চট্টগ্রাম বন্দরে তালিকা হচ্ছে কেমিক্যাল ও বিপদজনক পণ্যের

1 min read

।।চট্টগ্রাম ব্যুরো, বাংলাদেশ ।

চট্টগ্রাম বন্দরের তিন নম্বর শেডে গত ১৫ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ তালিকা করছে কেমিক্যাল ও বিপজ্জনক (হ্যাজারাডাস) পণ্যের। তালিকা প্রস্তুত করতে ৬ সদস্যের কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একজন সদস্যকে (হারবার ও মেরিন) প্রধান করে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে বন্দরের দুইজন পরিচালক (নিরাপত্তা এবং পরিবহন), কাস্টম হাউসের প্রতিনিধি (যুগ্ম কমিশনারের নিচে নয়), পরিবেশ অধিদফতরের প্রতিনিধি ও কাস্টম হাউসের রাসায়নিক পরীক্ষককে। এর বাইরে প্রয়োজনে অন্য যেকোনো কর্মকর্তাকে কো-অপ্ট করতে পারবে কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরে ১৪টি শেড রয়েছে । তারমধ্যে বিপজ্জনক পণ্য রাখা হয় ‘পি’ শেডে। কমিটি ‘পি’ শেডে রাখা কেমিক্যাল ও বিপজ্জনক পণ্যের তালিকা, কত দিন ধরে পণ্যগুলো আছে তার হিসাব, নিলাম বা ধ্বংসযোগ্য পণ্যের তালিকা করবে।

এসব পণ্য বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় রাখার জন্য বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত কিনা দেখে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ দেবে। এর মধ্যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপাদান আছে কিনা তা চিহ্নিত করবে। এছাড়া কেমিক্যাল ও ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য হ্যান্ডলিং, সংরক্ষণ ও ডেলিভারির বিষয়ে কাস্টমস, বন্দর, বিস্ফোরক ও পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইন ও নিয়ম পর্যাপ্ত আছে কিনা দেখে সুপারিশ দেবে।

৬ সদস্যের এই কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর পেশ করতে বলা হয়েছে।

বন্দর তথ্য মতে, বন্দরের শেডের বাইরে বিভিন্ন ইয়ার্ডে বিপজ্জনক পণ্যের ক্যাটাগরি অনুযায়ী কনটেইনার রাখা হয়। ‘পি’ শেডে ড্রাম, প্যালেট (কাঠের কাঠামোর ওপর) কেমিক্যাল ও হ্যাজারাডাস পণ্য রাখা থাকে। কয়েক যুগ আগে আমদানি করা পণ্যও রয়েছে এ শেডে।

নিলাম প্রক্রিয়ায় ধীরগতি, মামলা, উপযোগিতাহীন পণ্য ধ্বংসে জটিলতা, ধীরগতির কারণে পণ্যের স্তূপ জমছে। ‘পি শেডে’ ১৩ ড্রাম ও ৫৫ ‘প্যালেট’ আছে, যেগুলো ১৯৯২ থেকে ২০১৯ সালে আমদানি হয়েছিল। তবে ৭ ‘প্যালেট’ (প্রতিটি কাঠের কাঠামোর ওপর রাখা) পণ্য সম্পর্কে তেমন জানা যায়নি। এতে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হচ্ছে অন্যদিকে বন্দরে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ছে।

বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, বন্দরে কেমিক্যাল ও বিপজ্জনক (হ্যাজারাডাস) পণ্যের তালিকা প্রস্তুত করতে ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর পেশ করতে বলা হয়েছে।