Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

পাহাড়ে ভাঙন লাগলো গুরুং শিবিরে

1 min read

।। ময়ুখ বসু ।।


একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাহাড়ের রাজনীতিতে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত। মোর্চা নেতা বিমল গুরুং পাহাড়ে ফেরার পর রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (tmc) যেখানে বেশ খানিকটা অ্যাডভান্টেজ পেয়ে গিয়েছিলো সেখানে ফের চিন্তার ভ্রুকুটি দেখা দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বের কপালে। উল্লেখ্য, প্রায় সাড়ে তিনবছর অজ্ঞাতবাস থেকে ফিরে মোর্চা নেতা বিমল গুরুং ঘোষনা দিয়েছিলেন একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ও তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করবেন। তারপরেই শিলিগুড়িতে বিরাট সমাবেশ ঘটিয়ে তৃণমূলকে সমর্থনের ঘোষনা দিয়ে পাহাড়ে ফিরে আসেন তিনি।

পাহাড়ের মাটিতে তৃণমূলের সমর্থনে প্রচারের কাজও শুরু করে দেন তিনি। শুরু হয় মিছিল মিটিং। কিন্ত তারমধ্যেই গুরুং শিবিরে লাগলো ভাঙন। গুরুং শিবিরের ২৫ জন নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, বিমল গুরুং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ নেওয়ায় তাঁরা গুরুংয়ের এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে দলত্যাগ করেছেন। ফলে পাহাড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ইমেজে বড়োসড়ো ধাক্কা খেতে পারে গুরুং পন্থীদের এই দল পরিবর্তনে। কারণ, গুরুং পন্থীদের একটা বড়ো অংশ গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সোচ্চার। ফলে তারা বিজেপি (bjp) শিবিরে যোগদান করা মানেই রাজ্যের শাসক দলের উপর তাদের আস্থা না থাকার চিত্র পরিস্কার।

আরো পড়ুন :রাজ্যসভার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কে ডি সিংহ গ্রেফতার, মুকুলকে গ্রেফতার করা হোক :কুণাল ঘোষ

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই বিমল গুরুং পাহাড়ের বাইরে বসে বিজেপিকে সমর্থন করে জিতিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্ত ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্য সরকারের দেওয়া একাধিক মামলা থেকে নিষ্কৃতি পেতেই এবং পাহাড়ে ফিরে আসার তাগিদেই সম্ভবত তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেছেন। তবে তাঁর এই মত বদলের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তার দলের অন্দরেই। শুরু হয়ে গিয়েছে ভাঙন। যে ২৫ জন নেতা গুরুং শিবির থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছেন গুরুংয়ের পরামর্শদাতা স্বরাজ থাপা, গুরুংপন্থী মোর্চা মুখপাত্র বি পি বাজগাই, তরাইয়ের মোর্চা নেতা শংকর অধিকারীর মতো হেভিওয়েটরা।

তাদের দাবি, তারা গোর্খাল্যান্ডের স্বপ্ন বুকে নিয়ে বিমল গুরুংকে নেতা হিসাবে মেনে নিয়েছিলেন। কিন্ত সেই গুরুং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আত্মসমার্পন করায় তারা গুরুংয়ের সঙ্গ ছাড়লেন। ফলে পাহাড়ে্র রাজনীতিতে গুরুং শিবির বেশ চাপে পড়তে আরম্ভ করে দিয়েছে। একদিকে বিমল গুরুং বনাম বিনয় তামাং গোষ্ঠীর মনমালিন্য তার উপর গুরুং শিবিরে ভাঙন সব মিলিয়ে পাহাড়ের মাটিতে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে পড়তে শুরু করেছে তৃণমূল শিবিরও। এদিকে গুরুং শিবিরে ভাঙ্গন লাগতেই স্বস্তির শ্বাস ছাড়তে শুরু করেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু এই ঘটনাকে ট্রেলর বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, পাহাড়ে আরও বড়ো যোগদান শিবির হবে খুব শিঘ্রই।