Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

মাঠ চেনা, প্লেয়ার পুরনো, কিন্তু ঝান্ডাটা নতুন, চেনা লোকের নতুন রূপ, শুভেন্দু অধিকারী

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

‘চেনা লোককে নতুন রূপে দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন ?’ ভগবানপুরের অর্জুন নগরে ভারতীয় জনতা পার্টির তফসিলি মোর্চার জনসভা থেকে এইভাবেই জনগনের উদ্দ্যেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari)। তিনি বলেন, ‘মাঠ চেনা, প্লেয়ার পুরনো, ঝান্ডাটা নতুন, আর প্রতীকটা জাতীয় ফুল’। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি এই কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু তখন তাকে তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালোবেসে সেদিন প্রতীক দেয়নি’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘ঠ্যালায় না পড়লে বেড়াল গাছে ওঠেনা, সেদিন প্রার্থী না পাওয়া যাওয়ার কারনে তরুন শুভেন্দুকে ১৫ দিন আগে মাঠে নামিয়ে কিরণময় নন্দের বিরুদ্ধে তাকে দাঁড় করানো হয়’ বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari)। মন্চ থেকেই তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘মায়েরা যেমন ঘর বা বাথরুম পরিস্কার করে তেমনই তৃণমূল কংগ্রেস প্রাইভেট কম্পানিকে পরিস্কার করতে গেলে আমাদের গ্রামে গ্রামে আসতে হবে।’

‘যেখানে গাড়িতে যাওয়া যাবেনা সেখানে বাইকে করে যাবেন’ বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari)। ‘এই এলাকা একদম হাতের তালুর মত চেনা বুথে বুথে যাতায়াত আছে।’ বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সকলকে আশ্বস্ত করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তার পুরনো দলের জন্য তিনি যদি ১০ করে থাকেন তাহলে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে হৃষ্ট পুষ্ট বলিষ্ট করে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে গণতান্ত্রিকভাবে এই প্রাইভেট লিমিটেড কম্পানিকে তুলে ফেলে দেওয়ার জন্য ১০-এর বদলে ১০০ ভাগ কাজ করব’, বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গে বেকারদের চাকরি ও শিল্প আসার বিষয় নিয়েও তোপ দাগতে ছাড়েননি শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তোপ দেগে বলেন, ‘কেউ দেখাতে পারবেন না গত সাড়ে ন বছরে একটাও বড় শিল্প এসেছে রাজ্যে। প্রত্যেক বছর ৫০ কোটি ৬০ কোটি টাকা খরচ করে বিজিবিএস (BENGAL GLOBAL BUSINESS SUMMIT)-এর নামে পশ্চিমবঙ্গে খানাপিনা মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করা। হাততালি নেওয়া এবং গল্প গুজব আড্ডা আর কিছু মৌ চূক্তি যার বাস্তব প্রয়োগ হয়নি’ বলেও তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী।

এর পাশাপাশি, PM Kishan Nidhi Yojnaর বিষয তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘এখানে ৯৫ ভাগ মানুষ কৃষির উপরে নির্ভর করেন।’ ‘আজকের গোটা ভারতবর্ষের মানুষ ৯ কোটি কৃষক পরিবার PM Kishan Nidhi Yojnaতে তারা বছরে ৬ হাজার করে টাকা পেলেন। পশ্চিমবঙ্গের ৭৩ লক্ষ কৃষককে বন্চিত করা হল।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপির প্রত্যেকটা সভাতে প্রত্যেক নেতারাই এই বিষয়ে সরব হয়েছেন। আর এখন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বলছেন যে রাজ্যের কিষাণদের এই প্রকল্পের অন্তর্গত করবেন।’ তার মন্তব্য, ‘ভোট আসছে, তিনি বুঝে গেছেন যে এই মিথ্যাচার এই দ্বিচারিতা এই বন্চনা আমাদের যারা শস্যভান্ডার তৈরি করেন যারা আমাদের গর্ব। সেই কৃষকরা পশ্চিমবঙ্গে এই তৃণমূল কংগ্রেস প্রাইভেট কম্পানির সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইছে।’ ‘তাই আজকে তিনি PM Kishan Nidhi Yojna দেবেন বলছেন’ বলে তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari)। ‘আপনাদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ১৪ হাজার টাকা থেকেও পশ্চিমবঙ্গের ৭৩ লক্ষ কৃষক বন্চিত হয়েছে’ বলেও তোপ দাগেন তিনি।

পাশাপাশি, তার প্রশ্ন ‘আজকে সাড়ে ন বছর পরে কেন স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড ? যমের দুয়ারে সরকার ?’ তার প্রশ্ন ‘সাড়ে ন বছর কোথায় ছিল এরা ? এর আগে তিন কোটি লোককে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড দিয়েছে সেই স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডে একজনও চিকিৎসার সুযোগ পায়নি’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তার মন্তব্য, ‘আওয়াজ তুলতে হবে পিএম কিষনের মত যে আমাদের আয়ুষ্মান ভারত দিতে হবে।’ এছাড়া, আম্ফান দুর্নীতি নিয়েও তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari)। তিনি বলেন, ‘গরু নেই ঘরে তাও গরু মারা গেছে বলে টাকা নিয়েছে।’ পাশাপাশি তার মন্তব্য, ‘আমার কাছে তালিকা আছে। প্রধানমন্ত্রীর ১ হাজার কোটি দিয়েছিলেন ঝেড়ে ফাঁক করে দিয়েছে।’ বাংলা আবাস যোজনা নিয়ে তার প্রশ্ন ‘ওটা কী বাংলা আবাস যোজনা ? না, ওটার নাম প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা।’ ‘বাড়িতে বাড়িতে বাথরুম করেও সেখানেও টাকা ঝেড়েছে’ বলেও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari)।

‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প স্বচ্ছ ভারত প্রকল্প, এখানে নাম বদলে করেছে নির্মল বাংলা অভিযান।’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। ‘তাই এই মিথ্যাচার করা পার্টিকে বিদায় দিতে হবে’ বলেও মন্তব্য করার পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘আমার উপর খুব রাগ না ? পায়ে কাঁটা ফুটেছে। শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে কেন গেল ? আন্চলিক দলতো করতে পারতো।’ তার মন্তব্য, ‘তাহলে কিছু ভোট কেটে তোমায় সুবিধে করে দিতাম। আর আমি মরে যাওয়ার পরে আমার ভাইপো এই পার্টির নেতা হত।’ ‘অমিত শাহ বলে গেছেন ইস পার দোস পার, ভগবানপুরতো জিতে গেছে হাওয়া বলছে’ বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari)। ‘আর হপ্তায় হপ্তায় হাট বারের মত পুলিশের ওসি বদল করছেন মাননীয়ার নির্দেশে।’ বলেও তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari)। পাশাপাশি ‘পুরনো বামপন্থী কর্মীদের বার্তা ভাই ভিতরে ভিতরে সিপিএম করোনা এবারের ভোটে অন্তত।’পাশাপাশি একদম শেষে নাম না করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য তুলে তিনি বলেন, ‘শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেছেনা, মেদিনীপুরে নাকি বিশ্বাসঘাতক জন্মায়। মেদিনীপুরের মানুষদের এই কথার জবাব ভোটে দিতে হবে।’ তার মন্তব্য, ‘মেদিনীপুরে বিশ্বাসঘাতক জন্মায় না বিদ্যাসাগর জন্মায়।’ এছাড়া, সভার একদম শেষে আগামী ১৯ তারিখের সভায় লক্ষাধিক মানুষের জমায়েতের আহ্বান জানান শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari)।