সতীপীঠ জ্বালামুখী

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

সতীর ৫১ পীঠের মধ্যে অন্যতম হল হিমাচলপ্রদেশের জ্বালামুখী।পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে মহাদেবের তান্ডব নৃত্য করার সময়ে শ্রী বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে খন্ড বিখন্ড হয়ে যায় সতীর দেহ এবং সতীর দেহ খন্ডগুলি যেখানে পড়ে সেখানেই তৈরি হয় এক একটি সতীপীঠ।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারেহিমাচলপ্রদেশের কাঙরা অঞ্চলে অবস্থিত এই সতীপীঠে দেবীর জিভ বা জিহবা পড়েছিল। দেবী এখানে সিদ্ধিদা বা অম্বিকা নামে পূজিতা হন। প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকে এখানে দেবী রূপে পুজো করা হয়। দেবীর ভৈরব এখানে উন্মত্ত।

হিন্দু ধর্মশাস্ত্র মতে, অগ্নি হচ্ছে স্বয়ং ঈশ্বর বা শিব। আর তাঁর জিহ্বা বা জিভ হলেন প্রকৃতি বা শক্তি। কালী, করালী, মনোজবা, সুলোহিতা, সুধূম্রবর্ণা, স্ফুলিঙ্গিনী এবং বিশ্বরূপী- এই সাতটি অগ্নির জিহ্বা। তার মধ্যে কালী হলেন অগ্নির সপ্তম জিহ্বা।

জানা যায়, , হিমাচলের জ্বালামুখী মন্দিরে এই সাতটি অগ্নিশিখারূপেই ভক্তের চোখের সামনে ধরা দেন দেবী কালী।হিমাচল প্রদেশের কাংড়ার এই মন্দির ঘিরে জিহ্বারহস্যের বিভিন্ন ঘটনা বিভিন্ন সময়ে নানা গ্রন্থের মধ্য দিয়ে উদঘাটন হয়েছে।সেই সব গ্রন্থমতে, জ্বালামুখী মন্দির একান্নটি সতীপীঠের অন্যতম। এখানেই পড়েছিল দেবী সতীর জিহ্বা। তাই দেবী এখানে অবস্থান করেন সিদ্ধিদা রূপে। তাঁর ভৈরব উন্মত্ত। জিহ্বা এখানে পড়ার কারনে ভক্তদের অগ্নিময় জিহ্বারূপেই দর্শন দেন দেবী। শতাব্দীর পর শতাব্দী সেই অগ্নিশিখা জ্বলছে। একবারের জন্যও তা নেভেনি।

অনেকে বলে থাকেন, পর্বতজাত প্রাকৃতিক গ্যাসের আগুনে রূপান্তর ওই অনির্বাণ অগ্নিশিখা। ভারত সরকার সেই রহস্যভেদের জন্য গবেষণা চালালেও ওই পাহাড়ে কোনও প্রাকৃতিক গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

জনশ্রুতি মতে, জ্বালামুখী দেবীর এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন কাংড়ার রাজা ভূমিচাঁদ।
কথিত আছে, বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে খন্ডিত হওয়ার পর সতীর জিহ্বা অগ্নিশিখারূপে এই পর্বতে অবস্থান করতে থাকে। কিন্তু, লোকচক্ষুর অগোচরে। এরপর, এক রাতে রাজাকে স্বপ্নাদেশ দেন স্বয়ং দেবীই। জানিয়ে দেন, তিনি কোথায় রয়েছেন। আর এরপরই, মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন রাজা ভূমিচাঁদ। যা আজও পূর্ণ মহিমায় উজ্জ্বল।

দেবীকে সশরীরে দর্শন করতে চাইলে অবশ্যই যেতে হবে হিমাচল প্রদেশের কাংড়ার জ্বালামুখী মন্দিরে। কালীপুজো ছাড়াও বছরের যে কোনও সময়েই সেরে নেওয়া যায় দেবীদর্শন। সারা দিন-রাত এই মন্দিরে দেবীর আরতি করা হয়। যা মনকে আশ্চর্য প্রশান্তি দেয়। প্রশান্তি দেয় ধৌলাধর পর্বতশ্রেণীর প্রেক্ষাপটও।

এম/বি