Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বার্তা পরিষ্কার, শিশির চ্যাপ্টার ক্লোজড করতে চাইছে তৃণমূল, খোয়ালেন সভাপতি পদ

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

দুই ছেলে শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari) এবং সৌমেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন। কিন্তু বাবা শিশির অধিকারী এখনও তৃণমূলেই রয়েছেন। শুধু দলে থাকা বলে নয়, কাঁথির তৃণমূল সাংসদ দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতির পদেও রয়েছেন। কিন্তু সেই পদ থেকে আজ তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে দল। পরিবর্তে তাঁকে তৃণমূলের চেয়ারম্যান করা হয়েছে এই জেলায়। এর পাশাপাশি আজ থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা তৃণমূল সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব তুলে নিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র। এর থেকেই পরিষ্কার শিশির অধিকারী চ্যাপ্টার তৃণমূল (tmc) ক্লোজড করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল।

এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে মঙ্গলবার থেকেই। গতকাল দীঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ থেকে তাঁকে সরানো হয়েছে। তিনি সেখানকার চেয়ারম্যান ছিলেন। ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি। যিনি তৃণমূল রাজনীতিতে বরাবর অধিকারী পরিবারের বিরুদ্ধ গোষ্ঠী বলেই পরিচিত। ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে অখিল ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা তরুণ জানাকে। সেই পদক্ষেপের পর ২৪ ঘন্টা কাটার আগে শিশিরকে সরিয়ে দেওয়া হল জেলা সভাপতির পদ থেকে। অর্থাৎ দলীয় রাজনীতিতে বর্ষীয়াণ তৃণমূল সাংসদের গুরুত্ব ধাপে ধাপে কমিয়ে দেওয়ার পর্ব শুরু করে দিয়েছে জোড়াফুল শিবির। কিন্তু এই ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে কোনো যুক্তি খাড়া করতে পারছে না তৃণমূল (tmc)। তার কারণ এখনও দলের বিরুদ্ধে একটি শব্দ উচ্চারণ করেননি তিনি।

এমনকি বিজেপির হয়ে কথা বলছেন, সেটাও দেখা যায়নি। তাই এদিন নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর রাজ্যের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র বলেন, শিশিরদাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। তিনি আমাদের জেলার চেয়ারম্যান হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলেই তৃণমূলের হয়ে কাজ করার চেষ্টা করব নতুন ভাবে। অবিভক্ত মেদিনীপুরে ডানপন্থী রাজনীতিতে শিশির অধিকারী ভূমিকার কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। ১৯৭৭ সালে সিপিএম তথা বামফ্রন্ট রাজ্যে ক্ষমতায় আসে। সেই বছর কিন্তু কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে জয় পায় জনতা পার্টি। কিন্তু সরকারে আসার পর ক্রমশ সিপিএম আগ্রাসী হয়ে কাঁথি সহ গোটা মেদিনীপুর জেলায় রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টায় নেমে পড়ে। ধীরে ধীরে সিপিএম প্রবল শক্তি অর্জন করে অবিভক্ত মেদিনীপুরে।

আরো পড়ুন : পাহাড়ে ভাঙন লাগলো গুরুং শিবিরে

সকলেই জানেন তখন থেকেই শিশির অধিকারী কংগ্রেসের হয়ে কিভাবে লড়াই করা শুরু করেছিলেন সিপিএম তথা বামেদের বিরুদ্ধে। ১৯৮২ সালে শিশিরবাবু কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে বিধায়ক হন। এর পাশাপাশি কাঁথি পুরসভায় তাঁর হাত ধরে ক্রমশ শক্তিশালী হয় কংগ্রেস। দীর্ঘদিন কাঁথি পুরসভা কংগ্রেসের দখলে ছিল বাম আমলেও। শিশিরবাবু চেয়ারম্যান ছিলেন পুরসভার। পরবর্তীকালে ১৯৯৯ শোলে শিশির অধিকারীসহ পরিবারের সদস্যরা তৃণমূলে যোগদান করেন। তখন থেকেই কাঁথি পুরসভা হাতবদল হয়ে চলে আসে তৃণমূলের দিকে। ধীরে ধীরে কংগ্রেসকে সরিয়ে তৃণমূল প্রধান বিরোধীদল হয়ে ওঠে কাঁথি তথা পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে। সেই জায়গায় শিশিরের কতটা ভূমিকা ছিল সেটা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই।

তাই তৃণমূলের কাছে শিশির অধিকারী এখন রীতিমতো দুয়োরানিতে পরিণত হয়েছেন। শুভেন্দু এবং সৌমেন্দু তাঁর দুই পুত্র তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন, এটাই কি তাঁর ‘অপরাধ’? এ প্রশ্ন এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে কাঁথসহ গোটা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে। জেলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে শিশিরকে তৃণমূল এই বার্তাই দিতে চাইল যে, দল তাঁকে আর নিজেদের বলে বিশ্বাস করতে পারছে না। স্বাভাবিকভাবেই শিশির অধিকারীকে নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। অশীতিপর শিশিরবাবু আগামীদিনে পদ্ম শিবিরে যোগ দেবেন কিনা, সে ব্যাপারে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে তিনি মুখ খোলেননি। তবে শুভেন্দু বলেন, তৃণমূল একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। তাই ওরা কি করতে চাইছে, সে ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। বিধানসভা নির্বাচনের আগে শিশির অধিকারীকে নিয়ে রাজ্য রাজনীতি অনেকটাই যে আবর্তিত হবে, সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।