ভোট পূর্ববর্তী সময়েই শুরু হয়ে গিয়েছে বিড়াল মেরে দেওয়া রাজনীতি

1 min read


।।প্রথম কলকাতা ডেস্ক।।


২০২১ সালের নির্বাচনের আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে দিয়েছে। রাজ্যের অন্যতম দুটি স্পর্শকাতর এলাকা বীরভূমের নানুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে মাথা চাড়া দিতে শুরু করেছে রাজনৈতিক হিংসা। কোথায় বিজেপি-তৃণমূল আবার কোথাও তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকট আকার নিতে শুরু করেছে। মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতার চক্রব্যুহ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক কর্মীরা বন্দি হয়ে যাচ্ছেন।

আসলে এই রাজনৈতিক অস্থিরতা একটাই ইঙ্গিত দেয় যে, রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে কনফিডেন্ট নড়বড়ে। কেউই জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত নয়। মুখে মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন বললেও আসলে মানুষের উপর আস্থা হারিয়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীরা। আর সেই কারনেই জোর যার মুলুক তার রাজনীতির আবহ ঘণীভূত হচ্ছে। নেতৃত্ব কায়েমের লোভে একে অপরকে মারধোর করে কার্যত ভোট ব্যাঙ্ককে করায়াত্ত করতে চাইছেন।

আরো পড়ুন : বিজেপি এখন সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দেবে:দেবনারায়ন সরকার

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমন্ডলে অশান্তির বাতাবরণ যাতো বাড়বে ততোই অস্পষ্ট হবে গণতান্ত্রিক অধিকার দানের প্রক্রিয়া। ভোট পূর্ববর্তী সময়েই যদি বিড়াল মেরে দেওয়া যায় তাহলে ভোটের সময়ে নিশ্চিন্ত। ভোটাররা একবার ভয় পেয়ে গেলে সেই ভোটারদের স্বাভাবিকভাবেই নিজদের মতো করে ব্যাবহার করা যায়। সেক্ষেত্রে, বিরোধী শাসক সংঘর্ষের ক্ষেত্রে যেমন শাসক বিরোধী দুই পক্ষই এই ফায়দা লাভ করার অপেক্ষায় থাকে, তেমনি নিজদের দলীয় স্তরেও যদি এমন সংঘর্ষ ঘটানো যায় তাহলে লবিবাজির রাশ মুষ্ঠিবদ্ধ করে দলে মাথা উন্নত রেখে পদাধিকারী হওয়া যায়।

ফলে ভোটের দিন যতোই এগিয়ে আসবে ততোই রাজনৈতিক হিংসার পারদ যে চড়বে তা সহজেই অনুমেয়। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফের রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তাল হয়েছে বীরভূমের নানুর। বৃহস্পতিবার রাত থেকে নানুরে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে। দুই তৃণমূল কর্মীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

পাল্টা বিজেপি কর্মীরা মারধরের অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার সকাল থেকে উত্তাল হয়ে উঠেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর। সেখানে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে খুন হয়েছেন এক কিশোর সহ ২ জন। অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে। গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের পারিবারিক বিবাদের কারণেই এই ঘটনা বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ বিজেপি কর্মীরাই বোমাবাজি করেছে।

তবে একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপের পালা যাই হোক না কেন, আসলে ভোটের পূর্ববর্তী সময়ে সংঘর্ষ যতো চড়বে অশান্তির বাতাবরন যতো ছড়িয়ে পড়বে তার ফায়দা উঠবে ভোট ময়দানে। তাই ২০২১ এর আগে সাধু সাবধান। অসাধু রাজনৈতিক কারবারীদের প্ররোচনায় পা দিলেই আপনার আমার গনতন্ত্রের প্রতি অনাস্থার ভীতি জাকিয়ে বসতে পারে। আর সেটা যাতে না বসে তার দায়ভার আজ আমার আপনার সব্বার।