সতীপীঠ যশোরেশ্বরী !

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে মহাদেবের তান্ডব নৃত্য করার সময়ে শ্রী বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে খন্ড বিখন্ড হয়ে যায় সতীর দেহ এবং সতীর দেহ খন্ডগুলি যেখানে পড়ে সেখানেই তৈরি হয় এক একটি সতীপীঠ।সতীর ৫১ পীঠের মধ্যে অন্যতম হল সতীপীঠ যশোরেশ্বরী। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যশোরেশ্বরী কালী মন্দির বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত মন্দির। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে অবস্থিত এই সতীপীঠ যশোরেশ্বরী। যশোরেশ্বরী নামের অর্থ “যশোরের দেবী”।

হিন্দু ভক্তদের জন্য এটি একটি পবিত্র তীর্থস্থান।পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে জানা যায়, এখানে দেবীর হাতের তালুদ্বয় ও দুই পদতল পড়েছিল। দেবী এখানে যশোরেশ্বরী নামে পূজিতা হন। আর তাঁর ভৈরব হলেন চন্ড।জানা যায় যে, মন্দিরটি আনারি নামের এক ব্রাহ্মণ তৈরি করেছিলেন। তিনি এই যশোরেশ্বরী সতীপীঠের ১০০টি দরজা তৈরি করেন। তবে, মন্দিরটি কবে নির্মিত হয় জানা যায়নি। পরবর্তী সময়ে লক্ষণ সেন ও প্রতাপাদিত্যের রাজত্বকালে মন্দিরের সংস্কার করা হয়েছিল বলে জানা যায়।মন্দির সংস্কারের পাশাপাশি লক্ষ্মণ সেন বা মহারাজা প্রতাপাদিত্য কর্তৃক ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মূল মন্দির সংলগ্ন নাটমন্দির তৈরি করা হয়েছিল বলেও জানা যায়।

১৯৭১ সালের পর এটি ভেঙে পড়লে সেই সুদৃশ্য, লম্বা-চওড়া বিরাট নাটমন্দিরের আজ কিছুমাত্র অবশিষ্ট নেই। নাটমন্দিরের স্মৃতি বহন করে চলেছে শুধুমাত্র কয়েকটি স্তম্ভ। কয়েকশো বছরের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে দু একটি স্তম্ভ।মূল মন্দিরটি ছাড়া আর সবকিছুই আজ কালের গর্ভে বিলীন। এখন ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়েছে মন্দিরের নওবতখানা।মন্দির বেদীর উপর প্রতিষ্ঠিত মাতৃমূর্তির শুধুমাত্র মুখমণ্ডলই দেখা যায়।

শ্রীযশোরেশ্বরীর কণ্ঠের নিচে তার শ্রীহস্ত ও শ্রীচরণ কিছুই নজরে পড়ে না। মূর্তির অবয়ব পুরোটাই মখমল দিয়ে ঢাকা। দেবীর মাথার উপর টাঙানো রয়েছে টকটকে লাল রঙের চাঁদোয়া। কণ্ঠে রক্তজবার মালা ও নানা অলংকার। মাথায় সোনার মুকুট। লোলজিহ্বা দেবীর ভীষণা মূর্তি।মালদার জাগ্রত জহুরা কালীমাতার মুখমণ্ডলের সঙ্গে কিছুটা হলেও সাদৃশ্য রয়েছে যশোরেশ্বরীর। দেবী যশোরেশ্বরীর অপূর্ব দেবীভাবের মধ্যেই পরম আশ্রয় খুঁজে পান ভক্তরা।শ্রীযশোরেশ্বরীর পুজো তন্ত্রমতেও হয়।

প্রতিবছর খুব ধুমধাম করে শ্যামাপুজোও হয় মন্দিরে। মা ভীষণ জাগ্রত। শ্যামাপুজোয় এই মন্দিরে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। বড় করে হোমযজ্ঞ হয়। নানা অলংকারে সাজানো হয় দেবী শ্রীযশোরেশ্বরীকে। তিনদিন মেলা বসে মন্দির চত্ত্বরে।মায়ের পুজোয় ফুল, ফল ও নানাধরনের মিষ্টি দিয়ে কাঁসার থালা ও মাটির পাত্রে নৈবেদ্য সাজানো হয়।ছাগবলীর পাশাপাশি মানত পূরণ হলে এক জোড়া পায়রা ওড়ানোরও রীতি রয়েছে এখানে।