Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বেশি কথা বললেন না শুভেন্দু, আপনারা বাড়ি যান আমি ঘন্টা খানেক বাদে নন্দীগ্রাম ছাড়বো ।

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বিজেপিতে আসার পর শুভেন্দু অধিকারীকে প্রচুর সম্মান দিচ্ছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেটা ফের দেখা গেল শুক্রবার নন্দীগ্রামের সভায়। সাধারণত বিজেপি রাজনীতিতে দলের রাজ্য বা সর্বভারতীয় সভাপতি সমাবেশে শেষ বক্তা হিসেবে থাকেন।

এদিন কিন্তু বিশেষ সম্মান দেখিয়ে শুভেন্দুকে প্রধান বক্তার তালিকায় রাখা হয়েছিল সবার শেষে। আজকের সভা ছিল শুভেন্দুর কাছে প্রেস্টিজ ফাইট। তিনি কি বার্তা দেবেন সেখান থেকে, সেদিকে তাকিয়ে ছিল গোটা রাজ্য। কিন্তু পরিস্থিতি এমন দাঁড়াল যেখানে শুভেন্দু সভামঞ্চে কার্যত বক্তব্য না রেখেই সভা শেষ করে দিলেন।

শুধু জানিয়ে দিলেন যা বলার বলবেন ১৯ তারিখ খেজুরির সভায়। সেই সঙ্গে জনসভায় হাজির হওয়া হাজার হাজার মানুষকে শুভেন্দু বার্তা দিলেন, আপনারা সবাই নিরাপদে বাড়ি না যাওয়া পর্যন্ত আমি নন্দীগ্রাম ছেড়ে যাব না।

সমস্যার সূত্রপাত কৈলাস বিজয়বর্গীয় যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখন থেকে। হঠাৎই দেখা গেল সমাবেশে মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছেন। বক্তব্য থামিয়ে দিলেন কৈলাস। মাইক হাতে তুলে নিলেন শুভেন্দু নিজেই। সবাইকে আশ্বস্ত করলেন। তিনি বলেন, আমার উপর বিশ্বাস আছে তো। সবাই চুপ করে বসুন।

এরপর কৈলাস বক্তব্য শেষ করেন। তারপর বক্তব্য রাখেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শেষ বক্তা হিসেবে আসেন শুভেন্দু। এককথায় বলা যায় লাইট,ক্যামেরা, অ্যাকশন পুরোপুরি প্রস্তুত। কিন্তু শুভেন্দু মাইক হাতে নিয়েই বললেন আমি সভার সমাপ্তি ঘোষণা করছি। সেইসঙ্গে বলেন,” এমন ঘটনা কোনদিন দেখিনি।

সভায় ঢিল মারা হয়েছে। সিপিএমের বিরুদ্ধে প্রচুর আন্দোলন করেছি। কিন্তু তারা কখনো তৃণমূলের সভায় ঢুকে ঢিল ছোড়েনি। আজ ঢিল ছুড়ে সভা ভন্ডুল করার চেষ্টা হয়েছে। আজকে ৪১টি শহীদ পরিবারের মধ্যে ৩০টি পরিবার উপস্থিত রয়েছেন এখানে। আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ। শহীদ মায়েদের প্রণাম জানাই। ১৯ জানুয়ারি খেজুরিতে পাল্টা সভা করব। দলের কাছ থেকে সেই অনুমতি পেয়েছি। সব উত্তর সেদিন দেব”।

উল্লেখ্য ১৮ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করছেন। সেই সভা হওয়ার কথা ছিল আজকের দিনে। তবে সেই কর্মসূচি পরিবর্তিত হয়েছে। সেই কারণেই ঠিক তার পরদিন অর্থাৎ ১৯ জানুয়ারি খেজুরিতে শুভেন্দু পাল্টা সভা করে তৃণমূলের যাবতীয় আক্রমণের উত্তর দিতে চাইছেন।

[ আরো পড়ুন :নতুন সূর্যোদয় ঘটবে, শেষ পরিবর্তনটা দেখতে চান মুকুল]

এদিন যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে জনসভা শেষ করে দিতে হয়েছে বিজেপিকে, তাতে শুভেন্দুর শরীরী ভাষা বলে দিচ্ছিল তিনি কতটা ক্ষুব্ধ। তাঁকে চট করে রাগে ফেটে পড়তে দেখা যায় না। এদিন বহুকষ্টে তিনি নিজেকে কন্ট্রোল করেছেন মঞ্চে দাঁড়িয়ে। আগত মানুষজনকে শুধু বলেছেন, আপনারা সাবধানে বাড়ি ফিরে যান।

আমি সবার শেষে বাড়ি যাব। বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রাম তথা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা রাজনীতিতে আজকের ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়াল। নির্বাচন পর্যন্ত শুভেন্দুকে যে অনেক বাধা-বিপত্তি পার হতে হবে সামনের দিনগুলিতে, তার সূচনা এদিন হয়ে গেল। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব কি অবস্থান নেন এখন সেটাই দেখার।