শিক্ষা ব‍্যবস্থা রাজনৈতিক ভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, অভিযোগ রাজ‍্যপালের

।। রাজীব ঘোষ।।

রাজ্যপাল কে এড়িয়ে কেন উপাচার্যরা ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিলেন না? পড়ুয়াদের স্বার্থের কথা ভেবে কেন উপাচার্য রাজ্যের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছেন? প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকার। করোনা আবহে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বিতর্কে রাজ্যের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি সংঘাতে নামলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধানকর।

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজনীতিকরণের প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ করেছেন তিনি। বেশকিছু উপাচার্যকে শোকজ করেছেন রাজ্যপাল। এদিন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকার সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে তিনি কলেজের ভর্তির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন নিয়ে অভিযোগ তোলেন। শিক্ষায় আর্থিক পোষণ অপরাধের শামিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ইউজিসি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে বলছে কিন্তু রাজ্য বলছে পরীক্ষা নেবে না। এই সংঘাতের মধ্যে পড়ুয়াদের এক বছর নষ্ট হলে কিভাবে ক্ষতি পূরণ হবে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার মান ক্রমাগত নামছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যপাল। রাজ্যের শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এদিন তিনি বলেন গত ১৫ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি লিখে জানিয়েছিলাম কেন আচার্য কে এড়িয়ে শিক্ষা সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধি কার্যকর হচ্ছে। ছয় মাস কেটে গেল মুখ্যমন্ত্রী জবাব দেওয়ার সময় পাননি। উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠকের কথা বললেও রাজ্য সরকার শোনেনি। এই বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চিঠি দিয়ে জানানো হয়।

কারণ এর পিছনে পড়ুয়াদের স্বার্থ যুক্ত। কোনো রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা এমন সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সরকার বলেছে ভার্চুয়াল বৈঠকের কোনো নিয়ম নেই। শিক্ষায় অবহেলা পরবর্তী প্রজন্মকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এই রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

মানুষের কাছে সরকার দায় বদ্ধ। সেই কথা বলাই আমার কাজ। রাজ্য কে জানানো গেলেও শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনীতি চলছে। প্রসঙ্গত, উপাচার্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু উপাচার্যরা সেই ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেননি। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সেই বিষয়েই রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ করেন রাজ‍্যপাল জগদীপ ধানকর।