Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

সিঙ্গুরে শিল্প চেয়ে রাজ্যবাসীকে পজিটিভ বার্তা দিচ্ছে বিজেপি, নেতৃত্বে লকেট

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

২০০৬ সাল। রাজ্য রাজনীতি আলোড়িত হয়ে গিয়েছিল হুগলির সিঙ্গুরের ঘটনায়। বলাবাহুল্য তার আগে সিঙ্গুরের নাম সেভাবে জানতেন না অনেকেই। কিন্তু টাটাগোষ্ঠী সিঙ্গুরে শিল্প করতে চেয়ে এগিয়ে এসেছিল। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা না বলে তিন ফসলি জমি দখল করেছিল রাজ্য সরকার। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অনড় ছিলেন সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা স্থাপন করার ব্যাপারে। উল্টোদিকে সেই সময়কার প্রধান বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এর তীব্র বিরোধিতা করে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। অবশেষে চূড়ান্ত পরিণতির কথা সকলেই জানেন। প্রবল বাকবিতণ্ডা এবং আন্দোলনের ফলে শিল্পের পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় সিঙ্গুরে। টাটাগোষ্ঠী একদিন জানিয়ে দেয় তারা পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় নিচ্ছে। উল্লেখ্য তৃণমূলের সেই আন্দোলনে যারা শরিক ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন বিজেপিতে রয়েছেন।

মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীরা তখন আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় একটা সময় তৃণমূলে গিয়েছিলেন। শুধু লকেট বলে নন, সিঙ্গুরে জোর করে জমি দখল করছে রাজ্য সরকার, এই অভিযোগ এনে বাংলার বুদ্ধিজীবীরা পথে নেমেছিলেন। কিন্তু সেদিনের ঘটনা বা পরিণতি তৃণমূলকে এখন নিঃসন্দেহে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। রাজ্যে বেকার সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। বাংলার যুবক-যুবতীরা চাকরির উদ্দেশ্যে ভিন রাজ্য বা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সিঙ্গুরে শিল্প করার দাবি জানাচ্ছে বিজেপি (bjp)। অবশ্যই এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। ঘটনাচক্রে সিঙ্গুর বিধানসভা কেন্দ্রটি হুগলি লোকসভার অন্তর্গত। গত লোকসভা নির্বাচনে ফলের ভিত্তিতে এখান থেকে লকেট বিপুল লিড পেয়েছিলেন।

তাই ইদানিং দেখা যাচ্ছে লকেট বারবার সিঙ্গুর যাচ্ছেন। বলছেন বিজেপি ক্ষমতায় এলে এখানে শিল্প গড়ে উঠবে। সেদিনের ভুল বুঝতে পেরে মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি নবান্ন থেকে ঘোষণা করেছেন, সিঙ্গুরে অ্যাগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রি গড়ে উঠবে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাতে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অর্থাৎ একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিঙ্গুর নিঃসন্দেহে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। মূলত সিপিএম বিরোধিতা করে তৃণমূলের উত্থান। অন্য কোনো স্ট্যান্ডপয়েন্টকে ভিত্তি করে তৃণমূল দল তৈরি হয়নি। সিপিএম তথা বামেরা রাজ্য থেকে বিদায় নিয়েছে একদশক হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ তৃণমূলের প্রবল সিপিএম বিরোধিতা এখন আর প্রাসঙ্গিক নয় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। এই অবস্থায় বিজেপি চাইছে উন্নয়নের ধ্বজা তুলে ধরতে।

আরো পড়ুন : বাংলাদেশের স্লোগান জয় বাংলা বলা যাবে কিন্তু জয় শ্রীরাম বলা যাবেনা, মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ লোকেটের

