এবার পুজোয় বাচ্চার প্রতি বিশেষ যত্ন না নিলে বিপদ!

1 min read

।। শুভশ্রী মুহুরী ।। কলকাতা ।।

সেই লকডাউনের শুরু থেকেই বাড়িতে বন্দী অস্থির শিশুমন। সকালের স্কুল নেই, ভাগ করে টিফিন খাওয়া নেই, প্লে গ্রাউন্ডে খেলা নেই। সারাদিন কেটে যাচ্ছে অনলাইন ক্লাসে। বাইরে যে কী হচ্ছে তাদের পক্ষে বুঝে ওঠা অসম্ভব। তারা শুধু এটুকু বুঝতে পারছে বাইরে কোন এক জুজু ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে আর কদিন পরেই দুর্গাপুজো। এমন অবস্থায় বাচ্চাদের ঠিক কীভাবে সামলাবেন? এই নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকেরা। আমরা এই নিয়ে বিস্তারিতভাবে কথা বলেছি শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রিয়াল দাস এর সাথে।

প্রঃ সামনেই দুর্গাপুজো, এমন অবস্থায় বাচ্চাদের কী বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া উচিৎ?
উঃ আমি মনে করি বাচ্চাদের বাড়ি থেকে বেরোনো খুব দরকার। আমরা হার্ড ইমিউনিটি কথাটা খুব শুনছি, আর অল্প বয়সেই বাচ্চাদের মধ্যে এই ইমিউনিটি সাবলীলভাবে তৈরী হয়। আর দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকার ফলে বাচ্চাদের সেই ইমিউনিটি তৈরী হচ্ছে না। ফলে খুব কম সময়ের জন্য হলেও বাচ্চাদের বাড়ি থেকে বেরোনো দরকার।

প্রঃ সেক্ষেত্রে কিরকম সাবধানতা অবলম্বন করার দরকার?
উঃ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা নেবেন অভিভাবকেরা। তাদের আগে বোঝাতে হবে, ‘ বাইরে একজন জুজু আছে যে ধরলে তুমি অসুস্থ হয়ে যাবে। আর তোমার থেকেই মাম্মা-পাপা সবাই অসুস্থ হয়ে পড়বে। তাই তোমাকে মাস্ক পড়তে হবে হাত ধুতে হবে। কাওকে ছোঁয়া যাবে না।‘ এইভাবে পাঁচ থেকে আট বছরের বাচ্চাদের গল্পের মতো করে বোঝালে তারা এই ধরণের গল্প খুব তাড়াতাড়ি মনে ধরে নিয়ে বন্ধুদের কাছে গিয়েও সেটা বলে। এইভাবেই বাচ্চাদের মধ্যে আলোচনার মধ্যে দিয়ে তাদের মধ্যে সতর্কতা তৈরী হয়।

প্রঃ বাচ্চাদের কী প্যান্ডেলে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া যাবে?
উঃ পাড়ার পুজোতে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। তবে সাধারণত প্যান্ডেলে একজন বাচ্চা আরেকজনকে দেখলে খেলতে শুরু করে দেয়। সেক্ষেত্রে তারা যাতে দূরে দূরে খেলে সে বিষয়ে ধৈর্য্য ধরে বাড়ির লোককে নজর রাখতে হবে। আর যে সময়টা প্যান্ডেলে ভিড় হয় না সেই সময়টা বাচ্চাদের প্যান্ডেলে নিয়ে গেলে ভালো। যতটা সম্ভব ওপেন এয়ারে থাকার চেষ্টা করতে হবে। তবে বাচ্চারা বাড়ির বাইরে কতক্ষন থাকছে সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। খুব বেশি হলে এক ঘন্টা, এরপর বাচ্চাদের বাড়িতে এনে স্নান করাতে হবে। আর দুর্গাপুজোয় তো মূলত ওদের মন ভুলিয়ে রাখা দরকার, তাই বাড়িতেই ছোট ঠাকুর এনে পুজো করা যেতে পারে। ঠাকুর সাজানো দেখলে, আলপনা দিতে দেখলে, ফল কাটতে দেখলে ওদের ভালো লাগবে। অনেকেরই নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি, ওই সময় ঠাকুমা দাদুদের বাড়িতে এনে রাখা যেতে পারে। আর এখন তো টিভিতেই পুজো দেখা যায়, বাড়িতেই বাচ্চাদের সাথে বসে পুজো পরিক্রমা দেখুন।

প্রঃ পুজোর সময় কি বাচ্চাদের বাইরের খাবার খাওয়ানো যেতে পারে?
উঃ একেবারেই না। খুব বড়ো দোকান হলেও সেই খাবার যে নিরাপদ তা বলা যায় না। পুজোর দিনগুলো বাচ্চারা যা খেতে চাই বাড়িতেই বানিয়েই খাবার।