বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে সাংগঠনিক রদবদলের সম্ভাবনা তৃণমূলে

।। রাজীব ঘোষ ।।


সমস্ত জেলা সভাপতি এবং পর্যবেক্ষকদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহীদ দিবসের সমাবেশে বক্তৃতা তেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন বৃহস্পতিবার তিনি বৈঠক করবেন। এ দিনের বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনে বড় রকমের রদবদল করতে পারেন মমতা। বেশ কিছু জেলা সভাপতি বদল এর সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজ্য স্তরের সংগঠনের রদবদল হতে পারে। সূত্রের খবর লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের দলের খারাপ ফলাফল হয়েছে। সংগঠনের সেই পরিস্থিতি ঠিক করার চেষ্টা হলেও সেটা কার্যকরী হয়নি। ফলে বিভিন্ন জেলা সভাপতি বদল এর সম্ভাবনা রয়েছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয় হয়েছে। এখানেও সাংগঠনিক রদবদল করতে পারেন মমতা।

দীর্ঘদিন ধরে দলের মধ্যে আলোচনা চলছে মন্ত্রিসভা এবং সংগঠনটির দুই জায়গাতেই বড় দায়িত্ব থাকার ফলে অনেকে কাজ করে উঠতে পারছেন না। বর্তমানে বহু জেলা সভাপতি মন্ত্রিসভার সদস্য। এই পরিস্থিতিতে কারও মন্ত্রিসভার দায়িত্ব কমিয়ে সংগঠনের কাজ করতে বলা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংগঠনে কি ধরনের বদল ঘটাবেন সেটা দলের অনেক নেতা জানতে পারেন না।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় কিছু নেতার সঙ্গে কথা বলে নেন মমতা। তবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের এই রদবদল কঠোর অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই জেলার সভাপতি থেকে সরালেও রাজ্যে কোনো অন্য পদ দেওয়া হতে পারে। তৃণমূলের ছাত্র যুব সংগঠনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে সেই ভাবে কোনো সাংগঠনিক ভূমিকা লক্ষ্য করা যায় না। ছাত্র পরিষদের পর্যবেক্ষক হিসেবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

দলের অনেকের মতে নেতৃত্বের অভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাংগঠনিক রদবদল কি ধরনের হতে পারে সেই বিষয়ে জোরালো জল্পনা তৈরি হয়েছে। কারণ একুশে জুলাই এর ভার্চুয়াল মঞ্চে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী উপস্থিত থাকলেও মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন না। এদিন দলের জেলা সভাপতি এবং পর্যবেক্ষকদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সী কে নিয়ে বৈঠক করেন বলেই খবর।

সেই বৈঠকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ডাকা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। রাজ্য সংগঠনে তাই কোনো তরুণ নেতাকে তুলে আনা হতে পারে বলে দলের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে এই মুহূর্তে সমস্যা হল জেলায় জেলায় মূল সংগঠন এবং যুব সংগঠনের নেতৃত্বে এর মধ্যে লড়াই। সাংগঠনিক রদবদলের ক্ষেত্রে সেই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দলের এই দুই সংগঠনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়ায় সাংগঠনিকভাবে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলকে সেই পরিস্থিতি যথেষ্ট সমস্যায় ফেলতে পারে। রাজ্যজুড়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপি সহ বিরোধী রাজনৈতিক দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। রাজ্যের

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে আলোচনা করেছেন। তাই বর্তমানে তৃণমূল সরকার যথেষ্ট সমস্যার মধ্যে রয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলে সাংগঠনিক বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সংগঠন শক্তিশালী হয় কিনা সেটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।