Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

গাছেরও মস্তিষ্ক!

1 min read

||কলকাতা ডেস্ক||

গাছেরও রয়েছে মানুষের মতো বুদ্ধি ও অনুভব ক্ষমতা!
বিংশ শতাব্দীর গোঁড়ার দিকে গাছে নিউরোবায়োলজি নিয়ে কাজ করেছেন বাঙালি উদ্ভিদবিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু। তিনি গবেষণায় দেখতে পেয়েছিলেন, মরফিন মানুষের ক্ষেত্রে যে ক্রিয়া করে, গাছের ক্ষেত্রেও একই ক্রিয়া করে। অ্যালকোহল ব্যবহার করেও তিনি দেখিয়েছেন মানুষের অপ্রকৃতিস্থ হয়ে যায়।

গাছের জীবন আছে এ কথা নতুন কিছু নয়। জীবের তো জীবন থাকবেই। তবে কি গাছে মস্তিষ্ক রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর অনেক বিজ্ঞানীই খুঁজেছেন। গত কয়েক শতাব্দী ধরে গোথে, লুথার বারব্যাংক, জর্জ ওয়াশিংটন কারভার, মাসানবু ফুকৌকা, জগদীশ চন্দ্র বসু এবং নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী বারবার ম্যাকক্লিনটক এর মত বিজ্ঞানীরা গাছের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিন্তু কেউ আসলে সঠিক জায়গাতে খেয়াল করেননি।

গবেষণায় দেখা গেছে গাছেরও বুদ্ধিমত্তা রয়েছে এবং তা অনেকটা মানুষের মতোই। তাদেরও অনুভূতি রয়েছে। তারাও দুঃখ অনুভব করতে পারে। একটা সময় ভাবা হতো গাছ অচেতন জীব। এর চেতনা নেই। অনেকে এখনও তাই বিশ্বাস করে। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে গাছ গতিশীল এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল জীব। টিকে থাকার জন্য এরা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের খাদ্য খুঁজে। আশপাশের পরিস্থিতিও এরা বুঝতে পারে।

নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে গাছকে বিবেচনা করা হয় চেতন জীব হিসেবে। এরা তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এরা নিজের মধ্যে যোগাযোগও করতে পারে। এরা দুঃখ কষ্টও বুঝতে পারে। গাছ পরিবেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনও করতে পারে এবং সংকেত পাঠাতে পারে। এমনকি অন্যান্য গাছ, ছত্রাক, নেমাটোড, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পোকামাকড় এবং শিকারি প্রাণীর সঙ্গেও যোগাযোগ এবং মিথস্ক্রিয়া করতে পারে।

স্ব-সংগঠিত সিস্টেম এর সাহায্যে গাছ সবসময় নিজেদের এবং বাইরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অনুভব করতে পারে। নিজেদেরও ওপর পরিবেশিক কোনো প্রভাব ক্রিয়া করলে গাছ সাড়া প্রদান করতে পারে। লেখক এবং গবেষক ট্রেওয়াভাস এর মতে গাছের চেতনা এবং সাড়াদান উচ্চ বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ দেয়। সানডিও এর মতো অনেক গাছ স্পর্শে সাড়া দেয়। এমনকি গাছটি এক মাইক্রোগ্রামেরও কম ওজন শনাক্ত করতে পারে এবং তাতে সাড়া দিতে পারে। গাছেরা এটিও বুঝতে পারে কোন জিনিসের স্পর্শ তারা পাচ্ছে। অনেক গাছ ভবিষ্যতের জন্যও পরিকল্পনা করতে পারে।

[ আরো পড়ুন :সাইবেরিয়ায় জমে বরফ ডিম ও নুডলস ]

