থৈ থৈ জলে ভাসছে চট্টগ্রামে মা ও শিশু হাসপাতাল

1 min read

।।চট্টগ্রাম ব্যুরো, বাংলাদেশ।।

প্রতি বছরের ন্যায় বৃষ্টি এবং জোয়ারের জলে আবারও চট্টগ্রামে মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলা হাঁটু জলে তলিয়ে গেল। নিরবিচ্ছিন্ন অত্যাধুনিক সেবা দিতে এত পদক্ষেপ নিলেও তা গ্রহণ করতে পারছেন না দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। কারণ জোয়ার আর বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্রায় বন্ধ থাকছে মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলার সেবা কার্যক্রম। এতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদের।

বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকা থেকে আসা রোগীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বর্ষায় সড়কের নানা ঝক্কি পেরিয়ে নগরে এলেও অনেক সময় জলাবদ্ধতার কারণে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না রোগী ও তাদের স্বজনরা। মাঝে মধ্যে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত জল ডিঙিয়ে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলেও সেখানে মিলছে না জরুরি বিভাগের সেবা।

নীচতলায় শিশুস্বাস্থ্যের মতো রয়েছে অভ্যর্থনা বিভাগ, টিকিট কাউন্টার, লিফট রুম, বহির্বিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও বেশকিছু বিভাগ। সবই থৈ থৈ করছে পানিতে।হাসপাতালের প্রধান ফটক থেকে নীচতলায় জলের কারণে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে অনেক করোনা আক্রান্ত রোগীকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাধারণ রোগীদেরও। জল থেকে রক্ষা পেতে হাসপাতালের গ্রাউন্ড ফ্লোর প্রায় আড়াই ফুট উঁচু করা হলেও এতেও রক্ষা মিলছে না রোগী ও স্বজনদের।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, ভারী বর্ষণ হতে না হতে জলের নীচে তলিয়ে যায় হাসপাতালটি। বর্ষায় প্রায়ই এ সমস্যায় পড়তে হয় রোগী ও তাদের স্বজনদের। সামান্য বৃষ্টিতেই নীচতলার জরুরি বিভাগ, অভ্যর্থনা বিভাগ, টিকিট কাউন্টার, লিফট রুম, বর্হিবিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগ ও এবাদত খানা ডুবে থাকে জলে। জোয়ারের সময়ও প্রায় গোড়ালি সমান জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এখানে।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীর স্বজন দিদার জানান, বৃষ্টি আর জোয়ারের জলে এই হাসপাতালের নিচতলা প্রায় হাঁটু জলে ডুবে যায়। হাসপাতালের বেডে থাকা রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। জলাবদ্ধতার কারণে শত শত রোগীকে এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

জল প্রবেশ এবং দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে মা ও শিশু হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ট্রেজারার রেজাউল করিম আজাদ জানান, গত ১০ বছর ধরে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই জোয়ারের সময় হাসপাতালে জল প্রবেশ করছে। জল থেকে রক্ষা পেতে হাসপাতালের গ্রাউন্ড ফ্লোর প্রায় আড়াই ফুট উঁচু করা হলেও জল থেকে রক্ষা মিলছে না। ফ্লোর আর উঁচু করারও সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা উপরের তলায় বসে চিকিৎসা দিচ্ছেন। রোগীদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেহেতু নিয়মিত এ এলাকায় জল উঠে, তাই বর্ষা আসলে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করি। পানি উঠার কারণে চলাফেরায় কিছুটা সমস্যা হলেও রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য সবোর্চ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।