Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অঙ্কটা লোভী -ভোগী -ত্যাগীর, সহজেই সমাধান মমতার

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

৩৪ বছরের বাম রাজত্বের পতন ঘটিয়ে ২০১১ সালে বাংলার মসনদে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রাম থেকে সিঙ্গুর আন্দোলনের হাত ধরে পট পরিবর্তন হয় বাংলার। মসনদে বসে বাংলার উন্নয়নের ডাক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই উন্নয়নের জোয়ারে ভাসে বাংলা। কিন্তু কোথাও গিয়ে বারবারই বিগত ৩৪ বছরের কাঁটা কিন্তু বিঁধতেই থাকে শাসকদলের গলায়।

এরই মধ্যে ২০১৯ -এর লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই উথ্থান ঘটে বিজেপির। বাংলায় ১৮টি আসনে জয়লাভ করে ২০২১-এ সরকার গঠনের স্বপ্ন বুনতে শুরু করে দেয় তারা। আর এবার যত বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসছে ততই শাসকদলের ঘাড়ে নি:শ্বাস ফেলছে বিজেপি তা বলাই যায়। রীতিমত সরকার পরিবর্তনেরও ডাক দিয়ে দিয়েছে তারা।

আর এরই মধ্যে করোনা আবহ কোথাও গিয়ে সাধারন মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের জনসংযোগে ঘাটতি। আবার তার মধ্যে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। আর সবথেকে বড় আম্ফান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দলগুলির দুর্নীতির অভিযোগ সবকিছুকে কেন্দ্র করেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে খানিকটা হলেও যে কোণঠাসা তৃণমূল কংগ্রেস, সেরকমই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

আর তাই, করোনা অতিমারি ও লকডাউন পেরিয়ে প্রায় আট মাস পর প্রকাশ্য জনসভায় বিরোধী দলগুলিকে একই আসনে বসিয়ে বিঁধতে ভুললেন না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাঁকুড়ার শুনুকপাড়ি হাট ময়দানের প্রকাশ্য জনসভা থেকে আবারও কংগ্রেস, সিপিএম বিজেপিকে একই আসনে বসিয়ে তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাঁকুড়ার জনসভা থেকে বামেদের লোভী, বিজেপিকে ভোগী বলে কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেত্রী। পাশাপাশি, তৃণমূল কর্মীদের ত্যাগী হওয়ারও পরামর্শ দেন দলনেত্রী। জনসভা থেকে বাঁকুড়া, জঙ্গলমহলে বামেদের অত্যাচারের পুরনো খতিয়ান তুলে ধরে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঁকুড়ার মানুষ কী সেই সব অত্যাচারের দিন ভুলে গেছেন বলেও জনসভায় আসা দশর্কদের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি।

সিপিএমের সেই হার্মাদরাই রঙ বদলে বিজেপির কর্মীতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএম নেতারা সারদা-নারদা মামলা থেকে বাঁচতে বিজেপির পায়ে পড়ে গিয়েছে বলেও কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেত্রী।

পাশাপাশি, বিরােধীরা এ রাজ্যে একটি আসনও পাবে না বলেও দাবি করেন তিনি। এইসঙ্গে, কেন্দ্রীয় কৃষি নীতির সমালােচনা করে বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চাষীদের আলু পিঁয়াজ লুঠ করছে। বিজেপিকে দেশের সবথেকে বড় অভিশাপ দাবি করে বিজেপি দলকে জব্দ করারও নিদান দেন তৃণমূল নেত্রী। বিজেপিকে মিথ্যার ডাস্টবিন বলেও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যকে বিরােধী শূন্য কারার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি আগামীদিনে সিপিএম কংগ্রেস ও বিজেপি নির্মূল হবে বলেও দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলকে হারাতে তিন দল এক হয়েছে বলে শুনকপাহাড়ীর সভা থেকে অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘জগাই,-মাধাই-গদাই এক হয়েছে। শুনকপাহাড়ীর সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের প্রতি তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন নারদা-সারদা থেকে বাঁচতে বিজেপির পায়ে গিয়ে পড়ে গিয়েছে সিপিএম। তিনি বলেন, সিপিএম-এর অবস্থা দেখে লজ্জা হয়।

