পুলিশ দলদাসে পরিনত হয়েছে, বললেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী


।। রাজীব ঘোষ ।।

পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্ত মৃতদের নিয়ে তথ্য লুকানো শুরু হয়ে গিয়েছিল। করোনা নিয়ে বিভিন্ন রকম বিবৃতি দেওয়া শুরু হল।এই পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যখন বিজেপি সাংসদ নেতানেত্রীরা যাওয়ার চেষ্টা করলেন তখন তাদের পুলিশ দিয়ে আটকে রাখা হলো। প্রথম কলকাতা লাইভ সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। তিনি আরো বলেন করোনায় আক্রান্তদের সঙ্গে মৃতদের সংখ্যা যথেষ্ট ফারাক রয়েছে।

প্রচুর মৃতদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। করোনা কালে দেখা গেল হাসপাতালগুলোতে শুধু নীল সাদা রং করা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী কে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী দেশকে জানান পশ্চিমবঙ্গে ফ্রী ট্রিটমেন্ট হচ্ছে। অথচ বেসরকারি হাসপাতালে দেখা গেলো করোনা আক্রান্তের চিকিৎসায় ১০ লক্ষ টাকার উপরে বিল তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের বেড পাওয়া যাচ্ছে না। চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না।হাসপাতালের সুপার বলছেন ওয়েবসাইটে যে তথ্য দেওয়া আছে তার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই।

আমাদের সমস্যা তৈরি হয়ে গেছে। যে সমস্ত পরিস্থিতি যে অব্যবস্থা তৈরী হয়েছে ভারতের আর কোনো রাজ্যে এরকম নেই। তার কথায় রাজ্য শুধু কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে তাদের ব্যতিব্যস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। এই করোনা অতিমারীর সময়ে রাজনীতি করার সময় নয়। বিজেপি সেটা করছে না। রাজ্যের হাসপাতলে অন্য কোনো চিকিৎসা করাতে গেলে করোনায় আক্রান্ত হতে হচ্ছে। একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সকলকে সুস্থ থাকতে হবে যাতে হাসপাতলে যেতে না হয়। এই কথা বলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গে তার বক্তব্য সিপিএমের আমলে অনীতা দেওয়ানের নির্যাতনের ঘটনায় সরকার বলেছিল এরকম ঘটনা কত ঘটে। তারপরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হওয়ার পর মনে করা হয়েছিল এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। নারী নিগ্রহের বিরুদ্ধে মমতাকে একটি কথাও বলতে শোনা গেল না। এই সরকার যত তাড়াতাড়ি পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাবে ততো তাড়াতাড়ি সম্মান ফিরে পাওয়া যাবে।

দাড়িভিট ঘটনা প্রসঙ্গে দেবশ্রী বলেন তার কেন্দ্রের অন্তর্গত এলাকায় একটি মেয়ের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল খুন করা হয়েছিল। ঘটনার প্রতিবাদে যারা বিক্ষোভে শামিল হয়েছিল পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। যে মেয়েটিকে খুন করা হয়েছে তার পরিবারের লোকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হচ্ছে। পুলিশ দলদাসে পরিণত হয়েছে।বিধায়ক দেবেন রায়ের হত্যার ঘটনাকে পুলিশ বলছে আত্মহত্যার ঘটনা।

কিন্তু সাদা চোখে দেখা যাচ্ছে প্রমাণ বলছে আত্মহত্যার ঘটনা নয়।পুলিশ ধামাচাপা দিতে চাইছে। প্রত্যেকটা ঘটনার সঙ্গে শাসক দলের লোকেরা যুক্ত হয়েছে। বিরোধীদের বিষয়ে পুলিশ সক্রিয় হচ্ছে। কোনো মানুষ যদি প্রতিবাদ করতে চায় তার বিরুদ্ধে পুলিশের অতি সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন বুঝতে পারছে কি পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু কিছু করার নেই।রাজ‍্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে এই কথা বলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী।