Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

শোভন নিলেন শিশিরের নাম, “অনেকে যোগাযোগ করছেন”

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আরো বহু নেতা-মন্ত্রীরা আসবেন, এমন একটা বাতাবরণ তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। শুভেন্দু অধিকারী ( Subhendu Adhikari) এবং সৌমেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসার পর সবার নজর রয়েছে শিশির অধিকারী এবং দিব্যেন্দু অধিকারীর ওপর। তাঁরা দুজনেই তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই আছেন। কিন্তু শিশিরকে যেভাবে পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল জেলা সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়েছে, তাতে ক্ষুব্ধ তিনি। তার একদিন আগেই তাঁকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে। অর্থাৎ শিশিরবাবুকে তৃণমূল পরপর দু’দিন ডানা ছেঁটে বিশেষ বার্তা দিল বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য দীর্ঘ দুই দশক ধরে পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন শিশির।

এবার তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার কথা প্রকাশ্যে বললেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে শোভন বলেন,” কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণায় তৃণমূলে থাকার সময় আমি জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। মনে রাখতে হবে ২০০৮ সালে প্রবল শক্তিধর সিপিএম তথ্য বামফ্রন্টের সঙ্গে লড়াই করে আমরা দুটি জেলা পরিষদ দখল করতে পেরেছিলাম। সেই দুটি জেলা হল দক্ষিণ 24 পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর। আমি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূল সভাপতি ছিলাম। আর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তৃণমূল সভাপতি ছিলেন শিশির অধিকারী। সেখানে তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূল জেলা পরিষদ দখল করেছিল।” এভাবেই শোভন পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় শিশির অধিকারীর সাংগঠনিক দক্ষতার কথা তুলে ধরে তৃণমূলকে বিশেষ বার্তা দিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন :কয়লা কান্ড গরু কান্ড কিচ্ছু বাকি নেই আর, চুরি করার বাকি নেই, তোপ অর্জুনের

সেই সঙ্গে তিনি বলেন,” পঞ্চায়েত, পুরসভা থেকে শুরু করে তৃণমূলের বহু নেতা মন্ত্রী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাঁরা দমবন্ধ পরিস্থিতিতে সেখানে রয়েছেন। এরকম বহু নেতা-নেত্রী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বিজেপিতে আসার ব্যাপারে। সকলেই খোলা বাতাসে এসে প্রাণভরে অক্সিজেন নিতে চাইছেন। আমাদের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিয়ে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব”। শোভনের কথায় এটা পরিষ্কার, তৃণমূল আগামী দিনে আরও ভাঙতে চলেছে। এদিকে বিজেপিতে সক্রিয় হওয়ার পর বেশ কিছু কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছেন শোভন। তিনি বলেন ১৮ জানুয়ারি ডায়মন্ডহারবারে রোড শো এবং জনসভা করবেন। ২১ জনুয়ারি তাঁর কর্মসূচি রয়েছে মথুরাপুরে। ২২ জানুয়ারি উত্তর কলকাতার বাগবাজার থেকে মহাজাতি সদন পর্যন্ত মিছিল করবেন।

২৭ জনুয়ারি বারুইপুরে জনসভা করবেন। এর পাশাপাশি বিজেপি “সমাধান” নামে নতুন কর্মসূচি আনতে চলেছে রাজ্যজুড়ে‌। উল্লেখ্য আগেই তৃণমূল চালু করেছে “পাড়ায় পাড়ায় সমাধান” প্রকল্প। যদিও এটিকে তৃণমূলের নকল করা হচ্ছে বলে মানতে চাননি শোভন। তিনি বলেন, মানুষ লক্ষ্য স্থির করে নিয়েছে। আমাদের অর্জুনের মতো মাছের চোখটাকে নির্দিষ্ট করতে হবে। সেভাবেই সবার সঙ্গে আলোচনা করে কাজ করব। পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে তৃণমূলের। গায়ের জোরে লোকসভা নির্বাচন করেছে। নাহলে কলকাতা সাংগঠনিক জোনে বিজেপির ফল আরো ভালো হতো। এদিন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যে বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে ঐক্যবদ্ধভাবে চলার কথা। সেই ব্যাপারে তিনি যে বিশেষ জোর দেবেন, সেটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন।