পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর নিহতের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি

1 min read

।। চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ।।

কক্সবাজার জেলার টেকনাফে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।শনিবার (১ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে জননিরাপত্তা বিভাগ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে।

চিঠিতে বলা হয়, কমিটি ঘটনার বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার কারণ, উৎস অনুসন্ধান করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মতামত দেবে।

তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাজাহান আলি। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডারের একজন প্রতিনিধি।আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এরআগে শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনা‌ফ উপ‌জেলার বাহারছড়ায় মে‌রিন ড্রাইভ সড়কে পু‌লিশের গু‌লিতে নিহত হওয়া সেনাবা‌হিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান যশোরের ১৩ বীর হেমায়েত সড়কের সেনানিবাস এলাকার মৃত এরশাদ খানের ছেলে।

পু‌লিশ দাবি করেছে, ওই সেনা কর্মকর্তা তার ব্য‌ক্তিগত গা‌ড়িতে করে অপর একজন স‌ঙ্গীসহ টেকনাফ থেকে কক্সবাজার আস‌ছিলেন। ‌মে‌রিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া চেকপোস্টে পু‌লিশ গা‌ড়ি‌টি থা‌মিয়ে তল্লাশি করতে চাইলে সেনা কর্মকর্তা বাধা দেন। এই নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সেনা কর্মকর্তা তার কাছে থাকা ‘পিস্তল’ বের করলে পুলিশ গু‌লি চালায়। এতে সেনা কর্মকর্তা রাশেদ ‘গুরুতর আহত’ হন।

আহত অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে ‌গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। শ‌নিবার (১ আগস্ট) সকালেই নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

কক্সবাজার পু‌লিশ সুপার এ‌বিএম মাসুদ হোসেন দাবি করেছেন, সামলাপু‌রের লোকজন ওই গা‌ড়ির আরো‌হীদের ‘ডাকাত সন্দেহ করে’ পু‌লিশকে খবর দেয়। এই সময়ে পু‌লিশ চেকপোস্টে গা‌ড়ি‌টি থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু গা‌ড়ির আরো‌হী একজন তার পিস্তল বের করে পু‌লিশকে গু‌লি করার চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পু‌লিশও গু‌লি চালায়। এতে ওই ব্যক্তি মারা যায়।

পুলিশ সুপার আরো জানান, এই ঘটনায় দু‌টি মামলা হয়েছে। ২ জনকে আটক করা হয়েছে। পু‌লিশ পিস্তল‌টি জব্দ করেছে। এছাড়া গা‌ড়িতে তল্লাশি করে ৫০টি ইয়াবা, কিছু গাজা এবং দুটি বিদেশী মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মেজর (অব.) রা‌শেদ এক‌টি তথ্য চিত্রধারণের কাজে এক নারী ও অপর ৩ জন পুরুষ সঙ্গীসহ গত এক মাস ধরে হিমছ‌ড়ির এক‌টি রেস্টহাউজে অবস্থান কর‌ছিলেন।