Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

মিছিলে গেলেন না শোভন-বৈশাখী, শুরুতেই ছন্দপতন!

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বিজেপিতে শোভন চট্টোপাধ্যায় (Shovon Chatterjee ) এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় (Baishakhi Banerjee) এর ভূমিকা নিয়ে নাটক অব্যাহত। আনুষ্ঠানিক ভাবে আজ থেকেই তাঁরা দুজনে সক্রিয়ভাবে বিজেপির হয়ে কাজে নেমে পড়বেন, এটাই ঠিক আছে। সেই উপলক্ষে মোমিনপুর থেকে মধ্য কলকাতার বিজেপি পার্টি অফিস পর্যন্ত মিছিলের আয়োজন করা হয়। অনেক টালবাহানার পর রুট কাটছাঁট করে মিছিলের অনুমতি দেয় পুলিশ। কিন্তু অবাক করা কাণ্ড, মিছিলে যোগ দিলেন না শোভন। অর্থাৎ শুরুতেই মিছিল ঘিরে ছন্দপতন ঘটল রাজ্য বিজেপিতে।

কারণ সেই বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় (Baishakhi Banerjee)। আজকের মিছিল তিনি যোগ দেবেন না বলে সকালেই জানিয়েছিলেন বৈশাখী। তাঁর কথায়, তিনি মিছিলে আমন্ত্রিত নন, শুধুমাত্র শোভনকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে। তখনই যেন সুর কেটে যায়। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার টেলিফোন করেন তাঁকে। এমনকি কলকাতা সাংগঠনিক জেলার আহ্বায়ক দেবজিৎ সরকার গোলপার্কে শোভনের বাড়িতে যান বৈশাখীকে রাজি করাতে। কিন্তু নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন তিনি। কিন্তু নাটক আরো বাকি ছিল। মিছিলে যোগ দেবেন না বলে এরপর জানিয়ে দিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।

আরো পড়ুন :এক সাথে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ খুললেন মুকুল

ততক্ষণে মিছিলে হাঁটবেন বলে বিজেপি (bjp) কর্মীরা জড়ো হয়ে গিয়েছেন। যদিও সেখানে রাকেশ সিং বাদে অন্য কোনো ওজনদার বিজেপি নেতা উপস্থিত ছিলেন না। যদিও আগে ঠিক ছিল শোভনের মিছিলে থাকবেন রাজ্যে বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। রাজ্য বিজেপি পুজোর পর ২০১৯ সালে বিজয়া সম্মীলনীর আয়োজন করেছিল। সেখানেও যোগ দেননি বৈশাখী। অভিযোগ ছিল তিনি আমন্ত্রণ পাননি। তারপর দেখা যায় শোভনও অনুপস্থিত থেকেছেন সেখানে। এবার একই ঘটনা দেখা গেল আজকের মিছিলকে কেন্দ্র করে। বারবার তাঁদের ঘিরে যেভাবে অস্বস্তি শুরু হচ্ছে রাজ্য বিজেপিতে, তাতে ক্ষুব্ধ’ দলের নেতৃত্ব।

অথচ গতকাল রাতের ছবিটাও এমন ছিল না। গোলপার্কের বাড়িতে শোভন-বৈশাখীরা কোর কমিটির বৈঠক করেন গভীর রাত পর্যন্ত। কিন্তু সকাল হতেই দেখা যায় ছন্দপতন। কেন এমনটা হচ্ছে? সেই প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজ্য বিজেপির অন্দরে। তবে কি তাঁরা আবার নতুন করে দূরত্ব বাড়াবেন বিজেপির সঙ্গে? সেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন কেউ কেউ। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে দলের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। ইতিমধ্যেই হেস্টিংসের বিজেপির নতুন কার্যালয়ে শোভন ও বৈশাখীর জন্য আলাদা আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে কাজের জন্য। শেষমেশ তাঁরা দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে কখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সে দিকেই চোখ রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।

নতুন সংযোজন বিকাল ৩ : ৪৪

শেষমেশ মুখ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হল বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়কে। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের জন্য যে সুসজ্জিত ট্যাবলো তৈরি করা হয়েছিল, তাতে করে মিছিল শুরু করেন মুকুল রায়। সঙ্গে ছিলেন পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং, বিজেপির কলকাতা সাংগঠনিক জোনের আহ্বায়ক দেবজিৎ সরকার প্রমুখ। অরফানগঞ্জ থেকে মিছিল শুরু হয়। হেস্টিংসে বিজেপির কার্যালয় পর্যন্ত সেটি যাওয়ার কথা। যদিও আগে ঠিক হয়েছিল মিছিল যাবে মধ্য কলকাতার বিজেপি পার্টি অফিস পর্যন্ত।

দলের মুখ রক্ষাতেই আসরে দ্রুততার সঙ্গে নামতে হয়েছে মুকুলকে। যেভাবে শোভন বৈশাখী আজ মিছিলে এলেন না, তাতে মুখ পুড়েছে গেরুয়া শিবিরের। আজ থেকেই তাঁদের পুরোদমে কাজে নেমে পড়ার কথা। অর্থাৎ শুরুতেই ছন্দপতন ঘটেছে। তাই বিষয়টি নিয়ে কৈলাস বলেন, এটা কোনো ব্যক্তির মিছিল নয়। এটা দলের মিছিল। তাঁরা কেন আসেননি সেটা আমরা বলতে পারব না। এ ব্যাপারে যা বলার তাঁরা বলবেন। আমরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। সব মিলিয়ে শোভন, বৈশাখীকে নিয়ে নতুন করে অস্বস্তির মধ্যে পড়ল রাজ্য বিজেপি।