Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

এই তিন জেলার আসন ধরে রাখাটাই চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের কাছে

1 min read

।। ময়ুখ বসু ।।


রাজ্যে তৃতীয় দফার ভোটে উনিশের লোকসভা ভোটের নিরিখে এগিয়ে থাকা আসনগুলিকে ধরে রাখাই এখন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে চ্যালেঞ্জ। তৃতীয় দফায় রাজ্যের ৩১ টি বিধানসভা আসনে চলছে ভোটগ্রহণ। যে আসনগুলিতে এদিন ভোটগ্রহণ হবে তার অধিকাংশ আসনই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। এদিন ভোটগ্রগণ চলছে রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া ও হুগলি জেলার মোট ৩১ টি বিধানসভা আসনে। ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান মতে এই ৩১ টি আসনের ২৯ টিতেই জয়লাভ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস।

বাকি দুটি আসন গিয়েছিল বাম-কংগ্রেস জোটের দখলে। একটি পেয়েছিল বামেরা অন্যটি পেয়েছিল কংগ্রেস। সেই সময় বামেরা জয় পেয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার কুলতলি আসনে এবং কংগ্রেস জয় পেয়েছিল হাওড়ার আমতা আসনে। তবে এই দুটি আসন বাদ দিয়ে বাকি আসন দখলে নিয়েছিল তৃণমূল। ফলে সেই সাফল্য এবারে ধরে রাখাই তৃণমূলের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিরাট শক্তি সঞ্চয় করে তৃণমূল ক্ষমতায় এলেও ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে এসে তৃণমূলকে বেশ খানিকটা ধাক্কা খেতে হয় বিজেপির কাছে।

বিজেপি গত তিন বছরে রাজ্যে বেশ অনেকটাই শক্তি বাড়িয়ে নিয়েছে। উনিশের লোকসভা ভোটে বিজেপি বাংলায় ২ টি থেকে ১৯ টি আসন দখল করে নেয়। তবে এদিন তৃতীয় দফায় যে আসনগুলিতে ভোট হচ্ছে সেখানে অবশ্য তৃণমূলের শক্তি অটুট থাকে। ফলে এবারে তৃণমূল চাইছে উনিশের ভোটব্যাঙ্ককেই যেন তেন প্রকারেণ ধরে রাখতে। তাহলে ৩১ টি আসনের মধ্যে ২৯ টি আসনই ফের দখলে রাখতে পারবে তারা। উনিশের লোকসভা নির্বাচনেও এই ৩১ টি আসনের মধ্যে ২৯ টি আসনেই এগিয়ে ছিল তৃণমূল। যে দুটি আসনে তৃণমূল পিছিয়ে পড়েছিল সেই দুটি আসনে এগিয়ে ছিল বিজেপি।

আরো পড়ুন : আনকোরা প্রার্থীদের সাথে পোড় খাওয়া রাজনীতিকদের লড়াই আজ,নজরে কারা?

তবে মজার বিষয় হলো, ২০১৬ সালে বাম ও কংগ্রেস যে দুটি আসনে জিতেছিল সেই দুটি আসনে নয় উল্টে তৃণমূলের জেতা দুটি আসনেই উনিশের লোকসভা নির্বাচনে এগিয়ে যায় বিজেপি। সেই আসন দুটি হলো হুগলির পুরশুড়া ও গোঘাট বিধানসভা কেন্দ্র। উনিশের লোকসভা ভোটে বরং তৃণমূল ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাদের হেরে যাওয়া আসন কুলতলি এবং আমতায় এগিয়ে যায়। ফলে এবারে তৃণমূল চাইছে, ২০১৬ নয়, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের ফলাফলকে ধরে রাখতে পারলেই কেল্লাফতে।

এদিকে উনিশের লোকসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, এই ৩১ টি আসনেই ভোট শতাংশ বেড়েছে তৃণমূলের। এই ৩১ টি আসনে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভোট শতাংশ যেখানে ছিলো ৫০,১৮ শতাংশ, এখানে উনিশের লোকসভা ভোটে এসে তৃণমূলের ভোট শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫১,০৫ শতাংশ। মূলত এই ৩১ টি কেন্দ্রে উনিশের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমুলের ভোট শতাংশ বেড়েছে ০,৮৭ শতাংশ। ফলে এবারে তৃণমূল চাইছে মাত্র এক বছর আগে হয়ে যাওয়া লোকসভা ভোটের ফলাফলকে ধরে রাখতে।

আর তাহলেই একুশের তৃতীয় দফার ভোটে বিজেপিকে রীতিমতো ব্যাটে বলে লাগিয়ে ছক্কা হাঁকাতে পারবে তারা। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, ২০১৯ সালের পর মধ্যে কেটে গিয়েছে প্রায় দুটি বছর। আর এই দুই বছরে বিজপি যেমন শক্তি বাড়িয়েছে, তেমনি ভেঙেছে তৃণমূলও। রাজ্যেরশাসক দলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও দুর্নীতির আঙুল তুলে সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধীরা। ফলে তৃতীয় দফার ভোটে তৃণমূল তাদের জমি ধরে রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে এখন স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা বাড়ছে।