সুশান্ত মামলায় পরতে পরতে চমক, সামনে এল রিয়ার বক্তব্য

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

যত দিন যাচ্ছে তত আরও ঘণীভূত হচ্ছে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু রহস্য। আর্থিক তছরুপ, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগের পাশাপাশি এবার সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীকে সরাসরি ছেলের হত্যাকারী বলে সম্বোধন করলেন সুশান্ত সিং রাজপুতের বাবা কে কে সিং। একটি সংবাদ মাধ্যমে, কে কে সিং জানান, রিয়াই তার ছেলেকে বিষ খাইয়ে খুন করেছে।

ইতিমধ্যেই, রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। আর এবার সামনে এল কেকে সিং-এর এই অভিযোগ। যাকে কেন্দ্র করে আবারও নতুন করে ঘণীভূত হল সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু রহস্য।আর এরই মধ্যে এবার, জাতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র সামনে মুখ খুললেন রিয়া চক্রবর্তী।

মহেশ ভাট ও রিয়া মধ্যেকার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট নিয়ে রিয়া জানান, মহেশ ভাটের সঙ্গে সুশান্ত আর তার সম্পর্ক নিয়ে কোনও মেসেজ বিনিময় করেননি তিনি। রিয়া জানান, সুশান্তের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার দিন তিনি খুব কষ্ট পেয়েছিলেন যে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেও সুশান্ত তাকে ফোন করেনি বা বাড়ি ফিরে যেতে বলেনি বলে। তাই তিনি মহেশ ভাটকে ফোন করেছিলেন।

সুশান্তের কোম্পানি নিয়ে রিয়া আর তার ভাই শৌভিকের ভূমিকা নিয়ে যে কথা সামনে আসছে সেই বিষয়ে রিয়া জানান,সুশান্ত শৌভিককে এতটাই ভালোবাসতো যে, রিয়া নাকি বলতেন তার ভাই তার সতীন। রিয়া আরও জানান, এই ভালোবাসার কারনেই সুশান্ত তাদের দুজনকে সুশান্তের ড্রিম প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত করেছিল। টাকা লেনদেনের বিষয়ে রিয়া আরও জানান যে, ওই সময়েই তিনি, শৌভিক এবং সুশান্ত মিলে রিলেটিক্স নামের সংস্থাটি শুরু করেন। ওই কোম্পানির জন্য নাকি তিনি আর তার ভাই সমান টাকা সুশান্তকে দিয়েছিলেন বলেও জানান রিয়া চক্রবর্তী।

তাদের ইউরোপ ট্রিপ নিয়ে রিয়া বলেন, সুশান্ত হাই লিভিং-এ বিশ্বাস করত। রিয়া জানান, তার ফ্যাশন শুটের জন্য যাতায়াত আর থাকার খরচা দেওয়া হলেও সুশান্ত নাকি সেসব বাতিল করে বিজনেস ক্লাসের টিকিট কাটে এবং ইউরোপ ট্রিপ প্ল্যান করে। রিয়া বলেন যে, কেউ কেন বলবে যে তিনি সুশান্তের টাকায় চলেছেন? তিনি বলেন, তারা দুজনে স্বামী-স্ত্রীর মতোই থাকতেন আর তাই সেই ভাবেই সুশান্ত ভালবাসা থেকেই সব খরচ করেছিল।

যদিও এরপর, তাদের ইউরোপ ট্যুর নিয়ে রিয়া বলেন যে, সুশান্ত জানিয়েছিলেন যে, ফ্লাইটে বসে থাকতে সে ভয় পায়। তাই ফ্লাইটে চড়ার আগে সুশান্ত একটি ওষুধ খায় বলে জানায় রিয়া। আর তারপরই সুশান্তের হতাশার কথা তুলে ধরেন রিয়া।

আর এরপরই এই প্রসঙ্গে রিয়ার এই দাবি নস্যাৎ করে সুশান্তের প্রাক্তন বান্ধবী অঙ্কিতা একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন। যে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ,‘বোয়িং ৩৭৭’ নামে এক ফিক্সড বেস ফ্লাইট চালাচ্ছেন সুশান্ত সিং রাজপুত। আর এই ভিডিও পোস্ট করে অঙ্কিতার প্রশ্ন, যে ছেলে ফ্লাইটে উঠতে ভয় পাবে, ভয় কাটানোর ওষুধ খাবে, সে ফ্লাইট চালাবে কী করে? যা নিয়ে আবারও ঘণীভূত হচ্ছে রহস্য।

আর এইসব ঘটনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কের লকারের চাবি নিয়ে রিয়ার বাবা ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তীকে আবারও তাদের দফতরে ডেকে পাঠান ইডির আধিকারিকেরা। এদিন বান্দ্রায় নিজের বাড়ি থেকে ইডি-র দফতরে যাওয়ার সময় ‘মব লিঞ্চিং’-এর শিকার হন রিয়ার বাবা।

আর তারপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন রিয়া। তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য তার পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি সুনিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। আর এরপরই রিয়ার বাড়িতে গিয়ে ঘটনার সামাল দেয় মুম্বই পুলিশ।