Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

সারাদিনের ব্যস্ততায় কিছুক্ষনের ব্রেক, আর চটকরে ঘুরে আসুন ইহুদিদের এই সুন্দর উপাসনালয়ে!

।। প্রথম কলকাতা ।।

তুমিও হেঁটে দেখো কলকাতা! সত্যি তো এই মায়াবী নগর আপনাকে কি দেয়নি? উত্তরে গলির সান্ধ্য নষ্টালজিয়ানা, মাটির ভাড়ে গন্ধমাখা নিস্তব্ধতা, ময়দানের গালিচায় কাদামাখা ফুটবল আরও কতো কি। তেমনই এই শহর আগলে রেখে দিয়েছে কিছু অলীক ঐতিহ্য। তার মধ্যেই একটি হল মাগেন ডেভিড সিনাগগ। ইহুদিদের উপাসনালয়। বলা হতো ইহুদিদের ভালোবাসার শহর ছিল কলকাতা। ব্যবসার খাতিরে এ শহরে আসলেও জয় করেছিলেন শহরের ভিন্ন ধর্মের মানুষদের। একটা সময় কলকাতায় ইহুদিদের সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজারেরো বেশি যা এখন মেরেকেটে 20,25। তারপর নানা কারণে ভারতবর্ষ ছেড়ে যান তারা।

ইতালিও রেনেসাঁসের সময়ের স্থাপত্যের আদলে তৈরি এই মাগেন ডেভিড সিনাগগ। ১৮৮৪ সালে এলিয়াস ডেভিড এজরা তাঁর বাবা জোসেফ এজরার স্মৃতিতে তৈরি করেন এই সুন্দর সিনাগগটি। লাল বহিরঙ্গ শোভা বাড়িয়েছে স্থাপত্যের প্রতিটি নিশানকে। সিনাগগের ভিতরে ঢুকলে দেখতে পাবেন ঐতিহ্য সাবেকিনার এক অপূর্ব বোঝাপড়া। যেন জানান দিচ্ছে সেকালের ইতিহাসকে। ভিতরে কারুকার্যময় রেলিং সাজানো এক বিরাট হল। এর ভিতরে রয়েছে তিনটি বড় বড় ঘর যার একটিতে রক্ষিত রয়েছে ইহুদিদের পবিত্র গ্রন্থ তোরা। ইহুদিদের ধর্মশাস্ত্রে প্রথম পাঁচটি গ্রন্থের মিলন ‘তোরা’।
যদিও এখানে প্রবেশ নিষেধ। এছাড়া সিনাগগের ভেতরে নজর কাড়বে বিভিন্ন অলংকৃত ধার্মিক নিদর্শনের।

কিভাবে যাবেন?

সিনাগগটির অবস্থান কলকাতার বড়বাজারে। তাই কলকাতা হাওড়ার যেকোনো প্রান্ত থেকে বড়বাজার গামী বাস ধরলেই পৌঁছে যাবেন এখানে।

বিশেষ পরামর্শ: এখানে প্রবেশ করতে গেলে আপনাকে যেকোনো গভর্মেন্ট আইডি কার্ড দেখাতে হবে। আর অবশেষে চেষ্টা করবেন জায়গার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে। কেউ যদি তা না মানে অবশ্যই তাকে সাবধান করতে ভুলবেন না।

তবে অপেক্ষা কিসের! শীতের কোনো মৃদুমন্দ দুপুরে বেরিয়ে পরা যাক মাগেন ডেভিড সিনাগগের উদ্দেশ্যে।