Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

হঠাৎই অমিতের সঙ্গে বৈঠক করতে দিল্লি যাচ্ছেন রাজ্যপাল, কিসের ইঙ্গিত?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

সদ্য রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে প্রায় একঘণ্টা বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যের সাংবিধানিক এবং প্রশাসনিক প্রধানের এই বৈঠক ঘিরে রাজনীতি সচেতন মানুষের কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যপাল তীব্র আক্রমণ করে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর প্রশাসনকে। পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী এবং সর্বস্তরের তৃণমূল নেতৃত্ব রাজ্যপালকে বিজেপির এজেন্ট বলে তোপ দেগে চলেছেন। অর্থাৎ সংঘাতটা ক্রমশ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। ঠিক তখনই দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপাল প্রায় এক ঘন্টা ধরে বৈঠক করলেন। যদিও বিষয়টিকে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে জানানো হয়েছে নবান্ন এবং রাজভবন থেকে।

নতুন বছরে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছেন, এ খবরই পাওয়া গিয়েছে। সেই বৈঠকের রেশ কাটবার আগেই রাজ্যপাল এবার দিল্লিতে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে যোগ দিতে। জানা গিয়েছে এই বৈঠকটি কাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিনিয়ত সরব হচ্ছেন রাজ্যপাল। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। পুলিশ এবং আমলাদের একাংশ শাসকদলের হয়ে কাজ করছেন বলে তিনি অভিযোগ করছেন বারবার।

আরো পড়ুন :এ কোন রাজনৈতিক ভাষা

তিনি বলছেন প্রশাসনের সঙ্গে রাজনীতি মেশাবেন না। এমনকি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি এটাও বলেছেন যে, বিধানসভা নির্বাচন রক্তাক্ত হতে পারে। তবে কি সেই বার্তাই তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দিতে চলেছেন? ওয়াকিবহাল মহল এমনটাই মনে করছে। উল্লেখ্য রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বহুবার বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন চেয়ে সরব হয়েছেন। যদিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এবং বিজেপি (bjp) সভাপতি জেপি নাড্ডারা বলেছেন ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করতে চান না তাঁরা।

অর্থাৎ সরাসরি নির্বাচনে গিয়ে মানুষের ভোটে তৃণমূলকে হারাতে চান বিজেপি নেতৃত্ব। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে তৃণমূল সরকার সহানুভূতি পেয়ে যাবে, ঘনিষ্ঠ মহলে এটাও বলছেন তাঁরা। কান পাতলে দলের অন্দরেও এমন কথা শোনা যাচ্ছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের দিল্লি সফর বিশেষ ইঙ্গিতবাহী হয়ে উঠেছে। একটি সূত্র মারফত খবর পাওয়া গিয়েছে যে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে বিধানসভা নির্বাচন শুরু হয়ে যেতে পারে। তবে কি সেই ভিত্তিতে রাজ্যের আইন শৃংখলার আপডেট খবর জানতে চাইছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? সেই কারণেই কি রাজ্যপাল দিল্লি যাচ্ছেন? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।