করোনাকালীন সময়ে পাশে আ’লীগ ও শাহাদাত, কিন্তু দেখা নেই বাকিদের

1 min read

।। চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ।।

নগর ছাড়িয়ে ‘তারা’ জায়গা করে নিয়েছেন নিজ নিজ দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও তাই তাদের কাছে অন্যদের চেয়ে কিছুটা হলেও বেশি। তবে চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতিতে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সেই কেন্দ্রীয় নেতারা নন, আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি নগর বিএনপির ডা. শাহাদাতের তৎপরতার খবরই মিলছে বেশি। তাই প্রশ্ন উঠেছে স্বাভাবিকভাবেই। এই করোনাকালে ‘তারা’ কোথায়?

বলছি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির ছয় কেন্দ্রীয় নেতার কথা। এই ছয় নেতা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী এম মোরশেদ খান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নগর কমিটির সহসভাপতি মো. সামসুল আলম, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম।

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতা ও গণমাধ্যমের খবর বিশ্লেষণে করোনাকালে এই ছয় নেতার উল্লেখযোগ্য কোনো তৎপরতার খবর মেলেনি। অথচ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করা এই রাজনীতিকদের কাছে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি নগরের মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। তাই করোনার মতো জাতীয় ও বৈশ্বিক দুর্যোগে তাদের ‘মাঠে না থাকায়’ নগরে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, দলীয় নেতা-কর্মীদের অনেকেই তাদের দেখা পর্যন্ত পাননি। এরমধ্যে মোরশেদ খান তো প্লেন ভাড়া করে সস্ত্রীক দেশ ত্যাগ করেছেন!তবে উল্টোচিত্র নগর আ’লীগে। নগরের বেশ কয়েকজন নেতা করোনা দুর্যোগে মাঠে রয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন শুরু থেকেই মাঠে আছেন। আলোচনায় এসেছে নগরের অপর দুই শীর্ষ নেতা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের বেশ কিছু উদ্যোগ।

এছাড়া দলটির কেন্দ্রীয় এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা পর্যায়ের নেতাদের ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া বেশকিছু উদ্যোগের ফলে উপকৃত হয়েছেন চট্টগ্রামের অনেক মানুষ।এর বাইরে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের বেশ কিছু কাজ প্রশংসিত হয়েছে। দলের সিনিয়র ও কেন্দ্রীয় নেতারা যখন দৃশ্যপটের বাইরে, তখন একরকম স্রোতের বিপরীতেই তিনি বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতা হাত, কাজ করে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের মানুষের জন্য।

এদিকে করোনাকালে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন নীরবতায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে খোদ নগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মধ্যেই। সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার কারণে চাইলেও কেউ মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে নগর যুবদলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, ‘বিএনপির ওই নেতারা আসলেই ভাগ্যবান। সেই দশ-বারো বছর আগে ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু দল, কর্মী কিংবা সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ভূমিকা না থাকার পরও তৃণমূলের কর্মীরা এখনও তাদের অনুসরণ করে চলেছে। এখনও প্রধান অতিথির ‘স্পেসটা’ তারা বিনা পরিশ্রমে, বিনা পারিশ্রমিকে উপভোগ করে যেতে পারছেন। এক এগারোতে এসব নেতার মুখোশ উন্মোচিত হয়েছিল অনেকটাই।’