Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

দলেরই লোকেদের আগে বাগে আনতে হবে, চ্যালেঞ্জ মমতার

।। ময়ুখ বসু ।।

ত্যাগী, ভোগী আর ছাগলের তৃতো সন্তান, বাঁকুড়ার শুনুকপাহাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা এই তিন মন্তব্য নিয়ে এখন বাংলা বাজার সরগরম। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাদার অনুগামীদের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তাহলে কি দলের কর্মীরাই ছাগলের তৃতীয় সন্তান? আর কর্মীদের ত্যাগী হতে হবে, আর ভোগী হবেন শুধুই ভাইপো? হরেক প্রশ্ন, কটাক্ষ আর নানা মন্তব্যে এখন সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম। শুধু সোশ্যাল মিডিয়াই বা বলি কেন, পথে ঘাটে চায়ের আড্ডাতেও এখন রাজ্য রাজনীতির আলোচনা।

আর এই সমস্ত আলোচনা সরগরম করার নেপথ্যে রয়েছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ। দলে বিদ্রোহী হয়ে থাকা শুভেন্দুর পাশে থাকা দাদার অনুগামীরা এবারে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন। তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি তুলেছেন, শুভেন্দু অধিকারীর মতো সাচ্চা রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব চাই। তবে দলে থাকা বাকি নেতা নেত্রী কি সাচ্চা নন? এমন প্রশ্নও তুলছেন দাদার অনুগামীর বাইরে অনেকে। তবে দলের অন্দরে ক্ষোভ, ভাঙ্গন এবং বিদ্রোহের আঁচ পেয়ে বুঝে শুনে পা ফেলছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের কাজ নিয়ে যে দলের আন্দরে ছাই চাপা আগুন রয়েছে সেটা বুঝেই বাঁকুড়ার সভা থেকে মমতা জানিয়ে দেন, গোটা রাজ্যে দলের অবজারভার তিনিই। একইসঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলকেই শুধুমাত্র হুঙ্কার দেননি মমতা। রাজ্যনৈতিক মহলের মতে, তিনি দলে বিদ্রোহীদের নাম না করেও সাবধান করে দেন। বলেন, কে কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, সব খবর তিনি রাখেন। দিদি কিছু জানে না, এমনটা যেন কেউ না ভাবেন। অবশ্য এখানেও প্রশ্ন তুলছেন এক শ্রেণীর সমালোচকরা।

তাদের প্রশ্ন, দিদি যদি সবই জানেন, তাহলে দলের নীচু তলায় যখন কাটমানি থেকে আম্ফান নিয়ে দুর্নীতি হলো তখন কেন তিনি ব্যাবস্থা নিলেন না? আসলে তৃণমূলের অন্দরে বিক্ষুব্ধ তৃণমূলীদের মুখে এখন কথা ফুটেছে। কথা ফুটেছে বাংলার এক শ্রেণীর মেহনতী মানুষের মুখেও। কথা ফুটেছে এতোদিন ধরে যারা রাজ্যে বিরোধী দলের অভাবে শাসককে ভয় পেয়ে চলতো তাদের মুখেও। এক সময়ে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে ভালোবাসার লালিত্য মাখিয়ে যে ঘাসফুলকে বাংলায় স্থাপন করা হয়েছিলো,

সেই বিশাল জনগোষ্ঠীর একটা অংশ আজ চাপা যন্ত্রণা বুকে নিয়ে সরব হচ্ছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। মমতার কাছে প্রত্যাশার পারদ ছাপিয়ে গিয়েছে অনেক কিছুকেই। ফলে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যতোটা না লড়াই দিতে হবে তার থেকে বোধহয় বেশী লড়াইটা দিতে হবে দলের বিদ্রোহ এবং দলের বিক্ষুব্ধদের বাগে আনার ক্ষেত্রে। অন্তত বর্তমান রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।