পিকের ‘হাইটেক’ রাজনীতিতেই ঘোর আপত্তি শীলভদ্রের

।। প্রথম কলকাতা ।।

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই উত্তাপ বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল ভাঙবে কিনা, বিজেপি আরো শক্তিশালী হবে কিনা, কারা ক্ষমতায় আসবে, রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে কিনা এই ধরনের নানা প্রশ্ন আকাশে বাতাসে ঘুরছে বঙ্গের রাজনৈতিক মহলে। আর ঠিক এই সময় কখনও সরাসরি নাম করে বা নাম না করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন দলেরই বহু নেতা বা মন্ত্রী। যেভাবে দল চলছে তাতে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। এমনই একজন হলেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত।

কিছুদিন আগেই তিনি ঘোষণা করেছেন বিধানসভা নির্বাচনে আর প্রতিদ্বন্দিতা করবেন না। কিন্তু রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু হয় না। হতে পারে নানা পট পরিবর্তন। এই ধরনের নানা বিষয় নিয়ে ‘প্রথম কলকাতা’র সামনে অকপট শীলভদ্র দত্ত। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘ বাংলা বা কেরলের রাজনীতি আবেগ দিয়ে হয়। এখানকার রাজনীতি বিহার, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ বা দিল্লির মতো নয়। এখানে জাতপাতের ভিত্তিতে ভোট হয় না। অথচ আমাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে আমি ব্রাহ্মণ না কায়স্থ নাকি অন্য কোনো সম্প্রদায়ের। আমি এসবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছি না’। তবে কি আপনি মনে করছেন যেভাবে তৃণমূল চলছে তা ঠিক নয়?

এই প্রশ্নের উত্তরে শীলভদ্র বলছেন তিনি দলের বিরুদ্ধে একটি কথাও কোথাও বলেননি। তিনি শুধু বলেছেন ভোটে আর দাঁড়াবেন না। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কি হবে সেটাও তিনি বলতে পারছেন না। আর সেখান থেকেই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে তবে কি তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে পা বাড়াচ্ছেন? তা নিয়ে শীলভদ্র বলছেন তিনি কখনো বলেননি যে তৃণমূল ছাড়বেন। তাই বিজেপিতে যাবেন, বা বিষয়টি নিয়ে মুকুল রায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হচ্ছে কিনা এসব প্রশ্ন ওঠা অবান্তর।

এমনটাই বলছেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক। মুখে সরাসরি তৃণমূলের সমালোচনা না করলেও শীলভদ্র বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি কতটা বিরক্ত যে পদ্ধতিতে বর্তমানে দল চলছে তা নিয়ে। তিনি বলেন,’ বাংলার রাজনীতিটা অন্য ভাবে হয়। একটা সময় ছিল যখন কংগ্রেস এবং সিপিএম পরিবারের মধ্যে কোনও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন হতো না। রাজনীতি নিয়ে এতটাই আবেগ ছিল বাংলার মানুষদের মধ্যে। কিন্তু যেভাবে এখন সোশ্যাল মিডিয়ার দ্বারা রাজনীতি পরিচালিত হচ্ছে তার সঙ্গে আমি মানিয়ে নিতে পারছি না। এটা আমারই দোষ, তৃণমূলের কোনো দোষ নেই’ ।

আরো পড়ুন : রাজ্যজুড়ে বিজেপির থানা ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচি

এভাবেই তিনি টিম পিকে’ র কাজের সমালোচনা করলেন স্পষ্টভাবে। তবে এদিন বিজেপিতে যাওয়ার প্রশ্ন উড়িয়ে দিলেও তিনি স্বীকার করেছেন তাঁর সঙ্গে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা। শীলভদ্রের কথায়, ‘ আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে তৃণমূল রাজনীতি করেছে। অর্জুন বহুবার তৃণমূল থেকে বিধায়ক হয়েছেন। তাই তার সঙ্গে আমার সৌজন্যের সম্পর্ক নিশ্চয়ই আছে’।জাতপাতের প্রসঙ্গ যেভাবে শীলভদ্র তুলেছেন তাতে তাঁর কথা থেকে মনে হয়েছে যে টিম পিকে’ র তরফ থেকে তাঁর কাছে এমন সব প্রশ্ন করা হয়েছে। তার ভিত্তিতেই কি টিকিট দেওয়ার কথা চলছে?

যদিও এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ভাবে কারোর নাম করেননি তিনি। শুধু বলেছেন বাংলার রাজনীতি বিহার, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ এর মতো জাতের ভিত্তিতে হয় না, আবেগ দিয়ে রাজনীতি হয় এখানে।
তাহলে আগামী দিনে আপনার পরিকল্পনা কি? এ প্রশ্নের উত্তরে শীলভদ্র দত্ত বলেন,’ আমি মে মাস পর্যন্ত বিধায়ক রয়েছি। তার আগে দল যদি বলে আমি পদত্যাগ করতে প্রস্তুত’। কিন্তু তাঁর এই কথাতেই উঠছে কিছু প্রশ্ন। সেটি হল তিনি নিজের মুখে বলেছেন দলের বিরুদ্ধাচরণ করে একটি কথাও বলেন নি।

তাহলে আবার নিজের মুখে কেন বলছেন দল বললে তিনি পদত্যাগ করতে প্রস্তুত? তবে কি দলকে তিনি এমন কোনও কথা জানিয়েছেন যার জেরে তাঁকে পদত্যাগ করতে বলা হতে পারে? সেই ব্যাপারে খোলসা করে কিছু বলেননি ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক। তবে শীলভদ্রের কথায় এটা পরিস্কার হয়ে গিয়েছে যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে চরম অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

যে প্রত্যাশা জাগিয়ে তারা ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেছিল, পরে ২০১৬ সালে আবারও জনগণের ভোটে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসে, দলের মধ্যেকার সেই ‘ফিল গুড’ ফ্যাক্টরটা এখন একেবারেই উধাও। তারই ফলশ্রুতি শীলভদ্র দত্তদের মতো বিধায়কদের এমন সব মন্তব্য। এই সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়কে সামলে আগামী দিনে তৃণমূল কিভাবে বিধানসভা নির্বাচনে নামবে সেটা সময়ই বলে দেবে।

Categories