গাছের মস্তিষ্কঃ
স্বাভাবিকভাবে দেখলে গাছের ‘মাথা’ ও ‘পা’ দেখা যায়। উপরে ডালপালা এবং পাতার ছাউনিকে ধরে নেওয়া হয় মাথা হিসেবে। নিচের দিকে রয়েছে পা অর্থাৎ মাটির গভীরে থাকা শেকড়। কিন্তু আমরা যেভাবে দেখি তা একেবারেই ঠিক নয়। জটিলভাবে দেখতে গেলে দেখা যাবে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর দেহের অগ্রভাগের অংশেই তথ্য প্রক্রিয়াজাতের কাজটি চলে, যেখানে মস্তিষ্ক রয়েছে।, অন্যদিকে প্রজনন এবং রেচন অঙ্গের অবস্থান নিচের দিকে। কিন্তু এই দিক থেকে বিবেচনায় গাছ একেবারে উল্টো। তাদের মাথা থাকে নিচের দিকে এবং পশ্চাৎ অংশ থাকে উপরের দিকে বাতাসে।

এক জায়গা থেকে গাছ যখন কোনো গাছকে তুলে এনে নতুন জায়গায় নিয়ে আসা হয় তখন, এটি নতুন পরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা করতে পারে। নিউরনাল সিস্টেমের সাহায্যে গাছ নতুন মাটি এবং আশেপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কেও ধারণা পেতে পারে। অল্প কথায় বলতে গেলে গাছে উন্নত চেতন সম্পন্ন মস্তিষ্ক রয়েছে, যা তথ্য গ্রহণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সাড়া দিতে পারে। গাছের মস্তিষ্কের কার্যকরী গঠন পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। গাছের নিউরাল নেট বা মস্তিষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে তুলনীয়।

গাছের মূল বা শেকড় চূড়াগুলো সংবেদনশীল আঙুলের মত। এসব চূড়াগুলো সেন্সরি অরগান এবং মস্তিষ্কের নিউরন এর সমন্বয়। প্রতিটি রুট অ্যাপেক্স নিউরোনাল অরগান হিসেবে কাজ করে। মানুষের মস্তিষ্কে রয়েছে ৮৬ মিলিয়ন নিউরন রয়েছে। এর মধ্যে সেরেব্রাল কর্টেক্সে থাকে ১৬ মিলিয়ন নিউরন। রাই জাতীয় শস্যের ক্ষেত্রে দেখা যায় ১৪ মিলিয়ন নিউরন রয়েছে।

বিংশ শতাব্দীর গোঁড়ার দিকে গাছে নিউরোবায়োলজি নিয়ে কাজ করেছেন বাঙালি উদ্ভিদবিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু। তিনি গবেষণায় দেখতে পেয়েছিলেন, মরফিন মানুষের ক্ষেত্রে যে ক্রিয়া করে, গাছের ক্ষেত্রেও একই ক্রিয়া করে। অ্যালকোহল ব্যবহার করেও তিনি দেখিয়েছেন মানুষের মতই গাছও অপ্রকৃতিস্থ হয়ে যায়। তিনি যেসব রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করেছিলেন, সেগুলো মানুষের চেতনে যে প্রভাব ফেলে, গাছের ক্ষেত্রেও একই প্রভাব ফেলে।

গাছের সামাজিক যোগাযোগঃ
গাছ অন্যান্য জীবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া, ফানজাই এবং অন্যান্য গাছের সঙ্গে মিথোজীবীতার সম্পর্ক গড়ে তোলে গাছ। ব্যাকটেরিয়া কলোনি গাছের নাইট্রোজেনের যোগানদাতা। বিনিময়ে ব্যাকটেরিয়া গাছ থেকে পুষ্টি পেয়ে থাকে। একটি গাছ অন্য গাছকে মাইসেলিয়াল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রাসায়নিক সংকেত পাঠাতে পারে। এই নেটওয়ার্কে কোনো গাছ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন অন্যান্য গাছ অসুস্থটির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান পাঠায়।

ইকোরেঞ্জে গাছ বিরতিহীনভাবে বাতাসের মধ্য দিয়েও সংকেত আদান প্রদান করে থাকে। গাছ অবিরত বাতাসে সংকেত পাঠাতে থাকে। এই সংকেত অন্য গাছ স্টোমাটার মাধ্যমে গ্রহণ করে এবং বিশ্লেষণপূর্বক সাড়া দেয়।