ঝাঁকে ঝাঁকে জালে ইলিশ, দম ফেলার ফুসরৎ নেয় চট্টগ্রামের জেলেদের

1 min read

।।চট্টগ্রাম ব্যুরো, বাংলাদেশ।।

বাংলাদেশে নিষেধাজ্ঞা উঠার পরপরই চট্টগ্রামের জেলেপাড়ায় বেড়েছে কর্মব্যস্ততা ও উৎসবের আমেজ। কেননা নিষেধাজ্ঞা উঠেছে ইলিশের মৌসুমে। আর ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ অর্জন করেছে বিশ্বের প্রথম স্থান।

চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট, মাঝিরঘাট, চাক্তাই, ফিরিঙ্গিবাজার, কাট্টলী, সীতাকুণ্ড ও আনোয়ারায় উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে বেড়েছে জেলেদের ব্যস্ততা। এরমধ্যে কাট্টলী জেলেপাড়া ঘুরে দেখা যায়, বিরামহীন কর্মব্যস্ততায় দিন কাটছে জেলে পরিবারের। ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ জালে আটকানোর কারণে দম ফেলার ফুসরৎ পাচ্ছে না জেলেসহ তাদের পরিবার। কেউ কেউ উপকূলে, আবার কেউ কেউ গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত।

কাট্টলী জেলেপাড়ার বাসিন্দা জেলে রবীন্দ্র দাস জানান, এখন আমাদের আনন্দের দিন ফিরে এসেছে। সমুদ্রে মাছ ভালো পরিমাণে মাছ ধরা পড়ছে। অথচ একমাস আগেও আমাদের দিন খুব খারাপ কেটেছে। সচরাচর আমরা ইলিশ, লইট্ট্যাসহ অন্যান্য মাছ ধরতে সমুদ্রে যাই। কিন্তু মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকলে আমরা বিভিন্ন রকমের কাজ করি। কেউ কেউ রিকশা চালায়, কেউ কেউ চাষাবাদ করে, আবার কেউ কেউ গার্মেন্টসে কাজ করে। কিন্তু করোনার কারণে আমাদের সব বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমরা কারো কাছ থেকে কোনো সাহায্য পাইনি। এখন ইলিশের মৌসুম চলছে, এরপরে লইট্ট্যার মৌসুম আসবে।

কোন ঘাট দিয়ে মাছ ধরতে যান এবং কোন ঘাটে মাছ বেশি আসছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাছ কম-বেশি প্রায় সব ঘাটে ধরা পড়ে। তবে নিয়ম হলো- যখন গভীর সমুদ্রে ইলিশ মাছ বেশি ধরা পড়ে তখন উপকূলে মাছ কম ধরা পড়ে। আবার গভীর সমুদ্রে যখন মাছ ধরা পড়ে, তখন উপকূলে বেশি ধরা পড়ে। আর এখন উপকূলে মাছ ধরা পড়ছে বেশি। আশা করি, সামনের পূর্ণিমা থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ বেশি ধরা পড়বে। আমি সলিমপুর ঘাট থেকে মাছ ধরতে যাই। সলিমপুর ঘাট থেকে সবাই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। আমরা তিন-চার দিনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে সমুদ্র চলে যাই। মেঘনা নদীর মোহনার কাছাকাছি গিয়ে আমরা জাল বসাই, সেখান থেকে মাছ ধরে আবার ফিরে আসি।

ইলিশ উৎপাদনের সামগ্রিক অবস্থা জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক সুমন বড়ুয়া বলেন, ইলিশ উৎপাদনে গত বছর যে রেকর্ড ছিল, আমরা সে রেকর্ড পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। এবার আরো বেশি রেকর্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। যতটুকু জানতে পারছি, ইলিশ এবার সব জায়গাতেই ভালো পরিমাণে আসছে। প্রকৃত উৎপাদন কত তা জরিপ করে বলতে হবে। আমাদের কাছে এর সম্পূর্ণ তথ্য আসতে আরো সময় লাগবে। তবে আশা করছি এবার এর উৎপাদন, গতবারের চেয়ে ভালো হবে।