শিলিগুড়ির লালদুর্গ থাকতে পারে অটুট

।। ময়ুখ বসু ।।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের হাওয়া এখন রাজ্যজুড়ে বইতে শুরু করেছে। শাসক বিরোধীদের লড়াইয়ে এখন রাজ্য রাজনীতি জমজমাট। রাজ্যের কোন কোন বিধানসভায় কোন রাজনৈতিক দলের হাওয়া কেমন তা জানতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের এখন রাতের ঘুম ছুটেছে। রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভার দিকে নজর রয়েছে আমাদেরও। রাজ্যের কোন বিধানসভা কেন্দ্রের পরিস্থিতি কেমন তার আগাম আভাস নিয়েই আমাদের এই প্রতিবেদন।

আমাদের আজকের বিধানসভা কেন্দ্রে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জেলার অন্যতম বিধানসভা কেন্দ্র এটি। ১৯৫১, ১৯৬২, ১৯৬৭, ১৯৭১, ১৯৭২ সালে এই কেন্দ্রের দখল নেয় কংগ্রেস। ১৯৬৯ সালে এই কেন্দ্রের রাশ নিজেদের হাতে নেয় অখিল ভারতীয় গোর্খা লীগ। ১৯৫৭, ১৯৭৭, ১৯৮২, ১৯৮৭, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৬, ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রের দখল নেয় সিপিএম। মধ্যে ২০১১ সালে এই কেন্দ্রের দখল নেয় তৃণমূল কংগ্রেস।

মূলত পরিসংখ্যান মতে, এই কেন্দ্রটি দীর্ঘদিনের সিপিএমের ঘাঁটি হিসাবেই পরিচিত। ২০১১ সালে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য ৭২ হাজার ১৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি পেয়েছিলেন ৪৮,৭ শতাংশ ভোট। ওই সময় সিপিএমের অশোক নারায়ন ভট্টাচার্য পেয়েছিলেন ৬৭ হাজার ১৩ ভোট। যা ছিলো ৪৪,৭৩ শতাংশ ভোট। বিজেপির অরুন প্রসাদ সরকার পান ৬ হাজার ৬৯ টি ভোট। তিনি তৃতীয় স্থান দখল করেছিলেন ৪,৫ শতাংশ ভোট পেয়ে। এরপর ২০১৬ সালে এসে এই কেন্দ্রে সিপিএমের অশোক ভট্টাচার্য ৭৮ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়ে যান।

তিনি পান ৪৬,৩৬ শতাংশ ভোট। তৃণমূলের বাইচুং ভুটিয়া পান ৬৩ হাজার ৯৮২ টি ভোট। তিনি দ্বিতীয় স্থান দখল করেন ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে। সেই সময় বিজেপির গীতা চ্যাটার্জি তৃতীয় স্থান দখল করেন ১৯ হাজার ৩০০ ভোট পেয়ে। তিনি পেয়েছিলেন ১১,৪৬ শতাংশ ভোট। মূলত বিজেপির শক্তি বেড়েছে শাসক দল এবং সিপিএমের ঘর ভেঙ্গেই। তবে এই শিলিগুড়ি কেন্দ্রে সিপিএম তাদের সাংগাঠনিক শক্তির জেরে সংগঠনের রাশ অনেকটাই শক্তহাতে ধরে রেখেছে।

আরো পড়ুন : লাভপুরের লাল মাটির ঘাসবনে মাথা তুলছে পদ্ম

সেইসঙ্গে শিলিগুড়ি পুরসভা বামেরা দখল রাখার সুবাদে এখানকার উন্নয়নের কাজে অনেকটাই মানুষের কাছে যাওয়ার সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে তারা। অপরদিকে, শাসক দল, এখানে সংগঠনের শক্তি বাড়ালেও সিপিএমের অশোক ভট্টাচার্য্যের মতো ডাকাবুকো নেতার অভাব রয়েছে তাদের। আর যার ফলে এই কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থানে শাসক শিবিরের গোষ্ঠীকোন্দল, নানা ধরনের দুর্নীতি সামনে উঁকি দিচ্ছে।

ফলে একদিকে যেমন সংগঠনের রাশা আলগা হচ্ছে, তেমনি রাজ্যব্যাপী শাসক বিরোধী হাওয়ায় ভেসে যে নানা অভিযোগের ঘটনা সামনে আসছে সেই সমস্ত অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে পালটা আঙ্গুল তোলার মতো হেভিওয়েট তেমন নেতাকে এই কেন্দ্রে দেখা যায়নি। ফলে ক্ষয় রোগের মতো ক্ষমতার অলিন্দে থেকেঈ ক্রমশ যেন পিছিয়ে পড়ছে শাসক শিবির। তবে এখানে বামেদের মৌরসিপাট্টা বেশ মজবুত।

ফলে বামেদের সরাতে গেলে রাজ্যের শাসক দলকে এখন থেকেই কোমর বেঁধে রাজনৈতিক সুত্র ধরে ধরে এগোতে হবে। অন্যদিকে, এই কেন্দ্রে ধীরে ধীর বিজেপি যে তাদের শক্তি সঞ্চয় করছে একথা অস্বীকার করা যাবে না। তবে বাম শিবির বা শাসক শিবিরের একটা বড়ো অংশকে ভাঙ্গিয়ে আনতে না পারলে এই কেন্দ্রে বিজেপির সাফল্য ছিনিয়ে নেওয়া বেশ কষ্টসাধ্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

Categories