সতীপীঠ নলহাটি

।। শর্মিলা মিত্র ।।

সতীর ৫১ পীঠের ইতিহাস আমরা সকলেই জানি। দক্ষের যজ্ঞে মহাদেবের অপমান সহ্য করতে না পেরে যজ্ঞকুন্ডে আত্মাহুতি দেন দেবী সতী। আর তারপরই সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তান্ডবলীলায় মাতেন স্বয়ং মহাদেব। মহাদেবকে শান্ত করতে না পেরে সুদর্শন চক্রের সাহায্যে সতীর দেহ খন্ড বিখন্ড করে দেন শ্রীবিষ্ণু। বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে সতীর দেহ খন্ডগুলি।

পৃথিবীর বুকে পড়া মাত্রই প্রস্তরখন্ডে পরিণত হয় সতীর দেহের খন্ডগুলি। সেই বিশেষ বিশেষ স্থানগুলি পরিণত হয় এক একটি সতীপীঠে। প্রত্যেক হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পরম পবিত্রের জায়গা সতীর ৫১ পীঠ।

আজকে আমরা জানবো সতীপীঠের অন্যতম পীঠ নলহাটির কথা।জানা যায়, বীরভূম জেলায় অবস্থিত নলহাটিতে দেবী সতীর কণ্ঠনালি পড়েছিল।দেবী এখানে নলাটেশ্বরি নামে পরিচিত।

নলাটেশ্বরী মন্দিরে বছরে দুবার বিশেষ পুজো হয়। দুর্গাপুজোর চারদিন মাকে দুর্গা রপে পুজো করা হয়। আর কালীপুজোর দিন মা নলাটেশ্বরীকে কালী রূপে পুজো করা হয়।এখানে দেবীর নাম শেফালিকা। তার ভৈরব হলেন যোগীশ।

তবে শাস্ত্রে দেবীকে কালিকা বা শেফালিকা বলা হলেও স্থানীয়রা দেবীকে ললাটেশ্বরী বলে থাকেন। তবে, প্রণাম মন্ত্রে দেবীকে নলাটেশ্বরী বলে সম্বোধন করা হয়। তার ভৈরব সব জায়গাতেই যোগীশ নামেই পরিচিত।

নলাটেশ্বরী মায়ের অঙ্গশিলা উদ্ধারের সময় একটি অলৌকিক কাহিনী বর্ণিত রয়েছে। জানা যায়, সতীর দেহ যার সুদর্শন চক্র দিয়ে খণ্ড বিখণ্ড করা হয়েছিল সেই অনাদির আদি গোবিন্দের চরণ চিহ্নিত একটি শিলা পাওয়া যায়।

ভগবান নারায়ণের সেই চরণ চিহ্নিত শিলা এখানে পূজিত হন দেবীর সঙ্গেই। প্রথমে ভগবান বিষ্ণুকে প্রণাম জানানোর পরই ভৈরব ও দেবীর পুজো অর্চনা করা হয়ে থাকে।আষাঢ় মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দেবীর বার্ষিক পুজো অনুষ্ঠিত হয়।

পুরাণ কাহিনী অনুসারে, জানা যায় স্বপ্নাদেশ পেয়ে সতীর কণ্ঠনালি উদ্ধার করেন কামদেব। ব্রাহ্মণী নদীর তীরে ললাট পাহাড়ের নীচে সেই কণ্ঠনালির উপর বেদী তৈরি করে প্রতিষ্ঠিত হন দেবী নলাটেশ্বরি।

জানা যায়, মন্দিরে দেবীর প্রস্তুরীভূত কন্ঠনালী রক্ষিত রয়েছে। প্রত্যহ দেবীর স্নানের পর ও মঙ্গলারতির আগে ভক্তদের সামনে দেবীর সেই অঙ্গ প্রদর্শন করা হয়।