Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

নেতাই থেকে পেটাই শুরু, শুভেন্দুর মুখোমুখি হয়ে লড়তে চান এই নেতা

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

নেতাই দিবসে বিজেপি (bjp) নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Subhendu Adhikari) সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্র (Madan Mitra) । শুভেন্দু এর আগে তৃণমূলে থাকার সময় পরিবহণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন। সদ্য প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দুকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন অপর প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্র। বৃহস্পতিবার লালগড়ে জনসভা করে তৃণমূল। তার আগে শহীদ বেদীতে মাল্যদান করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। ছিলেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্রসহ জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীসহ গোটা অধিকারী পরিবারকে তীব্র আক্রমণ করেন মদন। তিনি বলেন, ” নেতাই থেকে পেটাই শুরু হবে। দল যদি আমাকে অনুমতি দেয় তাহলে আমি নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ভোটে লড়তে রাজি আছি। নতুন দলে গেছে তো, তাই ঠোকরাতে শিখেছে। বলছে বাংলা দখল করবে। একটা কথা শুনে রাখো, দুধ চাহেঙ্গে তো ক্ষীর দেঙ্গে। লেকিং বাংলা চাও তো, চির দেঙ্গে। এখানে পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Perth Chatterjee ) রয়েছেন। যদি তিনি আমায় অনুমতি দেন তাহলে প্রতি সপ্তাহে নেতাই তথা ঝাড়গ্রামে আসব প্রতি সপ্তাহে। কোনো পদ বা দায়িত্ব দিতে হবে না। মশাল নিয়ে রাতে পাহারা দেব।

অধিকারী পরিবার শুনে রাখো, আমাদের যাত্রা শুরু হল। এবার শুধু খেলব না, কোচিংও করাব। এমন কোচিং করাব, শুভেন্দু টের পেয়ে যাবে। তুমি রাজ্যের মন্ত্রী ছিলে। অথচ ২০১৪ সাল থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলে। তোমার মতো বেইমানকে মানুষ জবাব দিয়ে দেবে”। বৃহস্পতিবার ছিল নেতাই দিবস। ১০ বছর আগে এই দিনেই সিপিএম আশ্রিত দুষ্কৃতীদের গুলিতে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। সেই উপলক্ষে প্রতিবছর এই দিনটিতে নেতাই গিয়ে শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রতিবছর শুভেন্দু অধিকারী নেতাই গিয়ে শহীদ বেদিতে মালা দিয়ে থাকেন। তবে এই প্রথম বিজেপি নেতা হিসেবে তিনি নেতাইতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন বৃহস্পতিবার সকালে।

আরো পড়ুন : নেতাদের দল পরিবর্তনে ভোটারদের উপর কি প্রভাব পড়বে? কী বললেন দিলীপ?

তারপর সেখানে যান তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল নেতারা গঙ্গা জল দিয়ে শহীদ বেদী ধুয়ে দেন। তাঁদের কথায়, বেইমান, বিশ্বাসঘাতক শুভেন্দু অধিকারী এখানে মালা দিয়েছে। তাই শহীদ বেদী শুদ্ধ করলাম। এরপর সভা শুরু হয়। বক্তব্য রাখেন মদন মিত্র, পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে পার্থর তুলনায় মদন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন শুভেন্দুর বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ” এখন বলছ 10 বছরে রাজ্য সরকার কিছু করেনি। তুমি তো এতদিন মন্ত্রী ছিলে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে তুমি কিছু করোনি। যে টাকা রাজ্য সরকার নেতাই তথা ঝাড়গ্রামকে দিয়েছে, তার ৯০ শতাংশ চলে গিয়েছে শান্তিকুঞ্জের অধিকারী বাড়িতে। মমতা বন্দোপাধ্যায় যা করেছেন সেটা পৃথিবীর ইতিহাসে কেউ করেননি।

আর এখানকার নেতাদের বলে রাখছি। একজনকেও দেখতে চাই না যিনি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাহলে কলকাতায় ঢোকার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে।” এদিন বিভিন্ন গানের কলি ব্যবহার করে মদন মিত্র নিশানা করেছেন শুভেন্দু অধিকারীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। তিনি বলেন, বন্ধু লড়াইয়ের ময়দানে আবার দেখা হবে। প্রাণ দেবো, কিন্তু কাপুরুষের মত মাথা নত করব না। আমি মরে গেলে কিচ্ছু করতে হবে না। শুধু কাগজে একটা কথা লিখে পাশে রেখে দেবেন। তাতে লেখা থাকবে এটা একজন ইমানদার মানুষের লাশ। বেইমানের নয়। এদিন নাম না করে ইডি, সিবিআই-এর প্রসঙ্গ তোলেন মদন। উল্লেখ্য নারদ কান্ডে ভিডিও ফুটেজে শুভেন্দুকেও দেখা গেছে। সেই সূত্রে মদন বলেন, একটা চিঠি পেলেন, আর সঙ্গে সঙ্গে অমিত শাহের পায়ে মাথা দিয়ে দিলেন। আমরা সেটা করব না। কাপুরুষের মতো আত্মসমর্পণ করাতে পারবেন না। এদিন মদন পরতে পরতে এভাবেই নিশানা করেছেন শুভেন্দু অধিকারীকে।