বিদ্রোহ শুধুমাত্র নেতা স্তরেই নয়, এবারে তৃণমূলে বিদ্রোহের আগুন জ্বললো কর্মী স্তরেও

।। ময়ুখ বসু ।।

বিদ্রোহ শুধুমাত্র নেতা স্তরেই নয়, এবারে তৃণমূলে বিদ্রোহের আগুন জ্বললো কর্মী স্তরেও। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের দলীয় কর্মীদের মধ্যে বিক্ষোভের আগুন এখন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। দলে পুরনো কর্মীদের আমল দেওয়া হচ্ছে না। দলের নেতারা সিপিএম থেকে আসা নব্য তৃণমূলীদের বড়ো জায়গা করে দিচ্ছেন। দলের আদি কর্মীদের প্রতি নেতৃত্বের উদাসীনতা। সহ একগুচ্ছ অভাব অভিযোগ নিয়ে এবার খোদ কলকাতায় পথে নামলেন তৃণমূলের কর্মীরা।

শনিবার কলকাতার খোদ তৃণমূল ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এযাবতকালের মধ্যে নজিরবিহীনভাবে কলকাতার বুকে খোদ দলের কর্মীদের বিক্ষোভ দেখা যায়নি। কর্মীরা সাফ দাবি জানান, তারা ক্ষোভের কথা সরাসরি তৃণমূল নেত্রী ছাড়া আর কাউকেই বলবেন না। এরপর বিক্ষোভ সামাল দিতে ময়দানে নামতে হয় স্বয়ং সুব্রত বক্সিকে। এমনকি তাঁর কাছে থেকে বিদ্রোহী কর্মীরা আশ্বাস আদায় করে নেন, এক সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে।

আরো পড়ুন : বিজেপির দিলীপ ঘোষ থাকলে তৃণমূলের আছে অনুব্রত, ২০২১ হবে জমজমাট

এই ঘটনাই প্রমান করে দিচ্ছে, তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন ঠিক কতোটা ছড়িয়েছে। কতোটা মরিয়া হয়ে উঠলে তবে কর্মীরা খোদ কলকাতার তৃণমূল ভবনের সামনে এসে বিক্ষোভ দেখাতে পারেন। রাজনীতি বিদরা মনে করছেন, তৃণমূলের নীচু তলায় এই বিদ্রোহ একদিনে জন্ম নেয়নি। জেলা স্তরে এই বিদ্রোহের স্ফুলিংগ গত দুই বছরেরও বেশী সময় ধরে দেখা দিয়েছিলো। কিন্ত আমল দিতে চায়নি তৃণমূল নেতৃত্ব। এবারে সেই স্ফুলিংগ যখন বিধ্বংসী আকার নিতে চলেছে তখন হয়তো টনক নড়ছে শীর্ষ নেতৃত্বের।

ভোটের আগে একদিকে দলের সাংসদ, বিধায়ক এবং নেতা নেত্রীদের ভাঙ্গনের ইঙ্গিত, অন্যদিকে দলের নীচুস্তরে বিদ্রোহের আগুন। কোনটা সামাল দেবে তৃণমূল। এদিকে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের ২৯৪ টি আসনের জন্য ৬০০ টি জনসভার ছক তৈরি করে চলতি সপ্তাহ থেকেই ময়দানে নামতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে দলের নীচুস্তরে এই বিদ্রোহ তাকে কতোটা স্বস্তি দেবে না উদ্বেগে রাখবে তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা বাড়ছে রাজনৈতিক মহলের মধ্যেই। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কি পন্থা অবলম্বন করে আর তৃণমূলের ভোট কৌশলী পিকেই বা কি স্ট্র্যাটেজি নেয় সেটাই এখন দেখার।

Categories