বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের মেয়র-কাউন্সিলর চেয়ারম্যান পদের নাম

1 min read

।। চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ।।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ও ওইসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পদ আমূল পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ বাংলায় রাখার প্রস্তাব এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) থেকে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন-সংক্রান্ত বিধান আলাদা করে নতুন পৃথক আইন তৈরির খসড়ায় ঔপনিবেশিক আমল থেকে এসব নামে চলে আসা প্রতিষ্ঠান ও পদে বিদেশি শব্দের ব্যবহার রোধে পরিবর্তনের এ উদ্যোগ নিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। তবে ইসির প্রস্তাবিত নামই থাকবে, বিষয়টি এমন নয়। নাম পরিবর্তন করে বাংলায় কী রাখা যায় সে বিষয়ে জনমত জরিপ করছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।

ইসির ওয়েবসাইটে (WWW.ECS.GOV.BD) এরই মধ্যে জনগণের মতামত নেয়ার জন্য বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইনটিই মূলত বাংলায় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কারণে এই আইনের ধারাগুলো বাংলায় লেখার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান ও পদের নামও বাংলায় নিয়ে আসার প্রস্তাব রয়েছে কমিশনের। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানের নাম ও জনপ্রতিনিধিদের পদবি পরিবর্তন করে প্রস্তাবিত নাম ও পদবি ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। জনমতের ভিত্তিতেই এই পরিবর্তন আনতে চায় কমিশন।

বর্তমানে দেশের স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ। এদের মধ্যে সিটি করপোরেশনের প্রধান ও পৌরসভার প্রধানের পদটি মেয়র, ওয়ার্ড জনপ্রতিনিধিদের পদটি কাউন্সিলর, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ প্রধানের পদগুলো চেয়ারম্যান, দ্বিতীয় প্রধানের পদ ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা ও উপজেলা পরিষদে এলাকাভিত্তিক পদ সদস্য এবং ইউপিতে ওয়ার্ডভিত্তিক পদের নাম মেম্বার রাখা আছে। যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষ এসব প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের উল্লিখিত নাম ধরেই চেনেন। নতুন আইনে ইসির দেয়া প্রস্তাব কার্যকর হলে এসব নাম কিংবা পদ কিছুই আর থাকবে না।

ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে বলা হতে পারে মহানগর সভা আধিকারিক বা মহানগরপতি, চেয়ারম্যানদের পল্লী পরিষদ প্রধান। নতুন আইনের খসড়ার সংজ্ঞায় ইউনিয়ন পরিষদকে পল্লী পরিষদ, পৌরসভাকে নগরসভা ও সিটি কর্পোরেশনকে মহানগর সভা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রধান, ভাইস চেয়ারম্যানকে উপপ্রধান, সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে মহানগর সভা আধিকারিক বা মহানগরপতি, পৌরসভার মেয়রকে পুরাধ্যক্ষ বা নগরপতি, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কাউন্সিলরকে সদস্য বা পারিষদ, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার ওয়ার্ডকে মহল্লা এবং ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে এলাকা শব্দের দ্বারা প্রতিস্থাপন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই প্রস্তাব তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। সেখানে সবাই মতামত দিতে পারেন। নতুন কোনো নামের প্রস্তাবও দেয়া যাবে। ভালো নাম এলে তা গ্রহণ করা হবে। আজ ৩১ জুলাই পর্যন্ত সবাই মতামত দিতে পারবেন।

খসড়া আইন প্রসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সব আইনের মৌলিক বিধানাবলি অক্ষুণ্ন রেখে পদগুলো ইংরেজির পরিবর্তে বাংলা ভাষায় প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আরপিওতে এই আইন না রেখে কমিশনের রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন আইন, ২০২০ রূপে বাংলায় খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলা প্রণয়নকালে ইংরেজি এবং বিদেশি শব্দের পরিবর্তে অধিকতর গ্রহণযোগ্য বাংলা পরিভাষা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, আমরা খসড়া আইন সবার মতামতের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ছাড়াও দেশের যেকোনো নাগরিক এই আইনের ওপর মতামত দিতে পারবেন।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত খসড়া আইনে নিবন্ধনের শর্তাবলিতে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বা ছাত্র এবং আর্থিক, বাণিজ্যিক বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বা সংস্থার কর্মচারী বা শ্রমিকদের সমন্বয়ে বা অন্য কোনো পেশার সদস্যদের সমন্বয়ে অঙ্গ সংগঠন থাকবে না। তবে সব ধরনের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে এবং ব্যক্তি হিসেবে, চলতি আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।