তৃণমূলের ব‍্যানার ছাড়া প্রণব-স্মরণে শুভেন্দু


।। রাজীব ঘোষ ।।

প্রয়াত প্রণব মুখোপাধ্যায় এর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য স্মরণসভার আয়োজন করেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে প্রণব স্মরণের আয়োজন তিনি তৃণমূলের ব্যানারে করেননি। যে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই স্মরণসভার আয়োজন করেন তাম্রলিপ্ত জনকল্যাণ সমিতি নামে এই সংগঠনের সভাপতি শুভেন্দু অধিকারী। সভাস্থল তমলুকের নিমতৌড়ি।

২০০৯ সালে তমলুক লোকসভা আসন থেকে সিপিএমের তৎকালীন সংসদ লক্ষ্মণ শেঠ কে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারী প্রথমবার সংসদে গিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন সেই জয়ে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের খুব বড় ভূমিকা ছিল। নিমতৌড়ি সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই জয়কে স্মরণ করেছেন শুভেন্দু। ২০০৯ এর সেই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গঠন করেছিল তৃণমূল। প্রার্থী শুভেন্দুর জন্য কংগ্রেসের তৎকালীন নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায় তমলুকে সভা করতে গিয়েছিলেন।

তার সমর্থনে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সেই সভার কথা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু। তৃণমূল হওয়ার আগে প্রণব মুখোপাধ্যায় যখন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হন তখন শুভেন্দুকে প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য করে নিয়েছিলেন। সেই কথা বলেন শুভেন্দু। তিনি বলেছেন বন্যার মোকাবিলায় কেলেঘাই কপালেশ্বরী প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়। তিনি অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন ঘোষণা করলেন এবং পিতৃদেব শিশির অধিকারী ও আমার দিকে তাকিয়ে বললেন তোদের এলাকার জন্য এটা দিয়ে গেলাম।

আরো পড়ুন : শহীদ স্মরণে বিজেপি, মঞ্চ খুলল পুলিশ

শুভেন্দু অধিকারী বলেন লোকসভায় যখন লড়াই করছি প্রণব মুখোপাধ্যায় পুরুলিয়া থেকে হেলিকপ্টারে মহিষাদল এসেছিলেন। আমার কাঁধে হাত রেখে মানুষের কাছে বলেছিলেন তোমাদের এটুকু বলতে এসেছি আমার উত্থান সতীশ দা সুশীলদার হাত ধরে। শুভেন্দুকে দিয়ে গেলাম তমলুকের মানুষের কাছে। শুভেন্দুকে তোমরা জেতাও। শুভেন্দু তোমাদের সঙ্গে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করবে না।

প্রণব মুখোপাধ্যায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এই কথা বলে গিয়েছিলেন এবং আপনারা দুহাত ভরে সংসদে পাঠিয়েছিলেন। তবে যে দলের টিকিটে তিনি নির্বাচনে লড়েছিলেন সেই দলের নেত্রীর কথা তিনি বলেন নি। সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। সাংগঠনিকভাবে দায়িত্বে রয়েছেন। তবে তার এই সভাস্থলে তৃণমূলের নাম এবং প্রতীক ছিল না। শুভেন্দুর বক্তব্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।