সাকিব বললেন, ‘আমার মতো ভুল যেন কেউ না করে’

1 min read

।। প্রতীক রায় ।।

সাকিব আল হাসান মুক্ত হয়েছেন।  আইসিসির দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে গেছে। এখন মাঠে নামতে আর বাধা এই অলরাউন্ডারের। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নিষেধাজ্ঞার খোলস থেকে বের হলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামী ১ নভেম্বর ঢাকায় ফিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আয়োজিত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দিয়ে মাঠে ফিরবেন সাকিব। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য এক শুভেচ্ছা বিনিময়-সমাবেশে সবার কাছে দোয়া চাইলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। সেই সঙ্গে তার মতো একই ভুল যেন কেউ না করে সে ব্যাপারেও সাবধান করে দিলেন তিনি।

সাকিবের ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নিউইয়র্কের বিনোদন সংস্থা ‘শোটাইম মিউজিক’ এই শুভেচ্ছা বিনিময় সমাবেশের আয়োজন করে। 

অনুষ্ঠানে সাকিব বলেন, ‘বিসিবির নির্দেশ অনুযায়ী মাঠে নামব। বিসিবির সঙ্গে এ ব্যাপারে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও উজ্জ্বল করার চেষ্টা করব। নিজের যতটা সম্ভব সেরা খেলা উপহার দিয়ে যাব। ‘

জুয়াড়িদের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েও আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগকে না জানানোর অপরাধে অর্থাৎ আইসিসির দুর্নীতি দমন আইনের ২.৪. ৪ ধারা ভাঙার অপরাধে গত বছরের ২৯ আগস্ট দুই বছর নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সাকিব। এর মধ্যে দ্বিতীয় বছরটি ছিল স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ আজ রাতেই শেষ হচ্ছে তার শাস্তির মেয়াদ। 

এক বছর পর মাঠে ফেরা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাকিব হেসে জবাব দেন, ‘ভালো লাগছে। দোয়া করবেন, যেন দেশের জন্য ভালো খেলতে পারি। সেই চেষ্টা সবসময়ই থাকবে। ‘ এ সময় প্রবাসীরা শুভকামনা জানিয়ে বলেন, ‘সাকিব দেশে ফিরবেন বীরের বেশে। ‘ একটা বছর জীবন থেকে চলে যাওয়া নিয়ে অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মতো ভুল যেন কেউ না করে। ‘

নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় অবশ্য সাকিবের খুব বেশি ম্যাচ মিস হয়নি। এক বছরে দেশের জার্সিতে ৩৬ ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকার কথা ছিল তার। কিন্তু মার্চের মাঝামাঝিতে করোনা মহামারির কারণে খেলাধুলাই বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়ে বাংলাদেশ মাত্র ৪টি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও ৭টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে। ফলে সাকিবের অভাব দলও খুব বেশি ম্যাচে অনুভব করেনি।

আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিসিবির পাঁচ দলের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট দিয়েই মাঠে নামছেন সাকিব। যদিও এ বছর অক্টোবর-নভেম্বরে শ্রীলঙ্কা সফরের দ্বিতীয় টেস্টেই ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু কোয়ারেন্টিন জটিলতায় তা বাতিল হয়ে যাওয়ায় এ বছর আর জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যাবে না তাকে। জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে তাকে।

নিষেধাজ্ঞার এক বছরের বেশির ভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সঙ্গেই কাটিয়েছেন সাকিব। গত মার্চে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের সময় থেকেই সেখানে আছেন তিনি। যদিও ২ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা সফরকে সামনে রেখে দেশে ফিরেছিলেন, কিন্তু সিরিজ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ফিরে যান তিনি। 

পিসি/

Categories