শিক্ষার্থীদের লাশ চাই না : অটোপ্রমোশন দিন!

1 min read

।। মীর আব্দুল আলীম ।।

সীমিত আকারে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার কথা ভাবছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী এব্যাপারে সম্প্রতি বক্তব্যও পেশ করেছেন। মন্ত্রী পরবর্তীতে এও বলেছেন-“পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। শিক্ষার ক্ষেত্রেপরীক্ষাই শেষ কথা নয়। এক বছরে সব শেষ হয়ে যাবে তাও নয়” শিক্ষামন্ত্রীরএমন মন্তব্য বেশ ভালো গেছে আমাদের। তবে সরকারের ভাবনায় আনা সীমিতপরীক্ষার বিষয়টি আতংকেরই বটে!এচএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে কম সংখ্যক পরীক্ষা নেওয়া, পরীক্ষা কেন্দ্রবাড়িয়ে পরীক্ষা নেয়া হলে কি দাড়াবে?

প্রায় ১৪ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবারএইচএসসি পরীক্ষা অংশ নিচ্ছে। যেভাবেই পরীক্ষা হউক এই সংখ্যক
পরীক্ষারর্থীকে পরীক্ষা দিতে একই সাথে বের হতে হবে। পরীক্ষার্থীদের সঙ্গেথাকবেন আরও ১/২ জন  করে অভিভাবক। পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য আইনশিঙ্খলাবাহিনীর সদস্য, কেন্দ্রের শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারি এ নিয়েপ্রায় কম করে পরীক্ষার দিন অর্ধকোটি মানুষের সমাগম  হবে। প্রশ্ন হলো ১৪লক্ষ শিক্ষার্থী কিভাবে কেন্দ্রে যাবে?

কোন পরিবহন যোগে অবশ্যই। পরিবহনেরচড়তে গিয়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের করোনা আক্রান্তের সম্ভাবনা কিন্তুথেকেই যায়। এর পর শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের অধিকাংশই কিন্তবাংলাদেশেরপ্রেক্ষাপটে অসচেতন ধরে নিতেই হবে। তারা পরীক্ষা দিতে এসে বন্ধুবান্ধবদের সাথে সামাজিক দুরত্ব কতটা বজায় রাখতে পারবে তা নিয়ে যথেষ্টপ্রশ্ন থেকে যায়। অভিভাবকরাও কি এসময় সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলতেপারবেন?

প্রশ্নই আসেনা। তাহলে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অসংখ্য পরীক্ষার্থী যারাএতদিন ঘরেই নিরাপত্তা বজায় রেখে চলেছে তারা করোসনা আক্রান্ত  হতে পারেনএটাই কিন্তু স্বাভাবিক।শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকগণ করোনা আক্রান্ত হলে এর দায় কে নেবে? জনগনকিন্তু নিশ্চিৎ সরকারকেই এজন্য দায়ি করবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেএনিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়াও হবে তখন। তাতে সরকাওে ভাবমূতি চরমভাবে নষ্ট হবেবৈকি! আমাদের দেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার অপপ্রচার কিভাবে হয়তা কিন্তু আমরা বেশ জানি।

গুটিকয়েক চালচোরা, ত্রাণচোরার কারনে দেশের সকলজনপ্রতিনিধিদের ঢালাওভাবে সামাজিক যোগাযেগ মাধ্যমে হেয় করার ঘটনা অতিতনিকটেরই। পদ্মা সেতুতে রক্ত লাগে, মাথা লাগে এমন অপপ্রচারও কিন্তু ফেসবুকইউটিউবের মাধ্যমেই হয়েছে। দেখা গেলো কোন শিক্ষার্থী করোনা ভাইরাস ব্যতিতঅন্যকোন কারনে মারা গেলেও এটাকে এক শ্রেনীর মানুষ ভিন্নক্ষাতে নিয়েসরকারকে নাজেহাল করতে চাইবে। তাছাড়া এতো সংখ্যক শিক্ষার্থী অভিভাবক,শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনের সমাগমে করোনা ছড়াবেই এটা নিশ্চিত করেবলা যায়।

প্রশ্ন হলো নিশ্চিৎ বিষয়টিতে সরকার কেন ঝুঁকি নিতে যাবে। তা যদিহয় তাতে সরকারকে অনেক বেশিই খেশারত দিতে হতে পারে।এজন্য কি করা দরকার? উন্নত বিশে^ করোনাকালীন সময়ে অটোপ্রমশন দিচ্ছে এমনখবর আমরা পাচ্ছি। এশিয়ার মধ্যে মালয়েশিয়া এমন কি পাশ^বর্তী বন্ধুদেশ
ভারতও স্কুল কলেজ, বিশ^বিদ্যালয় পর্যায়ে অটোপ্রমশোনের ঘোষণা দিয়েছে।সিঙ্গাপুর, কানাডাসহ বহুদেশ অটোপ্রমশোন দিয়ে সামনের শিক্ষাকে গতি দেয়ারচেষ্টা করছে। চলতি জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ভারতের এনডিটিভি, আনন্দবাজারসহবেশ ক’টি পত্রিকায় দেখলাম, করোনা পরিস্থিতিতে এ বছরের জন্য সব কলেজ ওবিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের রাজস্থানসরকার।

তবে এসব শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তী ধাপে উর্ত্তীণ করাহবে বলে জানানো হয়। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেন, করোনামহামারীরর কারণে রাজ্য সরকার এ বছরের জন্য সব পরীক্ষা বাতিল করারসিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা ছাড়াই পাস করানো হবে এবংআগামী কয়েকদিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুসারে তাদেরস্কোর করা হবে বলে তিনি জানা।

এ ক্ষেত্রে অটোপ্রমোশনে আমাদেও দেশে সমস্যা কোথায়? এইচএসসি পরীক্ষারফলাফলের ক্ষেত্রে এইচএসসিতে অটোপ্রমশন হতেই পারে। তা না হলে পিএসসি,জেএসসির ফলাফলও বিবেচনায় আনা যায়। অটোপ্রমশোন হলে লাভ কিংবা লোকসান কি?এতে ৮ থেকে ১০% শিক্ষার্থী ফলাফলে কেবল খুব সামান্য লাভলস হতে পারে। কোনপ্রকার ক্ষতি নয়। যেমন, পরীক্ষা হলে যারা এ গ্রেডের নিচে ফলাফল করতো তারাহয়তো এ গ্রেড পেয়ে যাবে আগের ফলাফলের কারনে। এছাড়া যাদেও এসএসসিতে এগ্রেড ছিলো কিন্তু তারা এ+ পেতে পারতো এ ক্ষেত্রে এমন শিক্ষার্থীর কিছুটাক্ষতি হয়তো হবে।

 লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক

এম/বি