Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অধীরের কথায় আরও সুবিধা পেয়ে যেতে পারে বিজেপি

।। প্রথম কলকাতা ।।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বুধবার কলকাতা প্রেসক্লাবে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু হয় না। আসলে রাজনীতি হচ্ছে সম্ভাবনা শিল্প। কোন প্রশ্নের উত্তর এমন কথা বলেছেন তিনি? অধীরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নির্বাচনের পর প্রয়োজনে কংগ্রেস কী তৃণমূলকে সমর্থন করতে পারে? সেই প্রশ্নের উত্তরে এমন কথা বলেছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

একুশের নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে। যদিও রাজ্যের কয়েকটি জেলায় কংগ্রেসের ভাল ভোট ব্যাঙ্ক রয়েছে। তারা বেশ কয়েকটি আসনে জিততে পারবে বলে মনে করছে সবাই। বলাবাহুল্য সেই ভোটাররা তীব্র তৃণমূল বিরোধী। কিন্তু অধীর এদিন যেকথা বলেছেন, তাতে কংগ্রেসের সেই ভোটাররা হাত শিবিরের পাশে থাকবেন তো? কারণ তৃণমূলের বিরোধিতা করেই তাঁরা কংগ্রেসকে ভোট দিতে চান। সেখানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভোটের পরে প্রয়োজনে তৃণমূলকে সমর্থনের বিষয়টি যখন উড়িয়ে দিতে পারেননি, তখন সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।

স্বাভাবিকভাবেই অধীরের এই বক্তব্যে উল্লসিত বিজেপি। কারণ কংগ্রেস ভোটারদের একটা অংশ সেক্ষেত্রে পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তৃণমূলকে হারানোর জন্য বিজেপিকে ভোট দিতে পারেন বলে গেরুয়া শিবির মনে করছে। এতে তৃণমূলকে আরও কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে পড়তে হবে। উল্লেখ্য মালদা এবং মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস এখনও বেশ শক্তিশালী। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপির ভোট আগের চেয়ে বেড়েছে। তাই পদ্ম শিবির মনে করছে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের মধ্যে ভোট কাটাকাটি হলে, হিন্দু ভোট যদি তাদের দিকে এককাট্টা হয়, তবে ওই জেলা থেকে বেশ কয়েকটি আসন তারা জিততে পারে।

সেখানে কংগ্রেসের ভোটের একটা অংশ যদি এবার তাদের দিকে চলে আসে, তবে জয় নিয়ে আরও আশাবাদী হবে তারা। মনে রাখতে হবে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতির প্রয়োজনে কংগ্রেস বাধ্য তৃণমূলকে সমর্থন করতে। সেই দিকটি মাথায় রেখেই অধীর এমন কথা বলেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর সেখান থেকেই ফায়দা নিতে চায় বিজেপি। যদিও বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব কোনও মন্তব্য করতে চাননি।