় চামড়ার মান নষ্ট হয়ে গেছে, তাই এসব চামড়া আর কেনা সম্ভব না। ফলে এসব চামড়া রাস্তায় ফেলে রাখেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।আর এভাবে প্রতিবছর চামড়ার বাজারে নৈরাজ্যের জন্য পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করছেন তারা।

আড়তদাররা আরও জানান, গত কয়েকবছর ধরে ট্যানারি মালিকরা তাদের পাওনা পরিশোধ না করায় এবার অনেকে চামড়া সংগ্রহ করছে না। তারপরও চট্টগ্রাম অঞ্চলে পৌনে চার লাখের মতো চামড়া ইতোমধ্যে সংগৃহিত হয়েছে বলে জানান তারা।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, তারা চামড়া ক্রয় করেছেন। কী পরিমান চামড়া ক্রয় করা হয়েছে তা জানতে কয়েকদিন সময় লাগবে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার চামড়া ক্রয়ের পরিমাণ কম হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, বিভিন্ন আড়তের সামনে পড়ে থাকা প্রায় তিন হাজার চামড়া সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়িতে তুলে ময়লার ভাগাড়ে ফেলা হয়।পরিবেশ দূষিত হওয়ার আগেই এসব চামড়া অপসারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন বলেন, অন্তত ১৫ হাজার চামড়া নষ্ট হয়েছে রোববার পর্যন্ত। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ১০ হাজার নষ্ট চামড়া ডাম্পিংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাস্তায় আরও পাঁচ হাজার মতো নষ্ট চামড়া পড়ে আছে। আমরা এসব নষ্ট চামড়া অপসারণ করে ডাম্পিংয়ে ফেলছি।

কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন বলেন, ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে এসে সিন্ডিকেট ও আড়তদারদের নিকট জিম্মি হয়ে শেষ পর্যন্ত লোকসানে বিক্রি করতে চেয়েও পারেননি। ছাগলের চামড়া ১-২ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। শেষে অনেক চামড়া ব্যবসায়ী আড়তদারদের নিকট পরিবহন খরচ বদৌলতে চামড়া হস্তান্তর করতে চাইলেও অনেক আড়তদার চামড়া নেননি।