Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ধ্বংসের রাজনীতির পাশে উন্নয়নের বার্তা তৃণমূল কংগ্রেসের, মন্তব্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

‘ধ্বংসাত্মক রাজনীতি। আর তার সামনে দাঁড়িয়ে সৃষ্টির আনন্দে উন্নয়ন।’ ঠিক এইভাবেই বিরোধীদের শত বাধা বিঘ্নের মধ্য দিয়ে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে রাজ্য সরকার এগিয়ে চলেছে। তারই প্রতিচ্ছবি আজকে তৃণমূল ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে তুলে ধরলেন তৃণমূল কংগ্রেস মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partho Chattopadhyay)। পাশাপাশি বিরোধী শিবির বিশেষ করে বিজেপি বা কেন্দ্রীয় সরকার বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দাগতেও ভুললেন না তিনি।

তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Bandopadhyay) নেতৃত্বে ২০১১সাল থেকে আজ পর্যন্ত এই সময়কালে বিভিন্ন রকম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও যেভাবে একটার পর একটি চ্যালেন্জের মোকাবিলা করেও রাজ্যের সর্বস্তরে সর্ব বিভাগে ঐতিহাসিক উন্নয়ন সংঘটিত হয়েছে তাকে ভেঙে দাও তার ভিত্তিকে ভাঙো।’ তার অভিযোগ, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের উপেক্ষা অবহেলা থাকা সত্ত্বেও যে সাহসিকতা যে দৃঢ়তার মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার যেভাবে চলছে তাকে বাধা দাও।’ ‘সর্বত্রই দেখুন ধ্বংসের রাজনীতি মানুষ প্রতিহত করছে। আজকে যারা আমাদের বিরুদ্ধাচারণ করছেন দল বদলু থেকে যে সমস্ত রাজনৈতিক সংগঠনগুলো কেউ প্রধান কেউ তার ল্যাজ ধরে প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাদের সকলের দিকে তাকিয়ে দেখুন কোন এজেন্ডা নেই।’ বলেও মন্তব্য করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

পাশাপাশি, নাম না করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) চায়ে পড়ে চর্চা কর্মসূচীর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে চা খেয়ে খেয়ে শুধুমাত্র ধ্বংস কর কীভাবে বাংলাকে পিছিয়ে ফেলা যায় কীভাবে বাংলার সংস্কৃতিকে বাংলার ঐতিহ্যকে বাংলার গরিমাকে কালিমালিপ্ত করা যায় তার চর্চা চলছে।’ তার মন্তব্য, ‘একজন কেউ এগিয়ে এসে বলছে না যে, তাদের বাংলায় আরও উন্নয়ন কীভাবে সম্ভব। কেউ বলছেন না এত বিঘ্নতা সত্ত্বেও বাংলায় বেকারত্বের হার কমছে। চাকরির সুযোগ বাড়ছে। জাতীয় স্তরে যেখানে ৪৫ বছর পর এই প্রথম দেখা যাচ্ছে বেকারত্বের হার চূড়ায়। সেখানে এই রাজ্যে আমরা আমাদের সাধ্য মতন কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কে প্রথম কে দ্বিতীয় কে তৃতীয় এ লড়াই করবার আগে বাংলার মানুষকে বাংলার সুধী জনগনকে ধ্বংস না করে বলা উচিত কী উন্নয়ন করছে ও।’

‘আমরা যখন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পাড়ায় পাড়ায় গৃহস্থলীতে গৃহস্থলীতে আমাদের সাফল্যের কথা এবং সেই সাফল্যের কোথাও যদি কোন অসুবিধে হয়ে থাকে নাগরিকদের সেই কথা বলছি। তখন এরা রাস্তায় শুধুমাত্র সংবাদপত্রে ভেসে থাকার জন্য সংবাদমাধ্যমে ভেসে থাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা করছে।’ বলেও নাম না করে বিজেপিকে তোপ দাগেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partho Chattopadhyay)।

তিনি আরও বলেন, ‘একটা অপ সংস্কৃতির ধারাপাত রচনা করছে আমাদের so called বিরোধী দলেরা। তার মুখে দাঁড়িয়ে কী পন্চায়েত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কী পৌর পরিষেবার মধ্য দিয়ে কী সরকারের প্রশাসনিক কাজের মধ্য দিয়ে বাংলার মানুষকে আজকে সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের শুধু রূপরেখা নয় বাস্তবায়ন যা হয়েছে। কৃষকদের জন্য যা করা হয়েছে বা যা করা হচ্ছে। আজকে ছাত্র যুব সমাজের জন্য তাদের পড়বার সুযোগের জন্য উচ্চ শিক্ষার জন্য যা করা হয়েছে। আজকে স্বাস্থ্য পরিষেবায় যে ঐতিহাসিক সাফল্য নজর কেড়েছে স্বাস্থ্যসাথী।’ পাশাপাশি তার মন্তব্য ‘কোন মুখ্যমন্ত্রীকে তো দেখিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিচ্ছে।’

পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partho Chattopadhyay) বলেন, ‘বাংলা এগোচ্ছে। বাংলা এগোবে। বাংলার আপামর জনসাধারন তারা আস্থা রাখেন তারা ভরসা রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে। কেউ বা কয়েকজন মনে করেন যে ইতিহাসকে যদি বদল করা যায় বিজেপির তাই করবার চেষ্টা করছে।’ এছাড়া, কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘সংবিধানকে আঘাত করে তারা ভারতবর্ষের কৃষ্টি সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে বরবাদ করে দিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করবার জন্য। তারা বিকৃত মনস্কায় আজকে এই রাজ্য জুড়ে এক দল প্লেনে করে এসে নেমেই ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবার চেষ্টা করছে। ‘

পাশাপাশি তার মন্তব্য, ‘তৃনমূল কংগ্রেস এর মুখে দাঁড়িয়ে মা মাটি মানুষ সরকার শত বিঘ্নতা কাটিয়েও যে চ্যালেন্জের মুখে দাঁড়িয়ে আম্ফান থেকে শুরু করে Covid-19 থেকে শুরু করে যে সাফল্যের সঙ্গে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সেই চ্যালেন্জের মোকাবিলা করেছেন তার একফোঁটা কৃতিত্ব না দিয়ে দিনভর শুধু ধ্বংস কর দিনভর শুধু কু কথা বল দিনভর শুধু বাহুবলী গণতন্ত্রের উপর বিশ্বাস রেখোনা বাহুবলের উপর বিশ্বাস রাখো চরিত্র হনন কর এ রাজনীতির আমদানি করবার চেষ্টা করছে।’

‘স্বভাবতই ভাবে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা সমর্থকরা তারা সকলেই শুভানুধ্যায়ীরা বাংলাকে রক্ষা করবার শপথ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তারা চান উন্নয়নের বিজয়রথের গতি সেই গতিকে অব্যাহত রাখতে। বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রেখে তার নেতৃত্বে যে বিশ্ব বাংলা গড়বার প্রতিজ্ঞা নিয়ে এগোচ্ছেন তাকে আরও মজবুত ভিতের উপরে দাঁড় করাবেন’ বলেও সাংবাদিক বৈঠকে জানান তৃণমূল কংগ্রেস মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partho Chattopadhyay)।