বাংলাদেশ-ভারত ট্রান্সশিপমেন্টের প্রথম চালানে বাংলাদেশ যা আয় করলো

1 min read

।। মনির ফয়সাল, বাংলাদেশ ।।

বাংলাদেশ-ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর ও আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় পৌঁছেছে রড ও ডাল। আর এ চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের প্রথম চালান থেকে চট্টগ্রাম বন্দর আয় করেছে ৩০ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস আয় করেছে ১৩ হাজার ১০০ টাকা। এছাড়াও ভাড়া বাবদ বাংলাদেশী জাহাজ এমভি সেজুঁতি আয় করেছে প্রায় দেড় লাখ, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যাপ্ত গাড়ি ভাড়া বাবাব পাওয়া গেছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, এছাড়াও বিভিন্ন চার্জ বাবদ বাংলাদেশ আরো প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করেছে।

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে আখাউড়া ও আগরতলা স্থলবন্দরের শূণ্যরেখায় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে ত্রিপুরা কাস্টমস কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে চালান গ্রহণ করেন। পরে ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ভারতের কাস্টমস কম্পাউন্ডে উপস্থিত থেকে পণ্য গ্রহণ করেন।

জানা যায়, বাংলাদেশের ম্যাঙ্গো লাইন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতের ডার্সেল লজিস্টিক লিমিটেডের পাঠানো পণ্যগুলো পরিবহন করছে কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট আদনান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ট্রানজিট পণ্য পরিবহন বাবদ ভারতকে আলাদা কোনো মাশুল দিতে হচ্ছে না। এমনকি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের মাশুলও প্রযোজ্য হচ্ছে না এ ক্ষেত্রে। উপকূলীয় এলাকায় চলাচল করা অন্যান্য জাহাজের মতো আটটি খাতে মাশুল পাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে প্রথম চালানে বন্দর কর্তৃপক্ষ মাশুল আদায় করেছে পাঁচ খাতে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) মো. জাফর আলম বলেন, ট্রান্সশিপমেন্টের প্রথম ট্রায়াল রানে চট্টগ্রাম বন্দর হ্যান্ডলিং, ক্রেন চার্জ, রিভার ডিউজ, সিএন্ডএফ’র মাশুল ও ভ্যাটসহ ৩০ হাজার ৮৯৯ টাকা আয় করেছে।

কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আদেশ অনুযায়ী, প্রতি চালানের প্রসেসিং মাশুল ৩০ টাকা, প্রতি টনের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট মাশুল ২০ টাকা, নিরাপত্তা মাশুল ১০০ টাকা, এসকর্ট মাশুল ৫০ টাকা, কনটেইনার স্ক্যানিং মাশুল ২৫৪ টাকা ও অন্যান্য প্রশাসনিক মাশুল ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বলেন, ট্রান্সশিপমেন্টের প্রথম দুই চালান থেকে ছয়টি খাতে ১৩ হাজার ১০০ টাকা মাশুল পেয়েছি। দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী এনবিআর যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, সেভাবে মাশুল আদায় করা হয়েছে।

জানা যায়, সরকারি এ দুটি প্রতিষ্ঠানের বাইরে ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির পণ্য পরিবহন করে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করেছে দেশের বেসরকারি খাত। ভারত থেকে জাহাজে করে চার কনটেইনার পণ্য আনা হয়েছে, সেই এমভি সেঁজুতি বাংলাদেশি মালিকানাধীন জাহাজ। ফলে জাহাজ ভাড়া বাবদ ও সড়ক পরিবহন বাবদ অর্থ পাচ্ছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান।

ম্যাঙ্গো শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান বলেন, ট্রানজিটের পণ্য নিয়ে ভারত থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা পর্যন্ত প্রতি কনটেইনার চারশ ডলার হিসেবে চার কনটেইনার পণ্য পরিবহনের জন্য প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় হচ্ছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে চারটি প্রাইম মোভারে আগরতলা পর্যন্ত পণ্য পরিবহনের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন চার্জ বাবদ আরো ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

উল্লেখ, ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবরে দিল্লিতে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য সরবরাহ করতে দুই দেশের চুক্তি হয়। গত ১৬ জুলাই কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ বন্দরে বাংলাদেশি পতাকাবাহী কোস্টাল শিপ এমভি সেঁজুতিতে চারটি কনটেইনার শিপমেন্টের মাধ্যমে ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য পরিবহনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

ভারতের কেন্দ্রীয় শিপিং প্রতিমিন্ত্রী মানসুখ মান্দাভিয়া ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন। জাহাজটি সেখান থেকে প্রথমে হলদিয়া বন্দরে যায়।

ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্যের ৫৩.২৫ মেট্রিক টন রড আর ৪৯.৮৩ মেট্রিক টন ডালের কনটেইনারের পাশাপাশি এই দুই বন্দর থেকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আমাদানি করা বিভিন্ন পণ্যের কনটেইনার নিয়ে জাহাজটি গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে। পণ্য খালাসের পর সড়ক পথে রড ও ডালবোঝাই চারটি ট্রেইলর আখাউড়া স্থলবন্দরে পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার পণ্য খালাস হয়।