Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

পাহাড়ের রাজনীতি উত্তপ্ত হচ্ছে একটু একটু করে

1 min read


।। ময়ুখ বসু ।।


একুশের ভোটের আগেই ফের উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে পাহাড়। পাহাড়ে ফের জেগে উঠতে আরম্ভ করেছে গোর্খাল্যান্ডের দাবি। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গোর্খাল্যান্ডের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন মোর্চা নেতা বিনয় তামাং ( Vinay Tamang)। সেই চিঠিতে দার্জিলিং, তরাই এবং ডুয়ার্স নিয়ে গোর্খাদের সাংবিধানিক ন্যাসের দাবি জানিয়েছেন তিনি। মূলত, পাহাড়ের বুকে বিমল গুরুং ফিরতেই জেগে উঠেছে গোর্খাল্যান্ডের দাবি। পাহাড়ে পা রেখেই পাহাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবিকে উস্কে দিয়েছেন গুরুং। আর গুরুং যে গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে উসকে দিয়েছেন সেটা বুঝেই পাহাড়ের রাজনীতিতে নিজেদের টিকিয়ে রাখার তাগিদে গোর্খাল্যান্ডের ইস্যুকে হাতিয়ার করে নিয়েছেন বিনয় তামাংরাও।

মূলত পাহাড়ের বুকে বাম আমল থেকেই দাবি ওঠা শুরু হয়, পাহাড়, ডুয়ার্স তরাই নিয়ে তৈরি করতে হবে গোর্খাল্যান্ড। সুভাষ ঘিসিংয়ের সময় থেকেই এই দাবির সুত্রপাত ঘটে। তারপর সেই দাবির সমর্থনে আন্দোলনকে হাতের মুঠোতে নেন বিমল গুরুং। এরপর বর্তমান রাজ্য সরকার পাহাড়ে জিটিএ করে সাময়িকভাবে পাহাড়কে শান্ত করলেও একুশের ভোটের আগে বিমল গুরুং পাহাড়ে ফিরেই ফের গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে খুচিয়ে দেন। পাহাড়ে পা রেখেই গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আস্ফালন শুরু করেছেন তিনি। আর গুরুংদের আস্ফালনে পাহাড়ের রাজনীতিতে টিকে থাকার তাগিদে বিনয় তামাংরাও সরব হয়েছেন গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে। কারন, গোর্খাল্যান্ডের দাবি পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের। এই দাবির সঙ্গে তাদের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। আর সেই আবেগকেই রাজনীতির ময়দানে কাজে লাগাতে চাইছে মোর্চা নেতারা।

এদিকে গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে উসকে দিলেও বিমল গুরুং (Bimal Gurung) সাফ জানিয়ে দিয়েছেন একুশের ভোটে তারা তৃণমূল কংগ্রেসকেই সমর্থন করবেন। ফলে বিনয় তামাংরা গুরুং শিবিরকে টেক্কা দিতে এবারে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছেন। ফলে রাজনৈতিক মহলের মতে, পাহাড়ের রাজনীতে নয়া সমীকরনের ইঙ্গিত দেখা দিচ্ছে। গুরুং পাহাড় থেকে পালানোর পর বিনয় তামাংরা তৃণমূলকে সমর্থন করে তাদের পাশে এসে দাড়িয়েছিলো। কিন্ত গুরুং পাহাড়ে ফিরে তৃণমূলকে সমর্থন করার ঘোষনা দিতেই বিনয় তামাংরাও গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সরব হতে আরম্ভ করে দিয়েছেন। এরফলে শান্ত পাহাড়ের পরিবেশ ফের অশান্ত হওয়ার আবহ তৈরি হয়েছে। কার্যত প্রতিদিনই গুরুং বনাম তামাং পন্থীদের মিছিল মিটিংয়ে সরগরম হতে শুরু করেছে দার্জিলিং, তরাই, ডুয়ার্স।

আরো পড়ুন :নন্দীগ্রাম থেকেই হবে পরিবর্তন, স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলীপের

চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এদিকে একুশের নির্বাচনে গুরুং তৃণমূলকে সমর্থন জানানোর ঘোষনা দিলেও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যে রাজনৈতিক দল পাহাড়ের বুকে গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে সমর্থন জানাবে সেই রাজনৈতিক দলকেই মোর্চা সমর্থন জানাবে বলে দাবি করেছেন গুরুং। ফলে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন, দীর্ঘদিন গোপন আস্তানায় লুকিয়ে থাকার পর পাহাড়ে ফেরার তাগিদে একুশের নির্বাচনে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকে সমর্থন জানিয়েছেন বিমল গুরুং। কারন, রাজ্য সরকারের তরফে গুরুং এর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ঝুলে রয়েছে। ফলে তৃণমূলকে সমর্থন না করলে গুরুংয়ের যে পাহাড়ে স্বাচ্ছন্দ্যভাবে রাজনীতি করা সম্ভব হবে না সেটা বুঝেই হয়তো গুরুং তৃণমূলকে সমর্থন জানিয়েছেন।

তবে একুশের ভোটে তৃণমূলকে তারা সমর্থন জানালেও গোর্খাল্যান্ডের দাবি থেকে যে তারা সরছে না তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তারা সে গোর্খাল্যান্ডের স্বপক্ষের রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করবে তাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে গুরুংয়ের অনুপস্থিতিতে পাহাড়ে যে তামাংরা তৃণমূল সরকারের পাশে দাড়িয়েছিলো আজ তারা রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সরব হতে আরম্ভ করেছে। গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে তারা মোদির দরবারে চিঠিও পাঠিয়েছে। ফলে একুশের ভোটের মাঝেই তামাংরা কি অবস্থান নেবেন তা নিয়েও বাড়ছে ধন্দ। সব মিলিয়ে ফের পাহাড়ের মাটিতে রাজনীতির উত্তপ্ত হাওয়ার হিন্দোল শুরু হয়ে গিয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছেন।