Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

রাত বারোটাতেই চমক দেখালেন শুভেন্দু

1 min read


।। ময়ুখ বসু ।।


রাত বারোটাতেই চমক দেখালেন শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari) । ৭ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে সূর্য ওঠার আগেই তিনি নন্দীগ্রামে পৌছে গিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন। প্রতিবছরই এইদিনে নিয়ম করেই খুব ভোরে নন্দীগ্রামে যান শুভেন্দু। কিন্ত এবারে রাত বারোটা বাজার কিছু সময় আগেই তিনি নন্দীগ্রামের ভাঙ্গাবেড়ায় পৌঁছে যান। সেখানে গিয়ে নন্দীগ্রাম আন্দোলনে শহীদ ভরত মন্ডল, শেখ সেলিম এবং বিশ্বজিতদের বেদীতে শ্রদ্ধা জানান তিনি। উল্লেখ্য, এবারে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই নন্দীগ্রাম উঠে এসেছে রাজ্য রাজনীতিতে।

ভূমি আন্দোলনের এই পীঠস্থানে এতোদিন ধরে মূলত শুভেন্দু অধিকারীর (Subhendu Adhikari) উপর ভর করে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের একছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছিলো। কিন্ত সাম্প্রতিককালে শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দিতেই নন্দীগ্রাম নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়ে যায়। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মূল দাবিদার কে? তা নিয়ে উঠে আসতে থাকে যুক্তি তর্কো। নন্দীগ্রাম শুভেন্দুর নাকি নন্দীগ্রাম তৃণমূলের তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হতে আরম্ভ করে। আর সেই ঘোলা জলে দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের নায়ক যে শুভেন্দু অধিকারী তা প্রমান করতে একচুল ঢিলেমী দিতে রাজি নন এই অধিকারী তনয়। এবারে একুশের নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বাভাবিকভাবেই নন্দীগ্রাম নিয়ে ততপরতা তুঙ্গে।

যা অন্যান্যবারের থেকে অনেকটাই বেশী। নন্দীগ্রাম গিয়ে প্রচার প্রসারেও এখন থেকেই চোখ ধাধিয়ে যাচ্ছে সাধারন মানুষের। একুশের নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারীরর সঙ্গে নন্দীগ্রাম নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছে তৃণমূলও। এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বুধবার রাত বারোটা বাজার আগেই নন্দীগ্রামে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারির কথা স্মরণ করেন শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari)। তিনি বলেন, ওইদিন আমি নিজের হাতে শেখ সেলিমের দেহ তুলেছিলাম। তাই যতোদিন তিনি বেঁচে থাকবেন ততোদিন এই বিশেষ দিনে নন্দীগ্রামে হাজির থাকবেনই।

আরো পড়ুন : সর্ষের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ভূত! উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে কী বুঝে গেলেন অভিষেক!

নন্দীগ্রামের কর্মসূচী সবকিছুর উর্ধে বলেও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দেন, এবারে অনেকেই মনে করেছিলেন শহীদ বেদী প্রাঙ্গনে শুভেন্দু অধিকারীকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। প্রচার করা হয়েছিলো শহীদ বেদীতে মালা দিতে আসতে পারবেন না শুভেন্দু অধিকারী। যা কখনই সম্ভব হবে না। তিনি পরিস্কার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রক্তচক্ষু দেখিয়ে আমাকে আটকানো যাবে না। নন্দীগ্রামে আমি বারবার ফিরে আসবোই। অন্যদিকে, আজ ৭ জানুয়ারি নেতাই গণহত্যার ১০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। তাই সেখানেও যাবেন তিনি বলে জানিয়ে দেন।

এদিকে আজ ৭ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে সভা করার কথা ছিলো তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। কিন্ত মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর অখিল গিরি করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারনে সেই কর্মসূচী বাতিল হয়ে যায়। তার বদলে ঠিক হয় তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি সভা করবেন। এই আবহে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু। তিনি বলেন, আগে এসব দিনে অনেকেই নন্দীগ্রামে আসতেন না। নন্দীগ্রামের কথা হয়তো কারো মনেই থাকতো না। কিন্ত সামনে ভোট থাকায় তারা কেন আসছেন তা বুঝতে নিশ্চয়ই কারো বাকি নেই।