Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বাংলার ৪২ টা আসনেই কেন গোলমাল হল বলুন তো? দিলীপ আজ আরও বিস্ফোরক

।। শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত ।।

পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র নিয়ে ফের প্রশ্ন তুললেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, “দেশের ৫৪২টি আসনে লোকসভা নির্বাচন হলো শুধু বাংলার ৪২টি আসনে গোলমাল হলো। ৫০০টি আসনে কিছু হলো না। কলকাতায় পুরো নির্বাচন হলো না দেশের অন্য জায়গায় হলো। রাজ্যের মানুষ ভোটদানে বঞ্চিত হলেন। একটা সার্টিফিকেট পেতে কালঘাম ছুতে যাচ্ছে, দেওয়ার লোক নেই। এসব দেখে বলা যায় পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র বিপন্ন।” এদিন দিলীপবাবু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র বিপন্ন বহুদিন থেকে। ১৯৭৫ সাল থেকে যখন সিদ্ধার্থ রায়ের আমলে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল।

তখন থেকেই রাজ্যের গণতন্ত্র বিপন্ন।” এরপর তিনি বলেন, “আর এই রাজ্যে গণতন্ত্রের বিষয় নিয়ে নির্বাচিনের আগে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে ভোট দিতে পারবো তো? যদি এটাই হয় তাহলে আমরা বিরোধীরা রাজ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করবো।” এর পর বিজেপি রাজ্য সভাপতি গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়ার পিছনে বাম ও তৃণমূলকে অভিযুক্ত করে বলেন, “পশ্চিমবাংলায় যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়েছেন তারাই গণতন্ত্রের গলা টিপে মেরেছেন। সিদ্ধার্থ রায়ের বিরুদ্ধে লড়েছেন বামেরা। তারাই তাদের ৩৪ বছরের রাজত্বে গণতন্ত্রকে শেষ করেছেন। তার পর বামেদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ , বুদ্ধিজীবীরা লড়াই করে বামেদের সরালো। তারপর যারা এলো তারাও গণতন্ত্রকে শেষ করেছে।আমরা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবো।আমরাই ক্ষমতায় এসব।” এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, “যে পার্টিই ক্ষমতায় আসুক না কেন সাধারণ মানুষকে গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার জন্য সচেতন হতে হবে।

আরো পড়ুন : শুভেন্দুর স্লোগান কি তবে ব্রাশ আপ করে দিলেন দেবাংশু?

কারণ সরকারে থাকতে থাকতে কেউ গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা ভুলে যেতেই পারেন। তাই মানুষকে সচেতন হতে হবে।” এর পর আবার রাজ্য সরকারের ত্রুটি উল্লেখ করে দিলীপবাবু বলেন, “রাজ্যে প্রশাসন বিপন্ন। তাতেই বোঝা যায় গণতন্ত্র বিপন্ন।” পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যমের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মিডিয়া গণতন্ত্রের চতুর্থ, পঞ্চম স্তম্ভ হলেও সেটা যেন কর্পোরেট হয়ে না যায়। সবার উচিত গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখা।” শিশির অধিকারীর প্রসঙ্গে দিলীপবাবুকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমরা তাঁকে স্বাগত করবো, আর অপেক্ষা করবো।” অমিত শাহ আসবেন।মতুয়াদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তার আগেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক মতুয়াদের সঙ্গে বৈঠক করলেন।

এই প্রশ্ন সাংবাদিকরা করতেই দিলীপবাবু বলেন, “অমিত শাহ আসবেন।তবে প্রোগ্রাম ঠিক হয়নি। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আগেও মতুয়াদের সঙ্গে বসেছেন।” কৃষিবিল নিয়ে দিলীপ ঘোষ এদিন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের মন্তব্যের উত্তরে বলেন, “এই বিল যদি কৃষক স্বার্থের বিরোধী হয় তাহলে কেন এই রাজ্যে তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম মিছিল করছে না? কাকলি ঘোষদস্তিদার যা বলছেন বলুন।” তৃণমূল সাংসদ নুসরাত জাহান বলেছেন করোনার থেকে ভয়ঙ্কর বিজেপি। সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে দি;ইপবাবু বলেন, “বিজেপি ভয়ঙ্করতো বটেই। ওদের মতো যারা ফ্লাইং লিডার ভোট দাঁড়ালে এবার জামানত জব্দ হয়ে যাবে।” আপনার পরিবার স্বাস্থসাথী কার্ড নিয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপবাবু বলেন, “হতেই পারে। আমার পরিবার তো ১০ কোটি মানুষের বাইরে নয়। আমার পরিবারের অধিকার আছে সরকারি সুবিধা পাওয়ার। তবে তারা যদি নিয়ে থাকে তবে তারা দিদিমনির ফাঁদে পা দিয়েছেন।কারণ কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।”