Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বিশদে কিছু বললেন না, চৌকাঠ পেরোলেই ভাইপো এটা বলে গেলেন শুভেন্দু

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

রবিবার কাঁথির বসন্তিয়া স্কুল মাঠে জনসভা করেন শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari)। তার আগে ঢোলমারি বাজার থেকে মুকুন্দপুর পর্যন্ত বিরাট পদযাত্রা হয়। এরপর সভা থেকে শুভেন্দু কয়লা এবং গরু পাচার কাণ্ড নিয়ে সরব হন। এনামুল হক, বিনয় মিশ্রদের প্রসঙ্গ তোলেন। উঠে আসে আমপান দুর্নীতির কথাও। তারপরেই তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, আর একটা চৌকাঠ পেরোলেই ভাইপো। স্বাভাবিকভাবেই শুভেন্দুর এই কথা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে কি তৃণমূলের এক সর্বোচ্চ যুবনেতার দিকে এবার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা বিশেষ নজর দেবেন?

বিশদে না বললেও শুভেন্দু যে সেই ইঙ্গিতই করেছেন, সেটা পরিষ্কার। তারপরেই তাঁকে বলতে শোনা যায়, পিসির দয়ায় নেতা হয়েছ। পিসি, ভাইপোর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিকে হঠাতে হবে। নির্বাচনের আগে মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট চালু হবে। ভাইপোর পুলিশ আর থাকবে না। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট হবে। সেখানে রাজ্য পুলিশ বাড়াবাড়ি করলে ঠ্যাঙানি খাবে। মেরে ওদের হাত পা ভেঙে দেবে। আগামী ১০ বছর কোথায় থাকবে ঠিক করে নিও। প্রতিটি বুথেই বিজেপি কর্মীরা যাতে ভালো লড়াই দেন, সেই বার্তা দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, আমার বুথ সবচেয়ে মজবুত। এটা সফল করতে হবে। লক্ষণ সেনের মতো নেতাকে টাইট দিয়ে দিয়েছিলাম।

আরো পড়ুন : আমি ভদ্র ছিলাম, এবার বলছি মারলে পাল্টা মার খেতে হবে :জ্যোতিপ্রিয়

তাই ভয়ের কিছু নেই। উল্লেখ্য শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari) যখন তৃণমূলের যুব সভাপতি ছিলেন তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) মাথায় রেখে ‘ তৃণমূল যুবা’ নামে আরও একটি সমান্তরাল সংগঠন তৈরি করা হয়। সেই প্রসঙ্গে এদিন শুভেন্দু বলেন,” তৃণমূল যুবা! লাল চুল কানে দুল, তার নাম তৃণমূল। নন্দীগ্রাম, খেজুরিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে দলকে দাঁড় করিয়েছিলাম। তাই বলছি জেলার সব আসনে এবার বিজেপিকে জেতাব”।এর আগে ঝাড়গ্রামের সভা থেকেও তৃণমূলকে ব্যাপক আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু।

তিনি বলেন,’ আপনাদের কোনো উন্নয়ন হয়নি। কিছু চাইতে গেলেই মাওবাদী তকমা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। জোর করে জেলা পরিষদ দখল করা হয়েছে। আপনাদের বলে রাখছি ঝাড়গ্রামের ৪টি বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই বিজেপিকে ৫০ হাজার করে ফোটে জেতাব। তোলাবাজ ভাইপোর তৃণমূলকে হারাতেই হবে”। সেইসঙ্গে পাশে থাকার বার্তা দিতে তিনি বলেন,” আমি অতীতে আপনাদের পাশে কিভাবে ছিলাম সেটা জানেন। এটা গ্রাম বনাম শহরের লড়াই। দক্ষিণ কলকাতার দেড় জন রাজ্য চালাবে, এটা গ্রাম মেনে নেবে না।

এর জবাব বাংলা জুড়ে সবাইকে দিতে হবে। পদ্ম ফুটবে জঙ্গলমহলে। আপনাদের পাশে আমি আছি”। ঝাড়গ্রামে যেখানে শেষ করেছেন ঠিক যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন কাঁথির বসন্তিয়া স্কুল মাঠের সভায়। তাই সবমিলিয়ে রবিবার শুভেন্দুর কর্মসূচিতে যেভাবে মানুষের ঢল নেমেছে, তাতে উচ্ছ্বসিত বিজেপি। পূর্ব মেদিনীপুরের কণিষ্ক পান্ডাসহ শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ অনুগামীরা দুটি কর্মসূচিতেই উপস্থিত ছিলেন। ঢোলমারি বাজার থেকে যে বিশাল মিছিল শুরু হয়, তার দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছিলেন সবাই। কাল গড়বেতায় ছোট আঙারিয়া দিবস পালন করতে যাবেন শুভেন্দু। এর পাশাপাশি আগামীদিনের বহু কর্মসূচির কথা বলেন তিনি।