পাশাপাশি, বিজেপি নেতারা ভোটের সময় টাকা উড়িয়ে ভোট করান বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূল দলনেত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেউ কেউ ভাবছেন , বাইচান্স ওরা ক্ষমতায় চলে আসতে পারেন, তাই তলে তলে যোগাযোগ রাখছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপি কোনও দিন বাংলায় ক্ষমতায় আসবে না। আর এরপরই তাকে বলতে শোনা যায় সিপিএম লোভী, বিজেপি ভোগী এবং তৃণমূল ত্যাগী। তিনি বলেন, তৃণমূল করতে গেলে ত্যাগী হতে হবে।

তিনি বলেন, ”রাজনীতিতে তিন ধরণের লোক হয় লোভী, ভোগী ও ত্যাগী৷ সিপিএম ছিল লোভী, বিজেপি হল ভোগী৷ আর তৃণমূল করতে হলে আপনাদের ত্যাগী হতে হবে৷ ওদের পাল্লায় পড়বেন না৷” এদিনের জনসভা থেকে বিজেপি ও সিপিএমকে একসঙ্গে তুলোধনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি এদিনের সভা থেকে বিরোধীদের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “ক্ষমতা থাকলে আমাকে জেলে ভরুন। সেখান থেকেও তৃণমূলকে বাংলায় ক্ষমতায় আনব।”

আরো পড়ুন :লাল সেলাম কমেন্টস, ধর্মঘট সফল, দাবি সেলিমের

এদিনের জনসভা থেকে নাম না করেই কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপিকে তুলোধোনা করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “সারা বছর রাজ্যের মানুষকে দেখে না। নির্বাচনের আগে এলাকার মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে দিচ্ছে কেউ কেউ।” পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কৃষিবিল, ১০০ দিনের কাজ-সহ একাধিক ইস্যুতেও সরব হন তিনি।

আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কটাক্ষ, বামেরা লোভী, বিজেপি ভোগী ও তৃণমূল ত্যাগী, তার জবাবে বাম পরিষোদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী প্রথম কলকাতার ক্যামেরার সামনে বলেন যে, ‘সবই তো করেছেন এবার পশ্চিমবঙ্গে মিথ্যাশ্রী বলে একটা পুরস্কার চালু করতে পারেন’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। তিনি বলেন ‘সিপিএম লোভী, ভোগী আর তৃণমূল ত্যাগী বললে লোকে হাসবে’।

তিনি বলেন, ‘প্রকাশ করা হোক, ২০১১ কার কী সম্পদ ছিল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আর ২০২০ তে কার কী হয়েছে ? তাহলেই বোঝা যাবে কে লোভী আর কে ত্যাগী’। ব্যানার্জি পরিবারের সম্পত্তি নিয়েও কটাক্ষ করেন সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘লোভী, ভোগী, মিথ্যাচারী, স্বৈরাচারী তৃণমূল’। এইভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষের জবাব দেন সুজন চক্রবর্তী।

আর এই বিষয়ে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘ মুখ্যমন্ত্রীর এই ছন্দবদ্ধটা, তার এই কবি মন। তিনি যেভাবে সুন্দর ভাবে বলেছেন মানুষের সামনে। মানুষকে কতটা উদ্দীপ্ত করতে পারবে কিংবা তার কর্মীদের কতটা উজ্জীবিত করতে পারবে জানা নেই। কিন্তু মানুষ আনন্দ পেয়েছে তার এই বক্তব্য শুনে’। ‘এই ছন্দবদ্ধটা কাম্য’ বলেও মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোভী-ভোগী-ত্যাগী মন্তব্য যে বঙ্গ রাজনীতিতে শীতের মরসুমে উত্তাপ ছড়িয়েছে তা বলাই যায়।