সতীপীঠ কিরীটেশ্বরী

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে মহাদেবের তান্ডব নৃত্য করার সময়ে শ্রী বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে খন্ড বিখন্ড হয়ে যায় সতীর দেহ এবং সতীর দেহ খন্ডগুলি যেখানে পড়ে সেখানেই তৈরি হয় এক একটি সতীপীঠ।

জানা যায়, মুর্শিদাবাদের কিরীটকোণা গ্রামে পড়েছিল দেবীর মাথার মুকুট। তাই দেবীকে এখানে কিরীটেশ্বরীর পাশাপাশি মুকটেশ্বরী নামেও ডাকা হয়। রাঢ় বাংলার প্রাচীন পীঠস্থানগুলির মধ্যে অন্যতম হল এই কিরীটকোণা গ্রামের কিরীটেশ্বরী সতীপীঠ।যদিও বর্তমান মন্দিরটি বেশি পুরানো নয়। এই মন্দিরের কাছেই রয়েছে একাধিক মন্দির।

তান্ত্রিকমতে, জানা যায়, এখানে দেবী দাক্ষায়ণী সতীর ‘কিরীট’ অর্থাৎ মুকুটের কণা পড়েছিল।যেহেতু এখানে দেবীর কোনও অঙ্গ পড়েনি তাই এই স্থানকে অনেক তন্ত্রবিদ্ ‘পূর্ণ পীঠস্থান’ না বলে ‘উপপীঠ’ বলে থাকেন।দেবী এই সতীপীঠে ‘বিমলা’ নামে পূজিত হন। আর তাঁর ভৈরব পূজিত হন ‘সম্বর্ত’ নামে।

শাক্তধর্মে এই স্থান একটি প্রাচীন মহাপীঠ হিসেবে প্রসিদ্ধ। পাঠান-মুঘল শাসনকালেও এই স্থানের খ্যাতি ছিল বলে জানা যায়। রেনেলের কাশীমবাজার দ্বীপের মানচিত্রে কিরীটকোণাকে ‘তীরতকোণা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

পৌষ মাসের প্রতি মঙ্গলবার দেবী কিরীটেশ্বরীর মেলা বসে। মন্দিরে দেবীর কোনও প্রতিমূর্তি নেই, একটি উঁচু পাথরের উপর বেদী আছে; এই বেদীর উপর আরেকটি ছোট বেদী আছে যা দেবীর কিরীট বলে পুজো করা হয়।

অন্যদিকে, অনেকের মতে, দেবীর ভৈরব ‘সম্বর্ত’ বলে যে মূর্তিটি পূজা করা হয়, সেটি আসলে একটি বুদ্ধমূর্তি। যে মূর্তি রাঢ়ের এই অঞ্চলে বৌদ্ধসংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।

এম/বি