গম্ভীর চট্টগ্রামের আকাশ, ৩ নম্বর সর্তক সংকেত

1 min read

।। মনির ফয়সাল, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ ।।

সকাল থেকে থেমে  থেমে বৃষ্টি,  সেই সঙ্গে কিছুটা  দমকা হাওয়াএর  মধ্যে ৩ নম্বর  সর্তক  সংকেত  দেখিয়ে  যেতে বলা হয়েছে চট্টগ্রাম সমুন্দ্র বন্দরে আবহাওয়া অধিদফতর বলছে,  এই সংকেতের  জেরেই গম্ভীর চট্টগ্রামের আকাশ।

পরিস্থিতি এমনটাই থাকতে পারে টানা তিনদিন। কিন্তু  চারপাশের এই গম্ভীরতা  ভোগান্তি  ডেকে এনেছে জনজীবনে। জীবিকার চাকা থামানো বৃষ্টি সড়কের  করেছে বেহাল দশা।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের রেকর্ড  অনুযায়ী পতেঙ্গা শনিবার (১১ জুলাই)  দুপুর ১২ টা পর্যন্ত  পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি  রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি  বায়ুর প্রভাবে  সাগর কিছুটা উত্তাল থাকায়  চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা  সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া  নদী  বন্দরে  ১ নম্বর নৌ সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, শনিবার দুপুরের পর থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে সাময়িকভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। সকাল  থেকে দুপুর পর্যন্ত  ৩২  দশমিক ০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাতে  টানা বর্ষণের  পাশাপাশি পাহাড়  ধসেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া কর্মকর্তারা বলছেন,  বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে চলেছে  মৌসুমী বায়ু। এ কারণে এমন  থেমে  থেমে  বৃষ্টি হচ্ছে। এর জেরে চট্টগ্রামের  কোথাও  কোথাও অস্থায়ী দমকা হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারেদক্ষিণ, দক্ষিণ পশ্চিম দিকে থেকে ঘণ্টায় ১২-১৮ কিলোমিটার বেগের বাতাস ৪৫-৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

করোনাকালে এমনিতেই আয় নেই নির্মাণ শ্রমিক, ভ্যান-রিকশা চালকসহ  নগরীর  নিম্ন শ্রেণি আয়ের মানুষের। চাকরি-ক্ষুদ্র  ব্যবসা হারিয়ে অনেকেই হেটেছেন বাড়ির পথে।  যারা  শহরে জীবিকার  চাকা আকড়ে ধরে টিকে থাকতে চাইছেন,  তাদের জন্য এই বৃষ্টি যেন আরেক  অভিশাপ!

ইয়াকুব আলী জানান, করোনায় কাজ  হারিয়ে রিকশার প্যাডেল ঘুরাতে শুরু  করেছেন তিনি। তবে  আজ ক’দিন  বৃষ্টির  কারণে বের হননি। এর আগের  দু’দিন  বের  হয়ে একশ টাকাও আয় হয়নি। উল্টো আরও ৮০ টাকা ধার করে গ্যারেজ মালিককে দিতে হয়েছে।

সকাল থেকে শুরু হওয়া ওই বৃষ্টির জেরে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের মূল সড়ক গুলোতে কিছু গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেলেও অলি গলির সড়ক গুলো ফাঁকা ছিল। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘরের বাইরে যারা  এসেছেন তাদের সামলাতে হয়েছে বৃষ্টির ঝাপটা।

অন্যদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, সপ্তাহজুড়ে এমন বৃষ্টি বাড়িয়ে দেবে জ্বর, সর্দি,  কাশি। তাই  করোনাকালে এই  উপসর্গ  এড়াতে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

এম/বি