এ ব্যাপারে বিজেপি অন্যান্য রাজ্যের কথা তুলে ধরছে যেখানে তারা ক্ষমতায় রয়েছে। সেখানে কি কি উন্নয়ন হয়েছে সেই ফিরিস্তি বিজেপি নেতৃত্বকে নিয়মিত তুলে ধরতে দেখা যায়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাই সিঙ্গুরে বিজেপি যেভাবে শিল্প করার পক্ষে সরব হয়েছে, সেটা অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। তাই দেখা গিয়েছে মুকুল রায় এবং শুভেন্দু অধিকারী বলছেন,” সিঙ্গুরে আমরা আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম। আমরা অত্যন্ত ভুল কাজ করেছি। এর জন্য রাজ্যবাসীর কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি। সেটা অনুচিত কাজ হয়েছে। ” অর্থাৎ উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার। বিজেপি বোঝাতে চায় ধ্বংসাত্মক নয়, তারা রাজ্যবাসীকে পজিটিভ বার্তা দিতে চায়। তাই বিজেপি নেতারা বলছেন ক্ষমতায় আসলে তাঁরা সিঙ্গুরে অবশ্যই শিল্প করবেন।

উল্লেখ্য এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। বহুদিন ধরেই তিনি মাঠে, ময়দানে নেমে রাজনীতি করছেন। একটা সময় তৃণমূলে গিয়েছিলেন। পরে মত বদল করেন। লকেট লকডাউনের পর বেশ কয়েকবার সিঙ্গুরে গিয়েছেন। সেখানকার মানুষদের সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন শিল্পের পক্ষে জোরালো হাওয়া তুলতে। সেখানে তিনি অনেকটা সফলও হয়েছেন। তাই দেখা গেছে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিজেপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সিঙ্গুরের সাধারণ মানুষ বলছেন, আমাদের জমি চাষ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কারণ জমি অধিগ্রহণের পর তখন কংক্রিটের কাঠামো তৈরি হয়ে যায়। সেই জমি পুনরায় চাষযোগ্য করা যায়নি।

সেখানে চাকরির জন্য বহু যুবক-যুবতী ট্রেনিং পর্যন্ত নিয়েছিলেন। তাই আমরা চাই এখানে শিল্প হোক। এমন দাবি উঠতে শুরু করে দিয়েছে। আর সুকৌশলে বেকারদের কর্মসংস্থানের আবেগ উস্কে দিতে চেয়েছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। বিজেপি এখন থেকেই চাইছে রাজ্যবাসীর মধ্যে পজিটিভিটি বাড়িয়ে তুলতে। নির্বাচনের আগে দলীয় ইস্তাহারে কর্মসংস্থানের জন্য কি কি ভেবেছেন নেতৃত্ব, সেটা অবশ্যই স্থান পাবে বড় আকারে। উল্লেখ্য বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বারবার অভিযোগ করে বলেন, গত ১০ বছরে আমরা দেখিনি মুখ্যমন্ত্রী কোনো কারখানার উদ্বোধন করছেন। তিনি খালি খেলা, মেলা এবং প্রচুর উৎসবের উদ্বোধন করেন।

অর্থাৎ তৃণমূলকে খোঁটা দিয়ে বিজেপি এটাই বোঝাতে চায়, তরুণ প্রজন্মের জন্য তৃণমূল কিচ্ছু করেনি এবং আগামীদিনেও করবে না। উল্লেখ্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় সাড়ে কুড়ি লক্ষ নতুন ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভায় গড়ে প্রায় ৭ হাজার করে নতুন ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে। এই অংশকে কোনো দল হাতছাড়া করতে চাইবে না, এটাই স্বাভাবিক। তাই তরুণ প্রজন্মকে বিশেষ বার্তা দিতে তৎপর বিজেপি। এক্ষেত্রে বহুচর্চিত সিঙ্গুরকে সামনে নিয়ে এসে সেখানে ভারী শিল্প গড়ে তোলার ব্যাপারে বিশেষ জোর দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির। সেভাবেই হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে সামনে রেখে জমি আরো নিজেদের পক্ষে শক্ত করে বিষয়টি নিয়ে সুকৌশলে এগোচ্ছে পদ্ম শিবির।