দেশের পর্যটকদের স্রোত এখন কক্সবাজারমুখী

1 min read

।। চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ।।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে প্রবেশের জন্য প্রতিদিনই ভিড় করছে শত শত দর্শনার্থী। করোনাকালে ঘরবন্দী মানুষের উড়ুউড়ু মন আর পাঁচমাসের অচলাবস্থার মুখে বাঁধভাঙা জোয়ার এসেছে বাংলাদেশের শীর্ষ ভ্রমণস্পট কক্সবাজারে। করোনার আশঙ্কাকে তুড়ি মেরে ছুটছে সবাই সাগরের নীল জলের দিকে।

শনিবার দুপুরে পুরোদস্তুর করোনার থাবার মধ্যে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে দেখা গেছে সাগর অভিমুখে অসংখ্য ধাবমান গাড়ি। শোঁ শোঁ শব্দে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে সব গাড়ি। উফ, যেন ভাইরাসের গতিকে টেক্কা দিচ্ছে, পিলে চমকে যায়। করোনাকালে নীরবতার সাগরপাড় আবারো সরব হয়ে উঠেছে। কিন্তু কথা থেকে যায়, সবই ঘটছে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে! এদিকে প্রশাসন বলছে, আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে মনিটরিং টিম করা হবে।

৮ ও ৯ আগস্ট গত দুই দিন কক্সবাজার সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সমুদ্র সৈকত খুলে দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই ভিড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা। স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনাকে তোয়াক্কা করছেন না অনেকেই। এমনকি জোয়ার-ভাটার নিয়ম না মেনেও সাগরে নামছেন পর্যটক। সৈকতে পুলিশ ও লাইফগার্ডদের তৎপরতা নেই বললেই চলে। আশঙ্কা রয়েছে, যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

স্থানীয় প্রশাসন বলছে, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ১৭ আগস্টের পর সীমিত আকারে সৈকত খুলে দেয়া হবে। যদিও অনেকেই ভিড় করেছেন। স্থানীয় জনগণদের ওপর আইন প্রয়োগ করতে চাইনি, আমরা মোটিভেট করতে চেয়েছি। ১৭ তারিখের পর নির্দেশনা না মানলে আমরা হোটেল-মোটেলে অভিযান চালিয়ে আইন প্রয়োগ করবো।’

তিনি আরো বলেন, আগস্ট মাসে করোনা সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ৫ লক্ষ মাস্ক বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট চলবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এরপর সবধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা দেয় সরকার। হঠাৎ করে ছুটি পেয়ে সেসময়ে সৈকতে দল বেঁধে পর্যটক আসতে শুরু করে। যদিও পরবর্তীতে সংক্রমণ এড়াতে কয়েক ধাপে সৈকতে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। দেশের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোসহ কক্সবাজারের সব হোটেল-মোটেল পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। ফলে কিছুটা নিজস্ব ছন্দে ফিরে গিয়েছিলো এই সাগরপাড়। কিন্তু পাঁচ মাস বয়সী করোনাভাইরাসকে ভয় নেই বাঙালির।

করোনাকালে কক্সবাজারকে ঘিরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে এখানকার হোটেল মালিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের। সে বিষয়টিকে বিবেচানায় রেখে বন্ধের দীর্ঘ সময় পর আগামী ১৭ আগস্ট কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো ও আবাসিক হোটেল সীমিত পরিসরে খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয় জেলা প্রশাসন। গত ৫ আগস্ট অনলাইন মিটিংয়ের মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ঘোষণার পর থেকে খোলার নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকেরা আসতে শুরু করেছে। অধিকাংশ হোটেল গুলোও প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে তারা তাদের মতো করে পর্যটকদের হোটেল ভাড়া দিচ্ছে।