Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

কর্মীদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাবেন শিশির, কী সিদ্ধান্তের কথা বলতে চাইলেন শিশির অধিকারী?

।। প্রথম কলকাতা ।।

অধিকারী পরিবারের দুই সদস্য শুভেন্দু এবং সৌমেন্দু ইতিমধ্যেই তৃণমূল ছেড়ে যোগদান করেছেন বিজেপিতে। কিন্তু শিশির অধিকারী এবং দিব্যেন্দু অধিকারী এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই রয়েছেন। কিন্তু শিশির কতদিন জোড়াফুল শিবিরে থাকবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার একটি বৈদ্যুতিন মাধ্যমে শিশির অধিকারী যা বলেছেন, তাতে জল্পনা শতগুণে বেড়ে গিয়েছে। বুধবার কাঁথি গিয়ে অধিকারী পরিবারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। সেই প্রসঙ্গেও শিশির তীব্র আক্রমণ করেছেন কুণালকে। পাশাপাশি বুঝিয়ে দিয়েছেন, সব সম্ভাবনা খোলা রয়েছে তাঁর কাছে।

উল্লেখ্য তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা তুলে গতকাল পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। সব মিলিয়ে অসম্ভব ক্ষুব্ধ তিনি। পুরো বিষয়টি নিয়ে কাঁথির সাংসদ বলেন,” কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করব পরবর্তী পদক্ষেপ। ১৯৬৩ সাল থেকে রাজনীতি করছি ‌। আমি বিশ্বাসঘাতক বা বেইমান নই। যে সিদ্ধান্ত নেব সেটা জানিয়ে দেব দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কোনো সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আর জেনে রাখবেন অনেকের চেয়ে আমি বেশি কর্মক্ষম। তাঁদের চেয়ে অনেক বেশি ফিট। মানুষের সঙ্গে ছিলাম, মানুষকে পাশে নিয়েই থাকব। ১৩০ বছর বাঁচব। ইট কাঠ পাথর নই, যেভাবে খুশি কোথাও বসিয়ে দেওয়া যায় না।”

আরো পড়ুন : শোভন নিলেন শিশিরের নাম, “অনেকে যোগাযোগ করছেন”

এদিন কুণাল ঘোষকেও একহাত নিয়েছেন তিনি। শিশির অধিকারী বলেন, নোংরা লোক। আমি কিছু বলতাম না। কিন্তু গতকাল কাঁথিতে এসে যা বলছে আমাদের নামে, সেটা মানা যায় না। সামান্য চাকরি করত সাংবাদিকতার। স্বপ্ন ছিল বড়। ১৬ লক্ষ টাকা নাকি বেতন পেত। হাতখরচ ছিল মাসে তিন লক্ষ টাকা। ও তৃণমূলের ক্ষতি করছে। অতিরিক্ত প্রভুভক্তি দেখাচ্ছে। এতে লাভ হবে না। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কাঁথি তথা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা অধিকারী পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই কাঁথিসহ পূর্ব মেদিনীপুরে ছুটে বেরিয়ে কুণাল ঘোষ কিছু করতে পারবেন না, এমন বার্তাই দিতে চেয়েছেন শিশির অধিকারী।

তাই শুভেন্দু, সৌমেন্দুর মতো এবার শিশির অধিকারীও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করবেন, এই সম্ভাবনা অতিমাত্রায় জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পাল্টা কুণাল ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, শিশিরবাবুকে আমি শ্রদ্ধা করি। প্রবীণ মানুষ। তিনি তৃণমূলেই আছেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে তৃণমূলকে আক্রমণ করছেন, সে কথার তো তিনি প্রতিবাদ করছেন না! এতে জেলার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দুঃখ পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে শিশির অধিকারী যেভাবে মুখ খুলতে শুরু করে দিয়েছেন, তাতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল শিবির। আগামীদিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, সেটাই এখন দেখার।