Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ভয় পাচ্ছের জবাব ওদের মুখের অভাব, বহিরাগত ইস্যুতে তপ্ত রাজ্য

1 min read

।।প্রথম কলকাতা ।।

এক পক্ষ বলছে ওরা ভয় পাচ্ছে। অপর পক্ষ তার জবাবে বলছে ওদের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে কোনো মুখ নেই। দুটি বক্তব্যের ইস্যু এক। বহিরাগত চর্চা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যকে পাঁচটি জোনে ভাগ করেছে বিজেপি। সেগুলির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাঁচ কেন্দ্রীয় নেতাকে। আর সেই পাঁচ কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে দিন দিন সুর চড়াচ্ছে তৃণমূল। এমনকি বুধবার বাঁকুড়ার সভা থেকেও খোদ তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতে তাঁদের বহিরাগত বিশেষণে তোপ দেগেছেন।

বিষয়টি নিয়ে প্রথম কলকাতার ক্যামেরার সামনে নিজেদের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন দুই শিবিরের যুযুধান নেতারা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি যেভাবে রাজ্যকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করে একেকটি জনের দায়িত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের, তা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিজেপির বিশিষ্ট নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন,”এই নয় যে রাজ্যে আমাদের নেতা নেই। যারা সাংগঠনিক কাজের দায়িত্ব পেয়ে এসেছেন, তাঁরা তো আর ভোটে লড়বেন না।

তবে তাঁরা এখানে থাকলে আমাদের কর্মীদের মনোবল অনেক গুণ বাড়বে। শুধু তাঁরাই নন, তাঁদের পাশাপাশি দেশ জুড়ে আমাদের যেসব গুরুত্বপূর্ণ কার্যকর্তারা আছেন তাঁরাও আসবেন বাংলায়। বিহারেও এমনটা হয়েছিল। সেখানে বিজেপির ভারতীয় ক্ষেত্র থেকে শীর্ষ নেতারা গিয়েছিলেন। কঠিন লড়াইয়ের পর আমরা জিতেছি। বাংলাতেও তাই হবে”। স্বাভাবিকভাবেই জয়প্রকাশের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন,” এটা ওদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এখানে যারা হঠাৎ বিজেপিতে এসেছেন সেই তৎকাল নেতাদের ওপর কেন্দ্রের আর ভরসা নেই। তাই এ রাজ্যে বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় আগেই বলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদিকে সামনে রেখেই ভোটে লড়ব। অর্থাৎ কোনো মুখের ওপর তাঁদের ভরসা নেই। যাদের সঙ্গে বাংলার মাটির যোগ নেই তাঁরা কিনা পর্যবেক্ষক!” যদিও বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিজেপি মনে করছে এটা তৃণমূলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার। দলের অন্যতম নেতা তথা প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক শমীক ভট্টাচার্য তেমনটাই মনে করছেন। তাঁর কথায়,” আমাদের বড় পরিবার সুখী পরিবার।

আরো পড়ুন : বাংলার নির্বাচনে ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী? আইন-শৃঙ্খলা এতটাই খারাপ!

তৃণমূল শুধু ছোট পরিবার নয়, সেটা হচ্ছে আনুগত্যের পরিবার। আমাদের দলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে, ওদের দলে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে। আসলে ওরা যৌথ পরিবারে বিশ্বাসী নয়। একটা একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে ছোট পরিবার তৈরি করেছে’। এদিকে বিজেপি রাজ্যকে মোট ৩৯টি সাংগঠনিক জেলায় ভাগ করে বিধানসভা নির্বাচনে ঝাঁপাতে চাইছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে এসে বিজেপি নেতৃত্বকে ২০০ আসনে জেতার টার্গেট দিয়েছেন। তাই আগামী দিনে শুধু এই পাঁচ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নন, আরো বহু নেতা-নেত্রী আসবেন নির্বাচনী প্রচারে। সেটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন জয়প্রকাশ।

এ প্রসঙ্গে জয়প্রকাশ বলেন,” বিজেপির নেতৃত্বকে বহিরাগত বলা হচ্ছে। তাহলে প্রশান্ত কিশোর কি একজন বহিরাগত নন? তিনি তো ভাড়াটে সৈনিক। চারশো- পাঁচশো কোটি টাকা দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে তাঁকে। নির্বাচন এখনো হয়নি, তাই ফল বের হওয়ার প্রশ্নই নেই। কিন্তু তার আগেই দেখতে পাচ্ছি তৃণমূল দিশাহারা হয়ে পড়েছে। তাই এখন থেকেই আমরা পরাজয়ের আর্তনাদ শুনতে পাচ্ছি”। যদিও তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ সেটা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, তৃণমূল উন্নয়নক ইস্যু করেই সামনের নির্বাচনে লড়াই করবে। কুণাল মনে করেন বিজেপি তৃণমূলের উন্নয়নের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারবে না বলেই অন্যদিকে ইস্যু ঘুরিয়ে দিতে চাইছে।

বিজেপি কার্যত একটা অস্থিরতা তৈরি করতে চায় রাজ্যে। এতে মূল ইস্যু ঘুরে যাবে, আর সেটাই চান রাজ্য বিজেপি নেতারা। সেইসঙ্গে কুনাল বাবুর কটাক্ষ, ৩৯টি সাংগঠনিক জেলাকে বেছে নির্বাচনে নামছেন। তাই হয়ত অত পর্যবেক্ষক আসবেন। শেষপর্যন্ত দেখা যাবে নেতা পিছু মাত্র একটি করে, অর্থাৎ মোট ৩৯টি আসনে বিজেপি জয়ী হয়েছে। সেই বক্তব্যের পাল্টা শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, বাঙালির আতিথেয়তার কথা সবাই জানে। কিন্তু তৃণমূল খালি বহিরাগত বলে যাচ্ছে, এটা অত্যন্ত হাস্যস্পদ হচ্ছে বাংলার মানুষের কাছে। এটা পরিষ্কার নির্বাচন যত সামনে আসবে, ততই যুযুধান দুই শিবিরের মধ্যে এভাবেই আকচাআকচি চরমে পৌঁছাবে। তা ফের বোঝালেন দুই দলের শীর্ষ নেতারা।